Struggle part 2
গরম পানি খেলে একটু আরাম পেতাম।
গরম পানি আমার সবসময় রুমে রেখে দিতাম।2 টা ফ্লাস্ক কিনলাম।একটা হিটার।যদি রান্না ঘিরে সিরিয়াল না পাই,এই জন্য হিটার দিয়ে পানি গরম করে খাই।
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে থাকে।চা খেলে আরাম বুধ
করি।চিনি ছাড়া চা খেতে পারিনা বলে,চিনি দিয়ে চা খাই।কিন্তু চিনি খাওয়া আমার কাছে ঠান্ডার লেভেলে আরো ঘি ঢালার মতো অবস্থা কাজ করে।চিনি খেলে ঠান্ডা বেড়ে যায়।কিন্তু তাও খেতে থাকি।একদিন আম্মাকে বলেই ফেললাম,আম্মা আমার ঠান্ডা কি ভালো হবে না? বলেই কান্না করে দিয়েছি।সমস্ত দুনিয়া আমার কাছে অন্ধকার মনে হতে লাগলো।আমার কি এমন হলো,,সামান্য ঠান্ডা ভালো হচ্ছে না।আম্মা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন সেদিন,আমার কান্না করা দেখে।আম্মা বললো, ডাক্তার দেখাব।তুমার বাবা কালকে জামালপুরে যাবে।তুমি ভালো কোনো ডাক্তারের সিরিয়াল নিয়া রাখো।
আমি সিরিয়াল নিয়েছি,একটু পরে আব্বা ফোন দিয়ে বলতেছে,আগে সরকারি ডাক্তার এর কাছে যাই?
আমি তো তখন ট্রিটমেন্ট এর ভালো মন্দ কিছুই বুঝিনা।
আমার জীবনে তেমন কোনো অসুস্থতা ছিলনা।খুব হাসি খুশি ,প্রাণ চঞ্চল একটা মেয়ে আমি।তাই বললাম,আচ্ছা আব্বা।সরকারি হাসপাতালে দেখি গিয়ে আগে।
আব্বু বললো,তুমিতো জামালপুরে থাকো।তুমার ওখান থেকে হসপিটাল কাছে,তাহলে তুমি সকাল ৭ টা বেজে হসপিটালে গিয়ে টিকেট কাউন্টার এ গিয়ে সবার আগে দাড়াবা।আমি বললাম,আচ্ছা আব্বা।
আমি ৭ টা সময় হসপিটাল এ গেলাম। কোথায় যে টিকেট কাউন্টার, সেটাও জানিনা।একজন রুগীকে বললাম,আংকেল টিকেট কোথায় দেয়?
উনি বললেন,হাতের ডানে গিয়ে বামে যাও,পেয়ে যাবে।
আমি গিয়ে দেখি,আমার সামনে মিনিমাম ১০০ রুগী টিকেট নেওয়ার জন্য দাড়িয়ে আছে।
আমি একটু অসহায় অনুভব করতে লাগলাম।ভাবলাম এত গুলো মানুষের পর আমাকে টিকেট নিতে হবে।
মনে মনে অনেক খারাপ লাগতে লাগলো।
আব্বা আমাকে বলেছে,তুমি ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে,আমি ১০ টার মধ্যেই হসপিটালে চলে আসবো।
আব্বা আসবে,সেই ভেবে সাহস পেলাম।
আমার পাশেই একজন প্রেগনেন্ট মহিলা।তিনি দাড়াতে পারছেন না।উনি অনেক রিকোয়েস্ট করছেন একজন নার্সকে,যে আপু আমাকে একটু আগে টিকেট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।কিন্তু নার্স কোনো রেসপন্স করলেন না।পিছনেই দেখি,একটা বাচ্চার শরীল ভর্তি পক্স বেরিয়েছে।
বাচ্চার কান্না,কেউ তাকে একটু হেল্প করছে না।বরং সবাই আগে টিকেট নিয়ে,আগে ডাক্তার দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এ যেনো এক যোদ্ধের ময়দান।
কেউ কাউকে চিনে না।সবাই আগে যেতে চাই।একজন বৃদ্ধলোক তার ওয়াইফ কে নিয়া এসেছেন।বয়সের ভারে মাটি ছুঁই ছুঁই ভদ্রলোকটি অসহায়ের মত দাড়িয়ে রয়েছেন।আমি সকাল ৮ টা পর্যন্ত রুগীদের দেখে,মাথা ঘুরতে লাগলো।টিকেট দেওয়া শুরু হবে সেই ১০ টা বাজে কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্বের টিকেট কে আমি চিনতে পেরেছি।টিকেট দেওয়া শুরু হওয়া পর্যন্ত ১০০০ লোক টিকেট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
সাড়ে ১০ টা বেজে গেছেন।টিকেট দিচ্ছেনা।কত রুগী রয়েছে,যাদের দাড়িয়ে থাকার সমস্যা ।
Follow Struggle par 3
Comments
Post a Comment