অসহায়ত্ব 4
পরের দিন কলেজ এ গিয়েই স্বর্ণাকে বললাম,আমাকে বলবিনা কি কথা হয়েছে? হে অবশ্যই বলবো।কেনো না।
আমি প্রশ্নটি করার সময় লক্ষ্য করি,মানুষ এতটা হাসিখুশি থাকে।ভাবাই যায়না।
আগেও স্বর্ণা ফ্রাঙ্ক টাইপ ছিল,কিন্তু তখন যেনো একটু কৃতিমতা কাজ করতো।এখন তেমনটা না।
সহজ সরল উক্তি,নিজেকে নিয়ে এক অপরিসীম আশায় বেচে থাকা এক অপেক্ষমান তরুণী।
আকাশের বিশাল উদারতার মত তার হাসির জলোক।
যেখানে নেই কোনো মেঘের ছায়া।আছে শুধু নীল আকাশের বর্ণিল রূপের আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ।
আচ্ছা এখন বল,কি কথা হয়েছে?
তেমন কিছু না। শুধু পরিচয় হয়েছে।
আমাকে মেসেঞ্জার চ্যাট লিস্ট টা দেখালো।সাকিল লিখেছে,
কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ,ভালো আছি।
আপনি কেমন আছেন?
হুঁ,ভালো।
আপনার বাসা কোথায়?
আমার বাসা মেলান্দহ থানা।
আপনার?
সরিষাবাড়ী।
কি করেন আপনি?
পড়াশুনা করি।বিসিএস ফার্স্ট ইয়ার,গণিত।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ।
আরে,আমিও তো পড়ি,সেই কলেজে।
আপনাদের সাথেই।আমিতো আপনাকে দেখিনি।
আপনি হয়তো পর্দা করেন।
রাইট?
হুঁ,একটু আদটু করি পর্দা।
আচ্ছা,খুবি ভালো।
আচ্ছা স্বর্ণা,তুই এই বেটে ছেলেটাকে কেমনে পছন্দ করলি?
মিতু ফাজলামি করবিনা। ও বেটে কে বললো তোকে?
আরে রেগে যাস কেনো?
তো রাগে যাবো নাতো,কি করবো?
আসলে সাকিল,দেখতে শুনতে শর্ট,মুলোমুলো একটা ছেলে।চেহারা শ্যামলা।স্বর্ণা একটু লম্বা টাইপ।কিন্তু স্বর্ণার চেহারাও খারাপ।একদম দেখতে ভালো লাগেনা।
স্বর্ণা নিজেই নিজেকে খুবি week ভাবত।তাই।কখনো কোনো প্রেমভালোবাসা নিয়ে ভাবার সাহস পায়নি।যদিও ওর একটা স্কুল লাইফ crush ছিলো।কিন্তু সেটাকে ভালোবাসা বলে না।crush আমাদের লাইফ এ অনেক আছে, এইটা পরিবর্তনশীল।তাই সেটাকে অন্তত ভালোবাসার সাথে মিলানো না।
আচ্ছা, শাকিল কি প্রতি পজিটিভ হবে মিতু?
কেনো হবে না।হয়ে যাবে।
কি বলবো এর থেকে।আমি ওকে সরাসরি বলতে পারছিলাম না,যে খুঁজ নিয়ে দেখ,ওই ছেলের গার্লফ্রেন্ড আছে।এই যুগের ছেলে পেলে,প্রেম না জীবন চলবে নাকি? অবশ্যই গার্লফ্রেন্ড আছে।কিন্তু আমি স্বর্ণাকে কথা বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। ও আবার কি রিয়াকশন দেই।হয়তো অনেক কষ্টও পাবে।এইসব ভেবে আর কিছু বলিনি।
আমাদের ইনকোরস এক্সাম সামনে। ও কলেজ গিয়ে,শাকিল এর ফ্রেন্ড দের সাথে টুকিটাকি কথা বলে।রতন,মানিক,সোহাগ,আরিফ।
আমাদের এক্সাম এ কি কি দিতে পারে?স্যার একটা নোট দিয়েছেন।কোথায় পাবো?
তুমরা কি পেয়েছি?
পাইনি,তবে আজকে হীরা লাইব্রেরী থেকে নিয়ে যাবো।ওখানে সব দেওয়া আছে।আমিতো।চিনি না।একটু আমাকে সাথে নিয়ে যাবে,প্লীজ।
আচ্ছা ঠিক আছে,যেয়ো।
স্বর্ণা বলতেছে,মিতু আজকে এই দলের সাথে লাইব্রেরী যাবো।ওরা খুবি ভালোরে।অন্য ছেলে পেলে হলে,কি ফাজলামি না করতো।
মিতু তুই জাবিনা?
না তুই যাইস,আমার জন্য নিয়ে আসিস একটা।
কেমন?আগামী কাল কলেজ এ এসে নিয়ে নেবো তোর থেকে।
আচ্ছা..
ওদের সাথে ধীরে ধীরে মিশতে থাকে,ফেইসবুকে অ্যাড হয়,সবার সাথে।শাকিল এর সাথেও কথা হয়।মাঝে মাঝে।এক্সাম শেষ হল আমাদের। ক্লাস হয়না,কলেজ যাওয়া লাগেনা।মিতুর যেনো ভালই লাগেনা। ও শুধু এসএমএস দিয়ে বলবে,মিতু কবে কলেজ এ যাবো?
বাসায় আর ভালো লাগেনা।
ভালো লাগবো কেমন, বেচারার তো শাকিলকে দেখা হচ্ছেনা।তাই পিঞ্জিরাই আবদ্ধ পাখির মত ছটফট করছে।
বুঝতে পেরেছি,তোর কিসের ফাফুর ধরেছে।দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে না।
হুঁ,আমি।ওকে।খুবি মিস করি মিতু।কি করবো বল।মনের উপর জোর চলছে না আপাদত।ভাবতেও ভালো লাগে।
তো ঘুরতে যা কোথায়।ওদের সাথে তো তোর কথা হয়েই থাকে, তো ফুচকা পার্টি দে।দেখা হয়ে যাবে।
Comments
Post a Comment