অসহায়ত্ব 5
কয়েক দিন থেকে বাইরে বেরুনো হয়নি।হঠাৎ একদিন সেজু ভাই বলল, ব্রিজ যেতে হবে।রাজু নামে একটা ছেলে আসবে,তার থেকে একটা ডকুমেন্ট নিতে হবে।
বিকাল দিকে সে বাইরে যাবে সিদ্বান্ত হলো।কিন্ত একা।তাই আমি ভাবলাম যদি ফ্রেন্ড নিয়ে যাওয়া যায়।সাথে সাথে তার ভার্সিটির কয়েকটা বন্ধুকে কল দিলাম। স্বর্ণাকেও কল দিয়ে আসতে বললাম।
আর বললাম তোর সাকিল কে নিয়ে ব্রিজ যাচ্ছি,,,চলে আয়।দেখা হবে খুবি ভালো লাগবে তোর।তুই নাকি কখনো সাকিল কে নিয়ে আড্ডা দিস নাই।সেদিন বললি।
দেই নাই তো।একদিন শাকিলকে রিকোয়েস্ট করেছিলাম,ফুসকা খাওয়ার জন্য,কিন্তু সে বলেছিল,,আমার সময় নেই।টিউশন এ রয়েছি এখন।
আরো কয়েক দিন রিকোয়েস্ট করেছি কিন্তু ও সময় বের করতে পারেনি।বলা যায় না,,,হয়তো পেয়েছে সময়,
আমার সাথে আড্ডা দিবে না তাই না করেছে।
আচ্ছা,, স্বর্ণা সমস্যা নেই।হয়তো ব্যাস্ত ছিল।ছিল আজকে ঘুরতে যাচ্ছি।রাব্বি কে বলেছি ও আসবে।
সাথে ওরা সবাই।সাকিল ও আসবে।
রাব্বি,ইয়াসির,রাফি,আর তাদের মধ্যে কৌশলে সাকিল কে আসতে বলা হলো।সবাই মিলে রিকশায় করে যাওয়া হলো ব্রিজ এ।গাড়ি ভাড়া স্বর্ণা দিতে চাইলে রাব্বি ধমক দিল।তাই স্বর্ণা পিছিয়ে আসলো।সাথে সাথে লোকটি ও চলে আসলো,ডকুমেন্ট টি রিসিভ করা হলো।তারা কিছুক্ষণ ব্রিজ এর পাশে নদীর ধারে গল্প করে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলো।সেদিন ফুসকা খাওয়ার রিকোয়েস্ট করা হয়েছিল ।কিন্তু কেউ খাইনি। স্বর্ণা পছন্দ করে না
আর সন্ধা হয়ে আসতেছিল বলে,দ্রুত চলে আসা হয়েছিল।
সেদিন স্বর্ণা বাসায় গিয়ে আমাকে বলেছিল,মিতু তোকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কেনো?
তুই জানিস আমি কয়েকদিন থেকে কলেজ যায় না।ওকে দেখিনা।আমার খুবি দম বন্ধ লাগতেছিলো।আমি তো ওদের সাথে ওই ভাবে মিশি নাই।কিছু দিন কথা হয়েছে,
তবুও আমি কয়েক বার রিকোয়েস্ট করেছি,বাইরে আড্ডা দেয়ার জন্য।রাজি হয়নি ওরা।একা একা তো সাকিল কে বলা যায় না
আমি ওদের সবাইকে বলেছিলাম, চলো কলেজ ক্যাম্পাস এ গুরতে যায়।কেউ যায়নি।
জানিস আমার কিছুই ভালো লাগে না।সারাক্ষণ ওর কোথায় মাথায় ঘুরে।
ভূত নামা মাথা থেকে।এতটা সিরিয়াস হলে চলবে না।
স্বর্ণাকে আমি বুজাতে চেষ্টা করি।কিন্তু পরক্ষণেই আমার মনে হয়,আমি তো আমার রাকিবকে এক সেকেন্ড এ ভুলতে পারিনা।
সবসময় ওর সাথে কথা বলি,ওর সাথে ভাললাগা খারাপ লাগা share করি।
হয়তো স্বর্ণা তেমনটি ফিল করে।
আমাদের যতো ফ্রেন্ড আছে।একমাত্র স্বর্ণার কোনো রিলেশন নেই।বাকি সবাই রিলেশন করে।
স্বর্ণার স্কুল ফ্রেন্ড দীপা।আমাদের সাথেই পরে।ওর রিলেশন প্রথম বর্ষ থেকেই।এখন সে বিয়ে করে ফেলেছে।ওরা খুবি ভালো। দীপার জামাই আমাদের সাথেই পরে, দ্বীপ।ওদের পারফেক্ট ম্যাচ।
যায় হোক,স্বর্ণা আমাকে অনেক কিছুই বলে। ফ্রেন্ডলি।
স্বর্ণার ফ্যামিলি মধ্যবিত্ত।5 ভাই 3 বোন তার।বাবা কৃষি কাজ করে ।
অনেক কষ্ট তাদের সংসার চলে। স্বর্ণা একমাত্র ওদের ফ্যামিলিতে গ্র্যাজুয়েশন করতেছে।
ওর বড়ো 2 ভাই সরকারি জব করে।উনারাই সংসার চালান
আর স্বর্ণার খরচ বহন করেন উনারাই।
স্বর্ণার বাবা মা এখন বয়স্ক হয়ে গেছেন।2 বোন বিয়ে করে ফেলেছে।বড়ো বোন জামাই সংসার করে।দিনকাল যায় আর কি।ছোট বোন জামাই বাইরে থাকে।
স্বর্ণা বড়ো ভাই, বিসনেস করে।এই হলো অবস্থান।
পড়াশুনা করে কিছু একটা করবে,কিন্তু এই মেয়ে ত গেছে।প্রেমে পড়লে জীবনে আর কিছুই থাকেনা।
পড়াশুনায় মন বসবে না।
আর আমার ব্যাক্তিগত অভিমত হলো,,,
ও যতো টুকু বলছে,তাতে অনেক সপ্ন ওর ফ্যামিলির স্বর্ণাকে নিয়ে।কিন্তু ও তো প্রেমের পিছে ছুটছে।
আল্লাহ জানে এর পরিণতি কী হয়!।
আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অহরহ রয়েছে।
সবাই ভুলে যায় বাবা মার স্বপ্নকে।নিজের মনের ভালো লাগার পিছে দৌড়াতে গিয়ে কখন যে বাবা মার সপ্নের সাথে প্রতারনা করা শুরু করে দেই,এরা বুঝতেই পারে না।এদের দ্বারা সমাজে হয়তো অনেক বদনাম হয়।
অনেক মেয়ে গ্র্যাজুয়েশন করতে আসলে,বাবা মা ভয়ে থাকে।না জানি কি না কি করে বসে আমার মেয়ে।আদো সে পড়াশুনা মনোযোগ সহকারে করছে কিনা।
অনেক অনেক সমস্যা হয়।
স্বর্ণাকে আমি বুজবো কি?
ওকে বলার সাহস পাচ্ছি না।
কারণ আমিও রিলেশন এ রয়েছি।কিন্তু রিলেশন এ শান্তি সেই। ও তো বুজবে না। ও বুজবে হয়তো মিতু চাইনা আমি প্রেম করি
তাই আপাদত কিছু বলছি না।
দেখা যাক কোথা কার জল কোথায় যায়।
Comments
Post a Comment