চরিত্র

আরে তুমার ফোন রাত 1 বাজে তখনও ওয়েটিং কেন?তুমার চরিত্র সম্পর্কে আজকেই বুজলাম।তুমি আসলেই ভালো মেয়ে না!তুমার বয়ফ্রেন্ড আছে,বললেই হতো।
আমি তখন আমার মোবাইল এর স্ক্রীন share করছি,আমার এক সিনিয়র শিক্ষক এর সাথে।কারণ আমি অনলাইন এ ফ্রিল্যান্সিং শিখতেছি।আমাদের ক্লাস হয় রুটিন মতোই।কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু না বুজলে,আমার মেন্টর কে আমি বিষয়টা বলে সলভ করে নেওয়ার চেষ্টা করি।তিনি screenshare এ এসে সব কিছু সুন্দর মত বুজিয়ে দেন।আমার কোনো অ্যাফেয়ার নেই।দেখতে শুনতে ভালো না বলেই,কোনো ছেলে আমায় জ্বালায় নাই।আমিও কারোর প্রেমে পড়ি নাই।কথাই আছে না,অনেকে নিজের ওজন বুজে পথ চলতে পারে।তো আমি যাই হয়না কেন? আমি খুব ভালো করেই জানি কোথায় আমার যেতে হবে,থামতে হবেই বা কোথায়।তাই প্রেমে পড়লেও বলা হয়ে উঠেনি ওই ভাবে।
আজকে আমি সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।সম্মান প্রথম বর্ষে একটা ছেলের হাসিতে ফেঁসে যাই।খুঁজ নিয়া দেখলাম।তার অ্যাফেয়ার আছে।কি আর করার।খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।তাহাজ্জুদ নামাজ কান্না করে শুধু বলতাম,ভুলতে চাই।ভুলিয়ে দিন আল্লাহ।যা আমার জন্য তৈরি হয়নাই, সেটা কেন আমার মনে আসবে।
প্রেমে পড়ার উপর কোনো হাত না থাকলেও,নিজেকে ম্যানেজ করার মতো বুধবুদ্ধি আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন।
আর আমিও একজন মানুষ।তাই নিজেকে গুছিয়ে রেখেছি।দুঃখ নেই কেউ পাশে নেই বলে,দুঃখ হয় তখনই যখন কেউ আমার বিষয়ে জানেই না, তবুও উল্টাপাল্টা বলে ফেলে আমায়।
আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।পরিবারের মধ্যে আমিই একমাত্র পড়াশুনা করছি।বাকিরা প্রতিষ্ঠিত।।বাকি ভাই বোনরা হেল্প করেন আমায়।সবার ছোট বলেই সবাই ভালোবাসে আমায়।
নিজেকে চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠিত করার।তাই পড়াশুনা করছি একটু।অনলাইন ক্লাস এ ভর্তি হয়েছিলাম গত বছর।এই ইয়ার এ হয় নাই ভর্তি।কারণ আমার ইকোনমিক কন্ডিশন খুবই বাজে অবস্থা পেছাচ্ছে।
বাবা বৃদ্ধ,মা কি বা করবেন। আমার 2 ভাই বিজিবিতে জব করেন।তাদের রোজগারের টাকা দিয়েই আমার পড়াশুনা ও পরিবারের খরচ চলে।তারউপর আমি আবার অসুস্থ।প্রতিমাসে আমাকে 1 হাজার TK ওষুধ খেতে হয়। আর অসুস্থতা বেশি হলেতো কোথায় না। ডাক্তারের কাছে যেতেই হয়।গত ফেব্রুয়ারিতে আমি আমার ব্রেষ্ট এর ট্রিটমেন্ট করতে চেয়েছিলাম।শুধু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেই আমার 8 হাজার TK চলে গেছে। সার্জারি করতে বলেছেন,খরচ সব মিলিয়ে 80 হাজার যাবে।আমি জানি আমার ফ্যামিলির আর্নিং সোর্স।তাই বাবাকে বলেছি,এখন দরকার নেই।পড়ে করবো।এই সমস্যাটা আমার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার থেকেই।আমি তখন থেকেই বুঝতে শিখেছি,অর্থ কি? এইটার অভাব অনেক কিছু বুজিয়ে দেয়।যায় হোক,,,,আমি আমার অসুস্থতার দিকে যাচ্ছি না,,
একটা ছেলে ব্র্যাক ব্যাংক এ জব করে।রহিম তার নাম।
তিনি অনেক ভদ্র একটা মানুষ।উনার কথা শুনে কেউ গরু কোরবানি দিয়েও যদি বলে,ইনি ভালো না।কেউ বিশ্বাস করবে না।কারণ এত স্মার্টনেস,এত সুন্দর ভয়েস।অবিশ্বাস। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে পড়াশুনা শেষ করেছেন।উনার বাসা বরিশাল, ভোলা।
আমার ক্লাস করার জন্য একটা  এফবি আইডি ছিল,ওখানে রিকোয়েস্ট দিয়েছেন।এই আইডিতে আমার কোনো পরিচিত নেই।সদস্য ছিল সম্ভাব্য ৫ জন। তো উনার ফেসবুক ইনফো দেখে,মনে হলো অ্যাকসেপ্ট করি।তাই করেছি। হুট করেই দেখি রাত 12টাই কল দিচ্ছেন।আমি কেটে দেই কল।পরের দিন এসএমএস।
আমি কোনো রেসপন্স করি না।একদিন বলতেছে,এসএমএস দিলে রিপ্লাই দেওয়াটাও ভদ্রতা।আমি একটু থেমে গেলাম।পড়ে রিপ্লাই দিলাম।
পরিচয় হলো সেদিন।তিনি ইংলিশ এ পড়াশুনা শেষ করে,ব্র্যাক ব্যাংক এ জব করছেন।আমাকে জিজ্ঞেস করায় ,আমিও বললাম,গণিত এ পড়তেছি আমি।উনি বললেন,আমি আপনাকে ইংলিশ প্রবলেম সলভ করে দিবো,আপনি আমাকে গণিত সলভ করে দিবেন।আমি ভাবলাম জব পেয়েছেন উনি, উনার তো কোনো অভাব নেই।আমার মত একটা দুর্বল স্টুডেন্ট এর থেকে math শিখবেন উনি! মনে মনে হাসলাম।
কিছুদিন পর আমায় রাত সাড়ে 11 টায় কল দিয়েছেন।
আমি রিসিভ করি।কথা হচ্ছে,,,কথাগুলো মানুষ তার গার্লফ্রেন্ড কেউ বলতে ভয় পাবে।উনি সেগুলো অনায়াসে বলে ফেলছেন।আমি কি পড়েছি....উনার ভাষা গলো লিখতেই আমার খারাপ লাগছে।উনি কিন্তু আমায় ভালোবাসেন না।বা সম্পর্ক করতেও চান না।উনার শুধু রাতের বেলায় যে কুকুরটা জন্ম হয় নিজের মাঝে,সেটার খাদ্য যোগান দিতে,এই কাজ করেন।মেয়েদের রাতে কল দিয়ে মনের কথা গুলো কোনো রকম ট্রান্সফার করেন।
উনাকে আমি বলেছিলাম,আপনি তো প্রতিষ্ঠিত।
চাইলে বিয়া করে ফেলেন।এই সব পাপ করতে যান কেনো?
উনি কিন্তু 5 ওয়াকত নামাজ পড়েন।কোনো মিস নাই।
উনার মাঝে কোনো অভাব নেই।যোগ্যতা,শিক্ষা,ফ্যামিলি স্ট্যাটাস,সব আছে উনার।নেই শুধু মাজ রাতে নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা।
আমি আজকে ফোনে কথা বলছিলাম,মেন্টর আমাকে অনেক কিছু দেখিয়ে দিচ্ছিলেন।কীভাবে মার্কেটিং সেক্টর এ কমিউনিকেট করা যায়।ব্র্যান্ডিং করতে কি কি স্কিল লাগবে,,অনেক ইনফো তিনি আমায় বলছিলেন।কথা হচ্ছে তো হচ্ছেই।রাত দেড়টা।এতক্ষণ আমাকে উনি(ভদ্রলোক) কল এর উপর কাল!
আমাকে ওয়েটিং এ পেয়েছেন আর কোনো কথা!
উনি আমাকে কথা না শুনিয়ে ঘুম আসবেন না।
আমি কথা শেষ করে,উনার এসএমএস গুলা সিন করলাম।দেখলাম উনি লিখেছেন,
আল্লাহ আমায় বাঁচিয়েছে?
আমি এসএমএস এর রিপ্লাই দেওয়াতে উনি উত্তর দিয়েছেন এই যে,আমি মানুষের বাচ্চা!
আমি আর কিছু বলিনি। শুধু বলেছি সবাইকে এক ভাববেন না।আমি আমার কাজে ব্যাস্ত ছিলাম।
এখানে,আমার কথা হলো,আমি তো তার কেউ না। তাও তিনি আমার ফোনে কথা বলা নিয়া এত কনসার্ন কেন?
আমি উনার ওয়াইফ বা gf হওয়ার চেষ্টা করতেছিলাম নাকি।যে তিনি বেছে গেলেন। আই মিন আল্লাহ বাঁচাইছে।
উনি মানুষের বাচ্চা🤣🤣।
কথাটা শুনে আমি 10মিনিট হেসেছি।কারণ উনি যদি মানুষের বাচ্চা হন,দুনিয়াতে আর মানুষের যোগ্যতা প্রকাশ করার জন্য অন্য কোনো আইডেন্টিটি লাগবে না মানুষের।
আমি বলবো,উনি শিক্ষিত হয়েছেন ঠিকই,উনার চরিত্র ঠিক নেই।
উনি একজন মানুষ ঠিক আছে,কিন্তু উনার মাঝে পশুত্বের ছায়া আমি দেখেছি।
উনি এই দুনিয়ায় কাউকে ভালোবাসতে পারবে না,কারণ তিনি মেয়েদের অনেক কিছুই অপছন্দ করেন।হয়তো girlfriend ছেকা দিয়ে গেছে তাই এমন করেন।কিন্তু তিনি অন্য মেয়েদের ক্ষতি করতে 2বার ও ভাবছে না।
এটা মনুষ্যত্বের পজিটিভ সাক্ষী হতে পারে না।
আসুন,কেউ কোনো কাজে busy, তার মানে এইনা তিনি আপনার থিংকিং পয়েন্ট এর শূন্যস্থান পূরণ করছে।
পরবর্তী লেখা পড়ার জন্য অনুরুধ রইলো।
আল্লাহ হাফেজ

Comments

Popular Posts