অসহায়ত্ব 2
কলেজের প্রতিটা দিন খুবই ভালো লাগতো।যদি সাকিল কলেজ যেতো।
প্রথম প্রথম বিষয়টি নিয়ে স্বর্ণা তেমন সিরিয়াস ছিলনা।
দিন যত যেতে লাগলো,ততই যেনো ভাবনারা উদয় হতেই থাকলো।এই ভাবনার না আছে শেষ,না আছে এর পরিণতি। এ যেন এক মোহময় কল্পনা,যে কল্পনা দেখতেও ভালো লাগে।
আকাশের রং যেমন পুরু পৃথিবীর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেই,তেমনি সাকিল এর উপস্থিতিটা সর্নার জীবনের সৌন্দর্যের নিলাভূমি তৈরি করে দেয়।কিন্তু প্রেমে পড়লে মানুষ নিজেকে এই ভাবে হারিয়ে ফেলে, স্বর্ণাকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।
একদিন ঘুরতে গিয়েছি ফৌজদারি।ইউনিভার্সিটির পাশেই জায়গাটা।বিকেল হলে,সবাই ঘুরতে যায়।অনেক ছেলে পেলে,গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড,ফ্যামিলি নিয়েও অনেকে যায়।জায়গা একটু মনোরম।একটু বসার জায়গা আছে,ফাঁকা মাঠ আছে,পাশেই আবার রাস্তা আছে, লোকে লোকারণ্য।
যানবাহনের যন্ত্রনাও আছে,,,বন্ধ ঘরের আবদ্ধ পরিবেশের থেকে কিছুটা সময় এখানে কাটানো মনের জন্য ফলপ্রসূ।
ফুচকা খেলাম,একটু ফাঁকা মাঠে হাটা হাটি করে,মেসের দিকে রওনা দিলাম।
রাস্তা ক্রস করে রিক্সাওয়ালা মামার কাছে আসার দায়িত্ব স্বর্ণার।দেখি ও রাস্তার মাঝে গিয়ে দাড়িয়ে গেছে..
একটা বাইক ব্রেক করে পরেই গেলো,,, সর্নাকে ধরে আমরা সবাই এক পাশে নিয়ে আসলাম।ওখানের সবাই শুধু এক কথা,এই মেয়ে বোকার মত মাঝ খানে এসে দাড়িয়ে গেলো কেনো?
বাইক ওয়ালা তো রীতিমত বকাঝকা।
যদিও ছেলেটি একটু ছেলে মানুষ টাইপ এর ছিল,,,তাই
ভদ্রতার খাতিরে তেমন কিছু না বলেই চলে গেলো।যদি মুরুব্বী টাইপ এর হতো,,,ওকে তো কিছু কথা শুনাতে
ছেড়ে দিত না।
যায় হউক আল্লাহ বাঁচিয়েছে।
রিকশায় উঠে জিজ্ঞেস করলাম ,কি হয়েছিল তোর তখন?
তুই তো যথেষ্ট দায়িত্বশীল।হঠাৎ এমন কেমন করলি কেনো?
যদি আজকে কিছু হয়ে যেত.
স্বর্ণা কিছুই বলে নি সেদিন।কয়েক দিন পর কথা এসএমএস এ কথা হচ্ছে।সেদিন প্রশ্ন করতেই।
সে নির্দ্বিধায় বলে দিলো।
জানিস মিতু,আমাদের ক্লাস এর সাকিল কে দেখেছিলাম আমি সেদিন ফজদারি।কিন্তু ওকে দেখা পর্যন্তই।তারপর আমি কিছুই জানি না।আমি দাড়িয়ে গেছি ,নাকি চলছি,কিছুই বুঝতে পারিনি।
যখন তুই আমাকে টান দিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে গেছিস,সবাই যখন বকাঝকা শুরু করেছে,তখন আসলে বুঝতে পেরেছি,আসলে আমি অ্যাকসিডেন্ট করতে যাচ্ছিলাম।
সাকিল কে দেখে তোর কিছু মনে থাকে না।এই সব লক্ষণ তো ভালো না।কি হয়েছে আমাকে বলতো?
মিতু তুই একটু বেশি বুঝিস।কিছুই হয়নি।পরিচিত ,তাই হয়তো অবাক হয়ে গেছিলাম।কথা বলি।এই ভাবতে শুরু করেছিলাম।
আসলে সেদিন আমি 200% নিশ্চিত ছিলাম, স্বর্ণা প্রেমে পড়েছে।আমি ওকে আর জুর করিনাই।
আজকের এই ঘটনা,বলে দিচ্ছে ওর সাথে অনেক খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে.....
স্বর্ণার ফ্রেন্ড মিতু..
Comments
Post a Comment