যাত্রা

 সাল ২০২২।আমি তখন হল এ থাকি।সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ চলছে আমার। ডাক বিভাগে একটা এপ্লাই করেছিলাম।আমার ঠিক মনে নেই পোস্ট টা কি ছিল।ইন্টার পাশেই এপ্লাই করা যেতো।ওইটা ছিল,আমার প্রথম জব এপ্লাই।এক্সাম ডেট দিয়ে দিলো। কেন্দ্র দিয়েছে ডাকা ইডেন কলেজে।আমি একবার ভাবলাম,,,ঢাকার রাস্তা ঘাট কিছুই চিনি না।কিভাবে যাবো!আমার রুমমেট রোমি বললো,আমার বান্ধবী থাকে ইডেন কলেজে পড়ে। ও হোস্টেলে ই থাকে।তোর অসুবিধা হবে না।আমি বলে দিচ্ছি ওকে, ও সর্বোচ্চ হেল্প করবে। ওর বান্ধবীর নামটাও রুমি সম্ভবত।দুঃখিত আমার মনে নেই সেভাবে।একবারের পরিচয়ে আমার অনেক কিছুই মনে থাকে না।যায় হোক,,,,দুপুর ১২ টাই এক্সাম ছিল।আমি জামালপুর রেলওয়ে থেকে সকাল পাঁচ টা সময় ট্রেইন ধরলাম।অনেক শীত,ঠান্ডা পরিবেশ।আমি একাই,,,কেউ যাবে না এখান থেকে।আমি বেড়িয়ে পড়লাম,,,,চারটা বিশ এ।পাঁচ রাস্তায় গিয়ে ওটো পেলাম।দেখলাম,,,,গাড়ি ভাড়া অনেক চাই।একশত....

আমি একা যে রিকশায় উঠবো,ভয় ও পেতে লাগলাম।ধিধান্বিত থাকতে থাকতে,একটা ছেলে আসলো।উনি আমাকে বললেন, চলেন যায় এক সাথে গাড়িতে।আমি কিছু ভাবলাম না।বললাম,,,গাড়িতে তো আমি একা না।

টিকিট পাইনাই,,,,

দাড়িয়ে যাওয়া লাগবে। ময়মনসিংহ পর্যন্ত বসে যেতে পারলেও,,,পরে আর হয়নাই।দাঁড়িয়ে যাচ্ছি,,,, পা লেগে গেছে। কোমর  চিনচিন করছে ব্যথায়।হাত পা শেষমেষ কাপতেছে।যায় হোক,ফাইনালি কমলাপুর গিয়ে নামলাম।আমাকে ভাই বলে দিয়েছে,,,কমলাপুর নেমে,সবাই যেইদিকে যাবে,তুই ও তাই যাবি।কারণ আমি কমলাপুর রেলওয়ের এক্সিস্ট ওয়ে জানি না।তাই ঐভাবে বলে দিয়েছে।তবে আমি যে একা,এইটা যেনো কাউকে বুজতে পারে বা কাউকে  না বলি।আমিও তাই করলাম।গিয়ে নামলাম,,,, বেরও হলাম।যাবো আজিম পুর,,,ওখানেই ইডেন কলেজ।আমাকে ঐ মেয়েটি কন্টাক করেই বলে দিলো।সেউ বলল,তুমি রিকশাওয়ালাকে কোনোভাবেই বুঝতে দিবে না তুমি চিনো না ।বা তুমি এই শহরে নতুন।আমি রিকশাকে বললাম,,,মামা যাবেন আজিমপুর।বললো একশত টাকা লাগবে।আমি বললাম,,,ঠিক আছে চলেন।উনি যেতেই আছে যেতেই আছে।আমার যে আত্তা কাপাকাপি শুরু করলো।যায় হোক,,,,শেষমেষ পৌঁছে গেলাম।যেতে যেতে অনেক স্টুডেন্ট তখন পৌঁছে গেছে ওখানে।অনেক ভিড়,,,,এক্সাম শুরু হতে আরো দের ঘণ্টা বাকি।আমি কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে।রুমি আসলো,,কিন্তু আমাকে ভিতরে যেতে দিচ্ছে না।ইভেন কোনো গার্ডিয়ান কেউ না।পরে রুমি রিকোয়েস্ট করে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন।ওর রুমেই গিয়ে বাকি সময় অপেক্ষা করলাম।হালকা খাবার দিল সে। অর রুমটা এত ছুটো,,,,,ওখানে ছয় জন গাদাগাদি করে থাকে।কি অগুছালো সব,,,মেয়ে।সবাই সিনিয়র।ওই রুমেই রুমি জুনিয়র।আমাকে সবাই,,,,সেভাবে কিছু বলল না।তবে উইশ করলো,,,রুমি ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এর। ও এক্সাম দিচ্ছে না সেটা।আমাকে এক্সাম এর ৩০ মিনিট আগে এক্সাম হলের গেট এ সে পৌঁছে দিল।বললো,এক্সাম দিয়ে যেনো তার কাছে যায় আমি।আমিও গেলাম,,,,

এক্সাম দিলাম,,,গিয়ে দেখি রিটেন বেসিস এক্সাম। মন খারাপ,,,আমি সেভাবে লিখিও নাই।এক্সাম দিয়ে বের হয়ে ওর সাথে দেখা করে চলে আসলাম। ও খাওয়াই দিয়েছিল।আসার সময় কমিউটার পেয়েছিলাম। সিট পেলাম না,,,,দাঁড়িয়ে আসলাম ময়মনসিংহ অব্দি। তারপর একটা সিট পেলাম।বাকি পথ একটু রিলাক্স এ আসলাম।

তারপর ২০২৩ সালে ১৮ তম নিবন্ধন দিবো।সিট পড়েছে জামালপুরে ই।তবে মুটামুটি আমার মেস থেকে দূরেই।বেগ নিয়েছি,,,,কাউকে সাথে নেই নাই।কে যাবে সাথে,,,সেরকম কেউ না।ফোন টাও নিয়েছি। ওখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ।এক্সাম শুরু হবে দশটায়।আমি পড়লাম বিপদে,,,আমাকে ফোন বেগ নিয়ে ভিতরে যেতেই দিচ্ছে না।এক পুলিশ বললো,,,,মসজিদে রেখে আসেন।আমি বললাম,না। আমি দাড়িয়ে আছি গেট এ।ঘুরাঘুরি করছি,,,কাকে বিশ্বাস করবো!

দেখলাম একটু দূরে,,,,গাছের নিচে একটা ছেলে।দেখতে শুনতে ভালই, ভদ্র ও মনে হলো।কাছে যেতেই ছেলেটি আমার থেকে রিকোয়েস্ট এর আবেদন শুনার আগেই বলে উঠলো,,আমাকে বেগ নিশ্চিন্তে দিয়ে যান আপু।আমার বাসা শেরপুর।আসলে ছেলে সব দেখতেছিলো ।আমি ঘুরতেছি।আমি মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম,,,ধন্যবাদ ভাই।আমি দিয়েই চলে আসছি।গেটে পুলিশ বলতেছে,ছেলেটির ফোন নম্বর টি নিয়ে আসেন।আমি ঘুরেছি,,,,,উনার কাছে যাবো।দেখি ছেলেটি আমার দিকেই আসতেছে।একটা পেজ এ নিজের নাম আর ফোন নম্বর লিখেছে।আমাকে দিয়ে বললেন,,,যদি দরকার হয় যোগাযোগ করবেন।তবে,আমি এখানেই থাকবো।নিশ্চিন্তে এক্সাম দিন আপু আপনি।আমি হেসে হল এ গেলাম।এক্সাম দিয়ে এসে দেখলাম,,,,

ছেলেটি ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে।সাথে একটা মেয়ে।আমাকে দেখেই বললেন,আপনার জন্যই দাঁড়িয়ে।আমার পরীক্ষার্থী বেরিয়ে আসছে অনেক আগেই।বললাম,,,কে হয় ভাই?

দুইজনেই হাসলো।বললো ফ্রেন্ড।

আমিও বেগ নিয়ে চলে আসলাম।নিবন্ধন এর প্রিলি টিকলাম।

রিটেন দিতে হবে,সিট পড়ল,,,ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে। কিছুটা সস্থি, কারণ ময়মনসিংহ কিছুটা হলেও চিনি।তবে সেই পাঁচটায় ট্রেইন ধরবো।যাওয়ার সময় পাচরাস্তা তে একটা ছেলের সাথেই গেলাম।সে আসছে,,,মেলান্দহ থেকে।এখানে ফ্রেণ্ড এর বাসায় উঠেছে।আমাকে বলল,,,আপনি চাপ নিয়েন না আমি আছি আপনার সাথে।আমিও কিছু বললাম না,,,

এক সাথেই গেলাম।কেন্দ্র অব্দি আমরা এক সাথেই গেলাম।

মামা ছিল একটা ওখানে ওই কলেজেই।ইচ্ছে করেই যোগাযোগ করি নাই।ফ্রেন্ড ছিল একটা,,, বাট তখন ও জানতাম যে সে ঐখানে থাকে। অনেক দিন কথা হয়নাই আমাদের।আমার কোন বন্ধু যে কোথায় আছে,,, সেটাই আমি জানি না।যোগাযোগ নেই।

যায় হোক,,,,,আমাদের ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট এর অনেককেই দেখেছিলাম।কিন্তু কারো সাথে কথা বলি নাই।কারণ,,,,ওরা আমাকে চিনে না।আমি তাদের সাথে।সেভাবে মিশি নাই।একজনেক ফেস চিনতাম।নাম জানতাম না,,,,একই বগিতে ছিলাম আমরা।যায় হোক,,

রিটেন ফেইল করলাম।তারপর...

সম্মান ফাইনাল দিলাম ২০২৫ এ।

অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে ৪৯ তম স্পেশাল বিসিএস এপ্লাই করলাম। পরীক্ষা হবে।সিট পড়ছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন এ। নয় তারিখ রাতে সবাই আমরা হাসাহাসি করতেছি।কারণ,,, কিছুই পরি নাই।ফাইনাল এক্সাম খারাপ হইছে আমার।ফেইল আসবে একটা...সাবজেক্ট। তবু ও এক্সাম এর অনুভূতি নিতে যাওয়া আর কি। সিট পাওয়াই চেষ্টা অনেক করলাম। কারণ দাঁড়িয়ে থাকা যে কি কষ্টের জানিই তো। রিডিং রুমের একটা ভাইকে বললাম।উনি একটা টিকিট ম্যানেজ করে দিলেন যমুনার।রাত তিনটায় ছাড়বে জামালপুর থেকে। কিন্তু সিট টা আমি গফরগাঁও থেকে পাবো।ভাইয়া আবার বলে দিলেন,,, ময়মনসিংহ অব্দি সিট এমনেই পাবেন।চিন্তা নেই,,,

তাই চিন্তা নাই।আমার বান্ধবী লিমা যাবে।আমি আর লিমা বের হইলাম,,,রাত দুইটা বিশ বাজে বের হলাম।দেখলাম রিচশা আছে।৫০ টাকা নিবে।গেলাম। ছ বগিতে আমার সিট।বগি ছিল ডিসঅর্ডার।খুঁজে না পেয়ে জ তে উঠলাম। সীট ও পেলাম।ময়মনসিংহ যাওয়ার পর দাঁড়িয়ে।আমার মাথা হ্যাং,,,,ওখান থেকে আবার গেলাম। চ তে।কিন্তু যেতেও পারছি না। কিছুক্ষণ দাড়িয়ে পরের স্টেশন এ গেলাম।নেমে গিয়ে আবার উঠলাম ঝ তে,,,তারপর ভিতর দিয়েই,,,,মানুষের ভিড় ঠেলে ঠেলে গেলাম,,,,পরের বগিতে।টিটিকে বললাম,,, ছ বের করে দেন।বললো,,,এর পরের তাই।উনি তখন,,,,পৌঁছে দিলেন। সিট পেলাম,,,,একজন ছেলে উঠে পড়ল ,যে আগে বসে ছিল।কিন্তু পাশে আরেকজন ছেলে।আমি বসছি,,,,লিমাকে কি করবো।বললাম,,,ভাই একটু share করেন।পরে উনি চাপ দিয়ে বসলেন।আমরা ওই ভাবেই বসলাম।প্রথমে ছেলেটি না করলো,,,

পরে বললাম,আমি কুলে নিয়ে হলেও বসবো।তারপর জায়গা দিলেন।দুইজনের জায়গায়,,তিনজনে বসলাম।আমি পরে বললাম,,,এমন করলেন কেনো?

আপনার ফ্রেন্ড হলে ঠিকই বসাতেন।উনি হাসলেন তখন,,,,আর জায়গা ভালো মতো দিলো।লিমাকে বললাম,,,,লাগলে কিছু মনে করো না।বিষয়টি পরিস্থিতি,,,দুইজনেই হাসতে লাগলাম। টঙ্গী যাওয়ার পর ছেলেটা উঠে পড়ল,,,আর একজন মহিলাকে বসতে দিলেন ওখানে।আমি মনে মনে ভাবলাম,,,,ভালো মানুষ।প্রথমে নিজের অসুবিধার জন্য বসতে দিতে চাইলেন না।এখন আরেকজনকে দিয়েই দিলেন।সামনে আবার উনার এক বন্ধু আছে,,,আমাদের সিট এর ওপজিতে।ওখানেই দুইজন ছেলে ছিল।ওখানে গিয়ে তিনজনে বসে পড়লেন। আমরা আসলাম,,,, এরিপোর্ট স্টেশন এ নেমে গেলাম।দেখলাম,,,ছেলে দুইটিও নামলেন।আমাদের বললেন,,,আমাদের সাথে আসেন।আমরাও গেলাম।চিনি না তো,,,,ওভার ব্রিজ পার হলাম ওদের সাথেই।উনারা না থাকলে,,,,মে বি কঠিন হয়ে যেতো।কোন দিকে যাইতাম।আমি লিমা হাসতেছি,,,,দুইজনেই।পরে লিমা বাস ধরলো,,,আমি বাসে থাকতে পারি না বলে,,,সিএনজি নিলাম।আমি যে সিএনজি তে উঠলাম,,,ওখানে আরো দুইজন।একটা মেয়ে আর তার বাবা।আমি সাহস পেলাম,,,,কিন্তু আমার কেন্দ্র থেকে ওর কেন্দ্র আগে বাজে। মানে ওরা নেমে গেলে,আমি একা।আমার এইটা ভেবেই আত্তা মাত্তা কাপতে শুরু করলো।আমি তো কেন্দ্র ও চিনি না।ওরা নেমে গেলে,আমি বললাম,মামা সিএনজি এর এক পাস শুধু লাগিয়ে দেন।বাকিটা খুলা থাকবে।আমি হাত দিয়ে ধরে থাকবো,,,সমস্যা হবে না।লোকটাকে দেখতেও আমার ভয় লাগতেছিল।উনি বললেন চাপ নিয়েন না।সমস্যা হবে না।তারপর লাগিয়েই দিলেন।আমার আরো ভয় লাগলো।এক মিনিট পরে সেনাবাহিনীর কয়েকটা লোক দাঁড়িয়ে।ওদের ওখানে সিএনজি দাড়াতেই ,উনাদের মধ্যে একজন বললেন আদর্শ বিদ্যালয় যাবেন নাকি?

আমি বললাম,,,,জ্বী। বলেলন এই যে সামনেই।এক মিনিট ও লাগবে না।আমার কলিজায় পানি আসলো তখন।আসলে মনে মনে ওখান থেকে আমি এক সেনার নম্বর নিতে চাইছিলাম।যদি আরো দূরে হতো কেন্দ্র,,,আমি তাই করতাম।নম্বর নিতাম,,,,

ফাইনালি পৌঁছে গেলাম।এক্সাম শেষ আর বৃষ্টি।বেরিয়ে আসলাম।ট্রেইন ধরার তারা আছে,,,,অপেক্ষার সুযোগ নেই।ভিজে ভিজে লাইন এ দাঁড়িয়ে দুকান থেকে মোবাইল নিলাম।হায়রে ভির,,,মোবাইল নিতেই বেশি কষ্ট হইলো। হেটে হেটে ওই যে মোর,যেখানে কথা বললাম বাহিনীর সাথে।সেখানে আসলাম।সিএনজি নিতে চাইছিলাম,,,,আসার সময় তিন শত টাকা নিয়েছে।বিস মিনিটের পথ।এখনো তিনশত টাকা দিবো,,,,হয় নাকি?

তখন আমি জানতাম না,রাস্তা চিনতাম না।

যায় হোক,,,,ওখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।এয়ারপোর্ট কিভাবে যাবো? একজন বললেন,,,,প্রজাপতি বাস আসবে। বাসে জান,,,অন্য কোনো গাড়িতে গেলে ভাড়া বেশি লাগবে।আমিও রাস্তায় দাড়ালাম।বৃষ্টি হচ্ছে,,,টিপটিপ। গাড়ি আসলো,,,উঠে পড়লাম।যেখানে হেলপার দাঁড়ায়,ওখানেই একটু উপরে দাড়ালাম। সিট দিতে চাইলে,বললাম।আমি দাড়িয়ে যেতে চাই।বসলে বমি আসবে।মাস্ক আমি আরো টাইড করে লাগালাম,,,যেনো গন্ধ না যায়।দাঁড়িয়ে আসায়,সেরকম সমস্যা হয়নাই। বাসে আসতে ১৫ মিনিট লাগছে।২০ টাকা ভাড়া নিলেন।আমি হাসতে হাসতে শেষ,,,,

স্টেশন এ আমার বান্ধবী আগেই পৌঁছে গেছে। ও কিছু খেয়েছে।আমার ও খুদা লাগছে।দুইটা সিঙ্গাড়া কিনে খেয়ে নিলাম।বসে আছি,,,সেই দুই ভাই।উনারা ময়মনসিং,,,,থাকে।মোহনগঞ্জ ট্রেইন দিয়ে চলে যাবে।আমরা কমিউটার এর অপেক্ষা করছি দেখে আমাদের বললেন,,,মাত্র একটা বাজে।সেই চারটা অব্দি অপেক্ষা করবেন।তার থেকে এইটা দিয়ে যান,,, ওখান থেকে সিএনজি এ চলে যাবেন।আমরা তাই করলাম।ভাই দুইটা আর নাই,,, কোথায় চলে গেলেন।জানি না।আমরা উঠলাম।কোনো সিট নাই,,দাঁড়িয়ে আছি।আমি চেয়ার ধরে।দাঁড়িয়ে আছি তো কি,,,,ঘুম যে ধরছে। আহ,,,,

এইটা খাই,ওইটা খাই।কোনো কাজে দিচ্ছে না।এক্সাম হলে দুইঘন্টা ঘুমের সাথে যুদ্ধ করছি আর এক্সাম দিয়েছি।মেজাজ টা খুব খারাপ ছিল। পানি খাইলাম কতবার,,,ঘুম ছাড়াতে পারি নাই।তারপর ট্রেইন এ,,,

দাড়িয়ে থাকতে থাকতে একজন বসতে দিলো।৩০ মিনিটে বসে ছিলাম।তারপর উনাকে সিট এ বসতে বললাম।আমি দাড়িয়েই,,,,তখন কিছু খাচ্ছি না আমি।আমার পিছনে একটা ছেলে,তারপর পাশে একটা মেয়ে।আমি ধুম করে পরে যাওয়া নিলাম।তাল সামলিয়ে আবার দাড়ালাম,,,,এইভাবে দুইবার পড়তে শুরু করছিলাম

পড়ি নাই কিন্তু।যখন ট্রেইন থেকে নামলাম। পিছনে যে ছেলেটা ছিল।উনি আমাকে বললেন,আপু এই দিক দিয়ে আসেন।আমি বললাম,,,আপনার বাসা কোথায়?

জানতে পারলাম,সে মেলান্দহ থাকে।তবে ময়মনসিংহ পড়াশুনা করছে।আমরা বললাম,,,আমরাও ওখানেই থাকি।উনি বললেন,,,,গাড়িতেই শুনলাম।একটা আপুকে বললেন,,,,যিনি আপনাকে চিনে বলে দাবি করলেন।আসলে গাড়িতে উঠার পরই একটা আপু আমাকে বলতেছে আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি।আমি বললাম,,, সরি আপু।আমি আপনাকে চিনি না।লিমা আবার ওই আপুর পাশেই ছিল।লিমা  আমাদের মেসের রুনা আপুকে কল দিয়েছে।ওখান থেকে আপু ক্লিয়ার হয় যে আমি রুনার মেসে থাকি।তখন বলতেছে,এই মেয়ে আমি চিনি তুমাকে।তুমি হালিমা,,,জামালপুর থাকো।রুনার মেসে।আমি রুনার বান্ধবী।আমি তো তুমার সাথে হাসাহাসি করলাম।আমাকে চিনো না!

আমি একটু সরম পাইলাম।হায়রে,,,,আমি মানুষ কেনো মনে রাখতে পারি না।পরে মনে হলো সব,,,,

ওখান থেকেই ছেলেটি বুঝতে পারে।আমরা এই দিকের। তারপর আমাদেরকে টাউনহল এ নামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।আমরা সিএনজিতে উঠলাম।গাড়িতে বসে,মনে হলো।বসে থাকা হলো দুনিয়ায় সবচেয়ে শান্তির।

হাহাহা...গাড়িতে উঠে বসছি এক পাশে।কতবার যে ঘুমে চটকানা খাইছি।হিসেব নাই।শেষমেষ লিমাকে বললাম,,আমাকে ধর।পড়লে কিন্তু শেষ,,, ময়মনসিংহ স্টেশন থেকে যে টাউনহল গেছি,,,, সেখানে ও ঘুমে যুদ্ধ করছি।পরে শেষমেষ মাঝে গিয়ে বসলাম।ওই ছেলেটি তখন বলল,আপনি ঘুমে যে অবস্থা ।এখানে বান্ধবি থাকলে,থেকে যান।কালকে যাবেন।আগে ঘুমিয়ে নিন।ট্রেইন এ দুই বার পরে যেতে ধরছিলেন।আমি তখন বুঝলাম,,,,এই ছেলেটি বুঝতে পারছে। আমি তো ভেবেছিলাম,,,কেউ দেখে নাই।হাহাহ

সিএনজি তে শেষমেষ বমি আসতে লাগলো।মাথা ঘুরছে।পুরু কপতেছি আমি ঠাণ্ডায়,,,,

দাড়িয়ে থাকার ইফেক্ট তখনও আছে।মনে হচ্ছে কিডনি দুইটা নষ্ট হয়ে গেছে।











Comments

Popular Posts