হলো না

 বিএসসি প্রথম বর্ষ।যখন মেসে উঠলাম।সেই ইন্টার এ যে মেসে ছিলাম।সেই মেসেই উঠলাম।অনেক পরিচিতি ছিল।আবার কিছু পরিচিত হলো। মোর্শেদা,খাদিজা,সাদিয়া,রুমা, এদের সাথেও পরিচয় হলো। আমি ছিলাম একটু বেতিক্রম টাইপ এর।

সুরভি, আজমেরী,অনন্যা এদেরকেও চিনলাম। অনন্যা আমার কলেজ পরিচিতি।ওকে ভালোবেসে ডাকি যাকে অনু বলে। আজমিরীকে মেরি বলে।

ওদের তিন জনেই চুটিয়ে প্রেম করে।একই রুমে থাকে।আমি থাকি পাশের রুমে।যখনই কোথাও ওরা যেতো আমাকে যাওয়ার জন্য ভালই প্রেসার দিত।ইচ্ছে হয়নাই,,,কোথাও যাওয়ার।ওরা বিএফ এর ঘুরতে গেলে,ফিরে আসলে গল্প শুনতাম।ওরা আমাকে অনেক ভালোবাসতো।এখনো বাসে 

সবার বিএফ একই এজ এর।সম্ভবত সেকেন্ড ইয়ারে খুব বলাবলি করার পর, অনুর সাথে আমি ফজদারি ঘুরতে গিয়েছিলাম।সাথে বাকিরাও ছিল।বিশেষত্ব হলো,আমি সেদিন ই কনক ভাইকে দেখতে পারব লাইব এ।যায় হোক,,,,সবাই আড্ডা দিলাম,ফুচকা খেলাম।বসে রইলাম,,,চলে আসলাম। আজমেরী বিয়ে করে নিলো।সবাই কোনো না কোনো কারণে একটু আলাদা হয়ে গেলাম।আমি তিনতলা চলে আসলাম।এখানে আসার কিছু দিন পর সাদিয়া আর খাদিজাকে চিনলাম।প্রথমে সাদিয়া কি চিনলাম।,,,,ওর মেসে থাকা দরকার।আমার রুমে বাড়িওয়ালাকে বলে ১৫ দিনের জন্য রাখলাম।তারপর সে পার্মানেন্ট আরেকটা রুমে উঠে পড়ল।সেই থেকে সাদিয়ার সাথে কন্টাক।আমার মনে আছে সাদিয়ার দুইটা বার্থডে মে বি আমি অ্যাটাইন করেছি।ওখানে আমাকে জুর করে সাজানো হয়েছিল।আমার কোনো ইচ্ছে ছিল না।প্রথম বার তখন আমি মেসেই থাকি।দ্বিতীয় বার যখন আমি হল এ থাকতাম।আমাকে আসতে বলা হলো,আমিও আসলাম। এনজয় করলাম।যখন আমি হল এ থাকতাম,সেসময় সাদিয়া খাদিজাকে এই মেসে নিয়ে আসছে।ওদের গলায় গলায় ভাব।

কি নিয়ে জানি খাদিজা সাদিয়ার সাথে কথা বলে না।আমার স্পষ্ট মনে আছে,একদিন সাদিয়া আমার কাছে গেলো হলে।আমি নিচে এসে রিডিং রুমে বসে ওর কথা শুনলাম।সাদিয়া সেদিন অনেক কিছুই বলেছে আমাকে,,,কান্না করেছে আমার সামনে।এইটা বলে যে আমার সাথে কথা বলে তার হালকা লাগছে।আমিও তাকে সান্তনা দিয়েছিলাম।আমি ওকে রুমে নিয়ে যেতে পারি নাই।কারণ,,,নিয়ম ছিল না রুমে ফ্রেন্ড বা পরিচিত কাউকে নেওয়ার।নিচে থেকে কথা বলে বিদায় দিতে হতো। মোর্শেদা ছিল সেরকম এক পরিচিত আমার।কক্সবাজার থেকে ইন্টার পাস করে এসে,এখানে ইকোনমিক্স এ ভর্তি হই ও।ওর বড় ভাই ওকে দেখাশুনা করে।ওর বাবা মা আমার বাবা মার মতোই।আমি ওর মাঝে,নিজেকে কিছুটা খুঁজে পেতাম। ওউ কোথাও ঘুরতে যেত না।আজেবাজে কোনো কিছুই পছন্দ করতো না।প্রেম ছিল না ,আমার মতই।তবে ফোন এ ভালই এডিক্টেড ছিল।নামাজ পড়ত আর একটু সেনসেন টাইপ এর তো,,,,খুঁতখুঁতে আর কি।যায় হোক,,,

ও আর আমি দুইজনেই মেসে ছেড়ে দিয়ে হলে উঠেছিলাম।একই রুমে তাও আবার।ওখানে গিয়ে দেখি মোর্শেদা তার ভাস্তিকে (অর্পা)ও ওই রুমেই তুলেছে। অর্পা আবার ওর ভালো বান্ধবী রুমিকে তুলছে।এখন অর্পা আর রুমি ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে পরে।আর আমিই একটু পড়াশুনা করি। পুরু হল জানাজানি হয়ে গেছে,আমি নাকি সেই পরি। দুর্ভাগ্য বসত,আমার মাস্টার্স বইটি হারাইলাম ওখান থেকেই।

বই টানাটানি করলো অনেকেই,,,

আমাদের ইউনিটের সিনিয়র রাও গিয়ে পড়াশুনা নিয়ে কথা বলে।আমি হাসি,,,এইদিকে আমার রুমে কি হচ্ছে,মানসিক অত্যাচার আর নিতে পারছিলাম না।দুইটাই সারারাত প্রেম করে,আমি তো পড়তে পারি না।মোর্শেদা তো নিজেই জানে না কি করবে।ফোন আবদ্ধ.....

যায় হোক,,,,, সব মিলিয়ে কত শত বার আমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইছে।আমি যায়নাই,,,

একদিন শীতের সকালে ঘুরতে যাবে।আমি যায়না বলে,প্ল্যান অনেক দিন পিচাইলো।শেষমেষ একদিন যেতেই হলো।বুরকা পরে যাব ঠিক করলাম।কনকনে ঠাণ্ডা,,,ভোর পাঁচটা বাইরে বেড়িয়ে নাচানাচি,কেউ রাস্তায় নাই।আর তার আগের দিন ছিল আমার সেকেন্ড ইয়ার ফাইনাল এক্সাম এর শেষ দিন।আমার তার আগেই শেষ।অর্পা আর রুমির ছিল। অর্পার বিএফ ময়মনসিংহ থেকে এক ব্যাগ গিফট পাঠাইছে।আমাকে পিক করতে এত রিকোয়েস্ট করছে,না করতে পারি নাই।আমাকে করতে হতো পিক,কারণ বাকিরা এক্সাম হলে থাকত।উপায় ছিল না বলে,আমিও রাজী হলাম।আমি ওই বেগ নিয়ে আসতে পারি না।রাতে আমাকে এক এক করে দেখাইলো,,,এত গুলো ফুল।এক বক্স চুরি।(ফেরিওয়ালা রে বিক্রি করে বক্সে নিয়ে,ওই রকম)।একই ভাবে ১২ টা মেহেদী ,এক বক্স চকলেট।

আর লিখতে পারলাম না,,,অনেক অনেক কিছু পাঠিয়েছিল।বিএফ এর কাজ সেদিন দেখেছিলাম।

পরের দিন তো ঘুরতে গেলাম ফজদারী।সাথে ঐ ফুল গুলো,সেই ফুল হাতেই কিছু পিক উঠলাম।অর্পা তুলে দিলো।আমার আসার সময় হল এর সামনে আবার নাচলাম।তখনও একটা মানুষ নাই রাস্তায়।

যায় হোক,ওটাই ছিল বেস্ট একটা দিন।দিনটা  মে বি পহেলা ফাল্গুন ছিল।আমার জীবনে ওটাই ছিল প্রথম আর শেষ এনজয় এর ডে।

কত কাশ ফুলের সেশন আসলো গেলো,আমার ইচ্ছে হয়নাই।বান্ধবীদের ,রুমমেট দের অনেক অফার পেয়েছি।যাওয়ার ইচ্ছে কখনোই হয়নাই।

মনে আছে কোচিং এ ক্লাস নেই।সেখান থেকে ফিজদারি যাওয়া হয়েছিল।বৃষ্টি ছিল,আকাশে রংধনু উঠেছিল।সিফাত,আমার ফ্রেন্ড আমাকে ছবি তুলে দিয়েছিল।স্যারদের সাথে ঘুরলাম,ফিরে আসলাম।আমার ওই কোচিং থেকেই বাধ্য হয়ে পিকনিক এ গিয়েছিলাম।মরতে মরতে বেচেঁ আসছি,,,,

আমার মনে আছে আশেক মাহমুদ কলেজ মাঠ টা আমার হলিমিশন এ পোড়ানোর সুবাদে ঘুরতে হয়েছে।আমি ওই মাঠে বসা না আড্ডার সুযোগ হয়নাই।আমার থার্ড ইয়ারে আসার পর সিনিয়রদের সাথে প্রথম বার আমি পুকুরবারে বসেছিলাম। পুকুর পাড়ের পানিতে পা ভেজানো হয়েছিল,,,,হোলিমিশন স্কুলের বাচ্চাদের কাছে ফুটবল পৌঁছাতে  গিয়ে।ফুচকা অনেক খেয়েছি,,,তবে কখনোই সেটা প্রী প্লানিং বা সক করে না।

একদিন আমি সকাল কে ফাঁসিয়ে দিলাম।আমার ভাগ্নির ছিল বিয়ে, বর পছন্দ হয়নি বলে বিয়ে থেকে চলে আসলাম।রাস্তায় কান্না করতে করতে জেপি আসি।পাঁচ টাকা খুচরা নেই।পাশেই দেখি সকাল দাঁড়িয়ে চার রাস্তায়।ওকে বলে ভাড়া দিলাম।ও বললো,কি হইছে তোর,আমার চেহারা দেখে কেমনে বুঝছে জানি না।বললো, চল ফুচকা খাই।বসলাম,,,সেদিন ওর সাথে কিছু খারাপ লাগা share করেছিলাম।

এই রকম করেই,একটা ভাইকে কিছু কাগজ পত্র দিতে হবে।আমি একা কেমনে যায় সেই শেরপুর।আমি তাই,আমার কিছু ফ্রেন্ড,যাদের কে বিশ্বাস করি,আরিফ,মামুন আর কে ছিল মনে নেই।ওদের নিয়ে গেলাম,সেখানে।কাজ শেষ করেই দৌড়।ফুচকা বা আড্ডা হয়েছিল কিনা ,ঠিক মনে নেই।

প্রয়োজন আমাকে টানছে।অন্য কিছুই না।থার্ড ইয়ারে তো ইচ্ছে করে বাস খেয়েছি।জানি আমি জার্নি করতে পারি না। শায়লা আছে বলে গেলাম ঘুরতে।আমি মনে হয়,ওখানে ইয়াতীমের থেকেও অধম ছিলাম।শেষমেষ কান্নাও করতে হয়েছিল।কানে ধরেছি,,,,জীবনে আর কোথাও যাবো না।যেখানে নিজের কেউ থাকবে না।

কত মেলা,হয়।মনে আছে লাস্ট ইয়ারে মাহমুদ কে ইচ্ছে করেই বললাম নিয়ে যাবি একটু ঘুরতে।বললো,বের হয়।গেলাম,,,, চক্কর দিলাম।আরিফ দের দেখলাম।আর ও নাকি থাকি,,,,কি না কি ভেবে বসে।😂😂


তবে কোনো দুঃখ হয়না।এখন মনে হয়,,,,যে সময় ইচ্ছে করে করি না ঘুরাফেরা।এখন ইচ্ছে হলেও করা যাবে না।সময়,,,,,অনেক অনেক কিছু কেড়ে নেয়।


Comments

Popular Posts