Struggle part 4

 আমি এক্সাম এর আগে কিছুই পড়তে পারছি না। শুধু ঘুম পাই।আবার যতক্ষণ জেগে থাকি,ততক্ষণই সাফার করতে হয়।আমার এমন অবস্থা,আমি হাতে কলম ধরবো নাকি রুমাল।টেবিলের 2 পাশে রুমাল,চেয়ারে ঘামচা।

আমি তখন আমার টিউমার এর কথা আবার মাথায় আসলো।মনে হলো,এইটাই হয়তো আমার সমস্যার কারণ।কিন্তু আমি বাড়িতে বলার সাহস পাচ্ছিনা।তারপর কিছুদিন পর আমার সেজু ভাই আসলেন ছুটিতে।আমাকে নিয়া গেলেন প্রাইভেট হসপিটালে। আর আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম,ডক্টর সেই সরকারি হসপিটালের,যাকে আমি গত 2 মাস আগে দেখিয়েছিলাম। ভিজিট নিলেন 1000 TK। আমার ভাইও সাথে ডক্টরের রুমে গেলেন।ডক্টর মিনিমাম 10 মিনিট আমার সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলেন।কোনো টেস্ট দিলেন না।তবে ঔষধ পত্র লিখে দিলেন।

আমি হসপিটাল থেকে বেরিয়ে বললাম,ভাই একটা বিষয় তুমাকে বলে রাখি।এই ডক্টর কিন্তু আমাকে জেনারেল হসপিটালে দেখেছেন।উনি সেখানে আমাকে শুধু একটা প্রশ্ন করেছেন। আর 1 মিনিট সময় ও দিন নাই।ভাই TK দিয়ে দুনিয়া চললে,সাধারণ মানুষের কি হবে? যারা বুক ভরা আশা নিয়া জেনারেল হসপিটালে যাই,তাদের হসপিটালে আসার যাতায়াত খরচ টাও তো বৃথা যাবে।কারণ তাদের তো ট্রিটমেন্ট করেনা। জাস্ট ফর্মালিটি পালন করেন তারা।সরকারের ডিউটিতে শুধু নিজের নামটা সাইন করেন।ভাই,একটা ডক্টর প্রাইভেট হসপিটাল গুলোর নেশায় পরে, অমানবিক হয়ে পড়ছেন।তারা টাকার পিছে ছুটছেন! দেখছো,আমাকে কত সুন্দর করে জিজ্ঞেস করলো,কতটা টাইম নিয়ে আমাকে পর্যবেক্ষণ করলেন।টাকার পাওয়ার এ তিনি এইসব করেছেন।আজকে বুজলাম, যার যত TK, তার তত ভাল ট্রিটমেন্ট।

ভাই বলল,তুমিতো অনেক বড় হয়ে গেছো।অনেক কিছুই বুঝে ফেলেছো।আমি ভাইকে বললাম,ভাই আমি সেদিন জেনারেল হসপিটালের মানুষের আর্তনাদ শুনেছি,দেখেছি।কেউ ট্রিটমেন্ট পাইনা। জাস্ট নিজেকে সান্ত্বনা দিতে,এই হসপিটালে আসে।কিছু হলে অন্তত বলতে তো পারবে যে, সে হসপিটালে গিয়েছিল।বড়ো ডাক্তার দেখেছে তাকে।কোনো রুগ ধরা পড়েনি।কেউ অসুস্থতায় মারা গেলে,আমি শুনেছি এই সবই বলে।ভাবতে লাগলাম,আমার পাশের বাসার এক কাকাই স্টুক করে মারা গেছেন কিছুদিন আগে..সরকারি হসপিটালে ছিল ৩দিন।কিছুই হয়নি।মৃত নিয়ে এসেছিল বাড়িতে।সবার মুখে একই কথা,বড়ো ডাক্তার দেখিয়েছি।আসলেই বাঁচতনা তো।ডাক্তাররা কি আর কম চেষ্টা করে! কত বিশ্বাস সাধারণ মানুষের তাদের উপর। আর তারাই কিনে নেমেছে টাকার ধান্দায়।

এই পৃথিবী হয়তো ডাক্তাররা একদিন চালাবে,কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলার হিসাব ওপরে হলেও দিতে হবে।

কথা গুলো ভাবতে ভাবতে আমি আমার মেসের সামনে চলে আসলাম।আমায় নামিয়ে দিয়ে,ভাইয়া চলে গেলেন।বললেন,ঠিকমতো ওষুধ খেয়ে নিতে।

ভাইয়াকে বিদায় দিলাম।সেই ওষুধের কিছুই কাজে দেইনি।একমাসের ওষুধ লিখেছেন,তারপর যেতে বলেছেন।গেলাম ,কিছুইনা  আগের মতই ওষুধ লিখে দেন।

একদিকে ঠান্ডা,অন্যদিকে ব্রেস্ট টিউমার, আমি একটু

ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।পড়াশুনা খুবই খারাপ হলো।ইন্টার ফাইনাল এক্সাম দিলাম। ময়মনসিং আমি UCC কোচিং এ ভর্তি হলাম।আমি হতে চেয়েছিলাম না।কারণ আমি জানি আমার অবস্থান।বিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট ছিলাম।কিন্তু মেডিক্যাল বা বিজ্ঞান বিভাগে কোচিং করার সাহস পায়নি।আমার সেজু ভাই,সে আমার মনের অবস্থা ও স্বাস্থ্য সব বুঝেছিল।তাই ভাইয়া বললো,তুমি মাবনিক এ কোচিং করো।আল্লাহ একটা পথ দেখাবেন।

আমিও রাজী হলাম।আমার সাথে থাকতো,ইনো নামে একটা মেয়ে।ও মানবিকের স্টুডেন্ট।ওকে আমি সারাদিন রাত পড়তে দেখেছি,কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি।আমার অবস্থা দেখে বাড়িওয়ালা নিজে নিয়ে গেলেন হসপিটালে।কিন্তু সেখানেও আমি কোনো প্রকার ফল পাইনাই।বাড়ির ফোন দিয়ে,কান্না করি শুধু।আমি আমার ভাইকে এমনিতেই অনেক ঠকিয়ে ফেলেছি।যা চেয়েছে আমার থেকে কিছুই দিতে পারিনি তার।তবুও আশা ছেড়ে দেননি।আমি 24 ঘণ্টা হাচি দেয়া লাগতো।একটু নিঃশ্বাস এর 19 20 হলেও আমার কষ্ট হতো।

আমার সব হিসাবের খাতা,আমি ময়মনসিং ছিলাম 6 মাস ।তারমধ্যে আমি ডক্টর দেখিয়েছি 6 বার।5 বার প্রাইভেট এ।প্রথম বার গিয়েছিলাম ময়মনসিং জেনারেল হসপিটালে।কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা।রুগীকে দেখতে হয়,তাই দেখে।রুগীর প্রতি কোনো আফাকশন কাজ করে না তাদের।

প্রাইভেট হসপিটালের রহিম নামের ডক্টর আমাকে 5 দেখেছেন।আমার ঠান্ডা ভালো তো দুর, কমাতে ও পারেনি।কোনো টেস্ট না,কিছু না। শুধু ঔষধ লিখে দেই।আমার মনে আছে,একটা ট্যাবলেট 48 TK দাম ছিল।ওইটা আমাকে 1 মাস খেতে বলেছিলেন।বলেছিলেন,এইটা অ্যান্টিবায়োটিক। আশা করি ভালো হয়ে যাবে।কিন্তু আমি শুধু শুধু খেয়েছি।কিছুই হয়নি আমার।

Comments

Popular Posts