অসহায়ত্ব 3
পরের দিন কলেজ গিয়েছি।স্বর্ণাকে কল দিয়ে বললাম কলেজ এ আসবি না?
না যাবো না।শরীল টা খুবই খারাপ।ঠান্ডা বেশি হয়েছে।
আসলে স্বর্ণার অনেক সমস্যা।শারীরিক অবস্থা ম্যাক্সিমাম সময় খারাপ থেকে।কোল্ড অ্যালার্জি রয়েছে,তারউপর থাইরয়েড সমস্যা।ব্রেষ্ট টিউমার রয়েছে।এইটা নিয়েও ও অনেক কান্না করতো মাঝে মাঝে আমার কাছে। ও অনেক চাপা সভাবের,বাসায় চিন্তা করবে বলে,সব কিছু বলত না।ওর বাবার বয়স হয়েছে,তাই ও খুবি ভয় পেত যে,তার বাবা যেনো তাকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে।ওকে আমি সপ্তাহে 1 দিনিও ভালো থাকতে দেখতাম না।
গরমের দিনে আমরা যেখানে ঠান্ডা পানি খুঁজতাম।
আর সে খুঁজতো গরম পানি।সবসময় গরম পানি ওকে নিতে দেখেছি।
যায় হউক।তবুও ভালো ছিল।কিন্তু ওর আজকের কথা গুলো শুনে মনে হলো,ওর আর ঘুরে দাঁড়ানো হবে না।
ও অনেক শক্ত পুক্ত একটা মনের মানুষ।নয়তো এতো অসুস্থতার মাঝেও নিজের মনের যুরে ও পড়াশুনা করছে।আর ও 10 থেকে 12 ঘণ্টা পরে।হয়ত মনে থাকে না। ও বলত,জানিস মিতু,আমার না মনে থাকেনা। কী করব বলতো?
মাথা ব্যাথা করে, হাচির উপর হাচী।
মনোযোগ থাকবেই কেমনে বলতো।
চেষ্টা করতেছি,আল্লাহ যা করে।
কিন্তু সে তো সেই মনের যোর টাও হারিয়ে ফেলেছে।
সাকিল কে নাকি ও পছন্দ করে।এইটা অনেক ভুগাবে ওকে।
সব কিছুর উপর জোর চলে, মনের উপর কারোর কর্তৃত্ব চলে না।
বেচারা আজকে আমাকে বলেই কান্না করে দিয়েছে!
বলে আমার ঘুমের মধ্যেও ওকে দেখি..
সারাক্ষণ মাথায় একই চেহারা ঘুরতে থাকে।
ঠিক আছে স্বর্ণা,তুই যখন ওকে পছন্দ করিস।
ভালো কথা।হুট হাট বলার দরকার নেই।তোকে আবার ফাজিল মেয়ে ভাববে।
আগে ওদের সাথে মিস।বন্ধুত্ব কর।
পরে সময় ও সুযোগ বুঝে বলবি।
এখন চিন্তা করিস না।
তুই এই বিষয়টি নিয়ে ভাবিস না আর।
স্বর্ণা মাথা নিচু করে রয়েছে।আরে ক্লাস করতে আসবিনা বললি,আবার চলে এলি কেনো?এইসব বলার জন্য এসেছিস? নাকি মুখটা ঘুমরা করে রাখার জন্য এসেছিস?
আমি ওকে একটু রাগানোর চেষ্টা করার উদ্দেশ্যে এত প্রশ্ন করলাম।আমি হাসছি...
বেচারা নির্দ্বিধায় বলতেছে,
দেখ,রুম এ থাকলে অসুস্থতা বেশি ফিল করি।তার থেকে কলেজ এই আসা টা ভালো মনে হলো তাই এলাম।
ও আচ্ছা,তাই?
নাকি না দেখে থাকতে পারছিলি না,তার জন্য এসেছিস?
কোনটা বুজবো?
ও তখন হেসে দিয়ে বললো, না তেমন না।
কিন্তু আমিও একটা মেয়ে ।জানি কখন কিসে মেয়েদের মন ভালো হয়। ওর চোখে এতক্ষণ আমি পানি দেখেছি শুধু।বিষয়টি বলার পরেই,এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করেছে।ওর চোখে এক প্রশান্তির জলক।
মন এক নিমিষেই ভালো হয়ে গেছে।
কালো হয়ে থাকা,মুখটাও হাসিতে উপচে পড়ছে।লজ্জায় আদখানা হয়েছে তার অস্তিত্ব।
সেদিন ক্লাস করে বাসায় চলে এলাম।
যদি কেউ জিনেকে হারিয়ে ফেলে,তবে ব্যাক্তিটি তার সেই পুরনো তাকে কোনোদিন ফিরে পাইনা।
সেটা কখনোই সম্ভব নয়।
কিছু দিন পর...
মিতু কেমন আছিস?
ভাল ।তুই?
হুঁ,ভালো আছি।
কি হয়েছে তোর?এই অসময়ে এসএমএস দিলি।রাত 12 টা বাজে।
আরে শুননা একটা কথা আছে।
ওকে বল।
জানিস সাকিল আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছে!
তাই নাকি?
হুঁ,আমি অ্যাকসেপ্ট করেছি।আসলে রিকোয়েস্ট গত কালকে দিয়েছে,আমি দেখিনি।আজকে দেখলাম মাত্র
2 ঘণ্টা আগে অ্যাকসেপ্ট করেছি।
ভালো এখন তুমি চুটিয়ে প্রেম করো।
আরে কি বলিস।
শাকিলের সাথে পরিচয় হয়নি এখনও।
এখনি প্রেম কোথা থেকে আসল!
মিতু তুই কিন্তু আমাকে একটু বেশি খেপাচ্ছিস।
বলে দিলাম।
ও এখন তো তাই মনে হবে।
আচ্ছা বাত দে..
এসএমএস দিয়েছে কি তোকে?
হুঁ আমি অ্যাকসেপ্ট করতে না করতেই এসএমএস দিয়েছে!
Hi....
হাহাহা
বাহ স্বর্ণা তুই তো আর আমাকে এসএমএস দিবি না।তোর তো Hi, এসে গেছে।
আরে ওই ছেলে একটু গম্ভীর টাইপ এর।
Hi দিয়েছে তো কি।বেশি প্যাচাল পছন্দ করে না।মনে হয়।
যা কথা হয়েছে,অনেক শর্ট লেখে রে।
আমিতো রচনা লেখি।
শর্ট লিখতে পারিনা।
কি কথা হয়েছে আমাকে বলবি না?
হুঁ অবশ্যই বলবো।
এখনো কথা হচ্ছে।
খুবি ভালো ।চালিয়ে যাও স্বর্ণা।এখন আর আমাদের খুঁজ নিবে না।আমরা হয়ে যাবো পর।আমিতো এই দুঃখেই শেষ।
তুই একটু বেশি ভাবছিস, মিতু।
ওকে কথা বল। আগামী সপ্তাহে কলেজে দেখা হবে,সরাসরি শুনবো।
তোর কথা।
ঠিক আছে।
গুড নাইট।
গুড নাইট
Comments
Post a Comment