পরিণাম হীন ভালোবাসা
একজন মানুষকে একাধিক ব্যক্তি ভালো বাসতে পারে।আমাদের আশেপাশে এমনটাই প্রতিনিয়ত দেখতে পাই।
এমন একটা গল্প লিখবো আজকে,,,
অহনা ভালোবাসে রুহানকে।আর আশাও ভালোবাসে রুহানকে। অহনা,রুহান একই সাথে পড়াশুনা করে। কিন্তু আশা তাদের সাথে পড়াশুনা করে না।
আশার বাসা রুহান এর বাসার পাশেই।
অহনা অনেক সময় পেয়েছে,নিজের ভালোবাসাকে রুহান এর সামনে এক্সপ্লোর করতে।যেহেতু তারা একই কলেজে পড়াশুনা করে।অনেক সময় তারা একসাথে থাকতো কলেজে।কিন্তু রুহান সেটাকে ফ্রেন্ডলী নিত। কখনোই বুঝতে পারতো না,অহনা তাকে ভালোবাসে।
বলা হতো,হয়তো বুঝতো না।
কিন্তু সেটা ইচ্ছে করে ইগনোর করতো।
সে হয়তো অহনাকে বন্ধু হিসেবেই পেতে চেয়েছে,জীবন সঙ্গী হিসেবে না।
আমাদের জীবনটা তখনই জটিল হয়ে যায়, যখন নিজের মেন্টালিটির সাথে নিজেদের পছন্দের মানুষের মেন্টালিটির মিল খুঁজে না পাই।খুব অসহায় লাগে।
না পারে তার ভালোবাসার মানুষকে,নিজের মনের কথা বুজাতে।না পারে তার পছন্দের মানুষকে নিজের মন থেকে জেরে ফেলে দিতে।
যায় হউক।অহনা একদিন সব কিছু রুহান কে বললো।
তার নিস্পাস মনের নির্ভেজাল ভালোবাসার কথা।পুরু প্রকৃতি তখন শান্ত,নিজের হার্ট এর ধুকপুকানি শব্দটা যেনো বৈশাখীর ঝরে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো শব্দ।
হাত পা সব কিছু কাপছে,ভালোবাসার মানুষকে নিজের মনের কথা বলতে গেলে,হয়তো এমন হয়।
সব শুনে রুহান হাসছে....
কিন্তু রুহান বললো,আমার তোকে চাইনা।আমি অন্য কাউকে ফিল করি। আমি তো তোকে বন্ধু হিসেবে ভালো বাসি।তুই আমার বন্ধু , আর সেটাই থাকবি।
আমার আশাকে ভালো লাগে। আমাদের পাশের বাড়ি থাকে।তুইও চিনিস।
অহনা চুপ করে গেল।সে বাড়িতে এসে অনেক কান্না করে।খাওয়া দাওয়া,ঘুম,নিজের জীবনের সব কিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।নিজেকে সামলাতে পারছে না।
যে অহনা, রুহানকে কলেজের প্রথম দিন থেকেই ভালো বসে ফেলেছে,তাকে সে কি করে ভুলে যাবে?
24 ঘণ্টা যার কথা তার মাথায় ঘুরে,তাকে না ভেবে সে কি করে থাকবে?
যার হাসি, যার উপস্থিতি তার মনের মাঝে ঝর তুলে,তাকে সে কি করে ভুলবে।
যার কথা ভাবতে থাকলে,নিজের দেহটা কোথায় যাচ্ছে,সেটা খেয়াল করতে পারে না।
তাকে সে কি করে ভুলে থাকবে।
রাস্তায় হাঁটলে যে মনে করে,রুহান ও আমার পাশেই হাঁটছে, রিকশায় বসলে,যে মনে করে রুহান ও তার পাশেই বসে আছে,মাথায় ওই একই নাম।তাকে কি করে ভুলবে।
তাকে সে কিভাবে ছেড়ে দিবে।
এই রকম অবস্থায় যারা পরে,,এদের আর ফিরে আসার উপায় থাকে না।এদের ভালোবাসাটা কে সবাই হয়তো পাগলামি ভাববে,,কিন্তু এদের মন আছে,এদেরকে এক বার সুযোগ দিয়ে দেখুন।ওরা জীবন টাও দিয়ে দিবে নিজের ভালোবাসার মানুষকে সুখে রাখার জন্য,ভালো রাখার জন্য।এদের দ্বারা কখনোই অবহেলার দেখা পাবেন না।
রুহান আশাকে তার ভালোবাসা নিবেদন করেছে।
আশাও রুহান এর ভালোবাসা অ্যাকসেপ্ট করেছে।
ওরা এখন হ্যাপি কাপল।
অহনা বিএসসি থার্ড ইয়ার এ পড়তেছে,রুহান তার ভালোবাসায় হ্যাপি আছে।অহনা শুধু বের হয়ে আসতে পারেনি,সেই পরিস্থিতি থাকে।
নিজের মনকে সে এখনো বুজাতে পারেনি।
রুহান তার জন্য না।
অহনার অনেক অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসে,কিন্তু সে বলে বিয়ে করবো না।
দেরি আছে।
পড়াশুনা শেষ করে ,তারপর দেখা যাবে।
অহনা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে,তাই সেই জায়গা থেকে নিজেকে রুহান এর জন্য অপেক্ষায় রাখা খুবি কষ্ট কর ছিল।অহনার মনের কোথাও না কোথাও রুহান এর উপর আশা ছিল।
সে ভাবত,রুহান তাকে একদিন ঠিক ভালোবাসবে।
তাদের গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হল,অহনা পড়াশুনা তেমন করতে পারতো না।
কিন্তু পরে সে ভাবলো,,তাকে কিছু করতেই হবে।তাই সে শহর ছেড়ে চলে গেলো,,অন্য শহরে।টিউশন করে,নিজের খরচ চালাত।
মাঝে মাঝে নিজেকে খুব একা লাগতো,তখন সে রুহানকে কল দিত।কিন্তু রুহান জানত অহনা তাকে খুবি ভালো বাসে।তাই সে অহনাকে বলতো,তুই আমাকে কল দিস না।তোর খারাপ বেশি লাগবে,আমার ভালো বাসা আশা। তুই অযথা চেষ্টা করিস না।
আমি ওঁকে ভালবাসি।তুই অযথা আমাকে কল দিস না।
কিছু দিন পর অহনার একটা জব হলো।
রুহান ও একটা জব করে,সে আশাকে বিয়ে করবে।
ফ্যামিলিতে জানিয়েছে।
তার ফ্যামিলি মেনে নিবে না আশাকে।
এই নিয়ে রুহান এর ফ্যামিলিতে জামেলা হচ্ছে.....
অহনা নিজের জবের নিউজ টা রুহান কে দিবে,তাই কল দিয়েছে।কিন্তু হয়তো রুহান একটু ভালোবাসা হারানোর ভয়, ও ফ্যামিলির চাপে পড়ে, খুবই মানসিক অশান্তিতে ছিল।
এমন সময় ভিলেন ( যে রুহান কে তার ভালোবাসার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চাই) কল দিয়েছে।
রেগে সে একাকার।
কল কেনো দিয়েছিস?
কেনো আমি কল দিতে পারিনা?
না,পারিস না।
কেনো?
শুন অহনা,তোকে আমি এত সব ব্যাক্ষা দিতে পারবো না।তুই ফোন রাখ।
আমাকে জীবনে কল দিবিনা।
কেনো কল দিবো না সেটা তো বলবি?
দেখ অহনা তুই যতো যায় করিস না কেনো,
তুই জব পেয়েছিস, তাতে আমার কি।
আমি তোকে কখনোই ভালো বাসতে পারবো না।
আমি জব পেয়েছি,তোকে কে বললো রুহান?
আমার ফ্যামিলিতে তোকে নিয়ে আজেবাজে কথা কে বলেছে?
রুহান,তোর ফ্যামিলির কারোর সাথে আমার যোগাযোগ নেই।আমি নিজেও জানি না।আমি তো তোকে আমার জবের নিউজ দেওয়ার জন্যই কল দিয়েছি।গত পরশু আমার জব কনফার্ম হয়েছে।
তোকে আমি সেই পরশু দিন থেকেই ট্রাই করছি,কল এ পাচ্ছি না।
আজকে পেলাম তোকে কল।
রুহান তুই আমাকে ভুল বুঝতেছিস।
অহনা শুন,তুই আকাশের চাঁদ হলেও আমি তোকে মানতে পারবো না।আমার বাবা বলেছে তোর সম্পর্কে যে,,অহনাকে বিয়ে কর।মেয়েটা শিক্ষিত, জব ও পেয়েছে।
সমস্যা কোথায়?
দেখ অহনা,তুই আমার 14 গুষ্টিকে রাজি করাতে পারলেও আমাকে পারবি না।
কারণ আমি আশাকে বিয়ে করবো।
একটা কথা শুনে রাখ,আশা আমার জীবনে ছিল, আছে ,থাকবেও।
কিন্তু তুই কখনই ছিলী না,আর থাকবি ও না।
আরেক টা কথা বলে দেই,
যদি কোনো কারণে আমি আশাকেও না পাই,
কি হবে আমার জানি না।তবে আমি তোকে আমার লাইফ এ আসতে দিবো না।
দরকার পড়লে,বাড়ি ছাড়বো,ঘর ছাড়বো।
ইভেন আমি এই দুনিয়া ছেড়ে দিতেও আমি রাজি।
অহনা কথা গুলো শুনে কিছু বুঝতে পারলো না।
শুধু এই টুকু বুজলো,তার জায়গা রুহান এর লাইফ এ নেই।
যাকে নিয়ে সে কিছুটা হলেও আশাবাদী ছিল।
অহনা অজ্ঞেন হয়ে পড়ে গেলো,
রুমমেট সবাই তাকে,হসপিটালে নিয়ে গেলো।
তার বাড়ি থেকে সবাই আসলো।তখন সে তার ভাবীকে জিজ্ঞেস করলো,ভাবি রুহান দের বাড়িতে কেউ কিছু বলেছে নাকি?
তার ভাবি বললো,,তুমার বড়ো ভাই যে দিন তুমার জব হয়েছে ,সেদিন একটা লোক পাঠিয়েছে রুহান দের বাড়িতে।রুহান এর সাথে তুমার বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে।
তাদের তুমাকে ভালো লেগেছে।
তারা আমাদের জানাবে।এবং আমাদের বাড়িতে আসবে।
আচ্ছা ভাবি,আমি কি তুমাদের এই বিষয়টি বলেছিলাম?
রুহান এর বাড়িতে এই প্রস্তাব টি দেওয়ার?
না তো।তবে তুমি রুহান কে ভালবাস।এইটা তুমার বড়ো ভাই জানে।
কিভাবে জানে?
তুমার একটা ডাইরি ছিল আমাদের টেবিলে।পুরানো বই এর আড্ডায়।
সেখানে লেখা ছিল,আমার রুহান কে লাগবে।
অহনার মনে পড়ে যায়,সেই ইন্টারমিডিয়েট লাইফ এর একটা ডাইরির কথা।সেখানে ও রুহান কে নিয়ে লেখা লেখি করতো।তার ভালো লাগার বিষয় গুলো সে ডাইরি কেই বলতো।
এখন সে বুঝতে পারলো,তার বড়ো ভাই ।
তার ভালো লাগাকে সম্মান করেছে।তাই তো নিজেই সেই স্টেপ টি নিয়েছে।অহনা রুহানকে এক করার।
অহনার চোখের জল বাঁধ মানছে না।
দু চোখ যেনো ঝর্ণায় পরিণত হয়েছে।
শুধু অনর্গল পানি পড়ছে।
অহনা তার বড়ো ভাইকে ডেকে নিয়ে বললো,,ভাইয়া তুমি আমাকে অনেক ভালো বাসো।
একটা কথা বলবো আজকে শুনবে?
বল..
রুহান দের বাড়িতে আর কাউকে পাঠাবে না।
আমি চাই না এই বিয়ে।
তুমি না করে দিয়ো ভাই।
পরবর্তীতে আর কোনো নিউজ আসেনি।
অহনা সুস্থ..
কিছু দিন পর,
সে সুস্থ মস্তিষ্কে একটা এসএমএস লিখছে রুহান কে...
রুহান..কেমন আছিস?
আমি জানি তুই ভালই আছিস।
আল্লাহ আমাকেও ভালো রেখেছেন।
আমি সেই কলেজ লাইফ থেকে এখনও পর্যন্ত এক সেকেন্ড ও তোর কথা না ভেবে থাকতে পারিনি। এখনো পারিনা। তোকে আমি আমার পৃথিবীর রাজা করে রাখতাম।বিশ্বাস অবিশ্বাস সবই তোর।
তুই আশাকে ভালবাসিস।তাকে নিয়ে তুই সুখে থাকলে,তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।আমার ভালোবাসার ও একটাই লক্ষ্য ছিল,তোকে ভালো রাখা।
তুই ভালো থাকলেই হলো,সেটা আমার দ্বারা বা অন্য কারোর ধারা।
সেদিন এর প্রত্যেকটি কথা আমার মনের মাঝে সিডরের আঘাতের থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক ছিল।
আমি তোকে ভালো বাসি,এই কথাটা শুধু তুই জানিস
আমি কাউকে বলিনি আর।আমার দিক থেকে আমি অনেক চেষ্টা করেছি,নামাজে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি যেনো আল্লাহ আমাকে তোর মহো থেকে বের করে আনেন।
কিছু হয়নি।এমন কোনো রাত কাটেনি আমার তোর কথা ভেবে কান্না না করে।
এমন একটা মুহূর্ত আমি পার করিনি তোকে না ভেবে।
আমার অসহায়ত্ব আমি মেনে নিয়েছি।আমার দুর্বলতা একান্তই আমার।আমি এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি।
আমার বড়ো ভাই আমার একটা কলেজ এর ডাইরি থেকে জেনেছে যে আমি তোকে ভালো বাসি।তাই আমার জন্য তোদের বাড়িতে ঘটক পাঠিয়েছিল।
ডাইরি টা আমার অতটা ইম্পর্ট্যান্ট ছিল না।
একটা পেজ এ আবেগের অবসত তোকে নিয়ে লিখেছিলাম কিছু কথা..
সেইটাই ভাই জেনেছে।
আমাকে তোর ফ্যামিলির সবাই নাকি পছন্দ করেছিলেন।
আমার কথা না,ঘটক বলেছে।
কিন্তু বিশ্বাস কর,তাতে আমার কিছু আসে যায় না।
আমি তো তোকেই পাবো না।আমি তোর পছন্দের হয়ে উঠতে পারিনি।আমার আমিকে তোর মনে মত তৈরি করতে পারিনি।এখানেই আমার ব্যার্থতা।
আমার আর ঘুরে দাঁড়ানো হবে না ।
আজ কথা গুলো তোকে না বললেও হতো।
কিন্তু আমার জীবনের পুরাটাই তুই..
তোকে না বললে,,পরকালেও হয়তো শান্তি পাবো না আমি।
আমি তোর আশা কে কখনোই হিংসে করিনি।
কিন্তু তোর উপর ও আশা ছেড়ে দিতে পারিনি।
তোর আশাকে নিয়ে আমি অনেক গবেষণা করেছি..
যার ফলাফল তুই একদিন পাবি।
কেনো আশা কে বিয়ে গবেষণা করেছি,,,সেটার একটাই কারণ,তুই ।
তুই আমার কাছে সবচেয়ে মুল্যবান একজন মানুষ।
এই মানুষটা কার হবে,সে আসলে আমার মুল্যবান মানুষ টাকে যত্নে রাখতে পারবে কি না।
তাকে সে আদো ভালোবাসে কি না?
এই গুলো যাচাই করার জন্যই আরকি।
আমার গবেষণার ফলাফল তোর দেখা লাভ নেই।তোকে বললে হয়তো এমন টা ভাববি,যে আমি তোকে আশার বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমন টা বলছি।
তাই ওই বিষয়ে যাচ্ছি না।
শুধু বলবো,অমর হউক তোর মুখের হাসি, বেচেঁ থাক এক পৃথিবীর সুখ নিয়ে।তোর সংসারে আল্লাহ রহমত বর্ষিত হউক।
আমার দূর্ভাগ্য আল্লাহ আমাকে তোর সংসার দেখার ক্ষমতা দেননি।নয়তো আমার তোর সংসার দেখার লোভও কম ছিল না।
আর হে,আমাকে ক্ষমা করে দিস।
আজকের পর থেকে কেউ তোকে আর বিরক্ত করবে।আর কাউকে বলতে হবে না,কখনো কল দিবি না।আর কাউকে ব্লক লিস্ট এ রাখতে হবে না।
অমর হউক পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের নিষ্পাপ ভালোবাসা।
অহনা...
কিছুদিন পর রুহান এসএমএস টি দেখেছে..
তারপর রিপ্লাই দিয়েছে।
অহনাকে চিনি আমি।
কিন্তু এই আইডি কার?
আমি অহনার রুমমেট অর্পা।
আমার আইডি থেকে অহনা এসএমএস দিয়েছে আপনাকে।আসলে তুমি তো অহনাকে ব্লক করেছেন
তাই ও তার আইডি থেকে লিখতে পারেনি।
ও আচ্ছা...
এখন অহনা কোথায় অর্পা?
হঠাৎ অহনার কথা কেনো?
না, ওকে বলো ওকে আমি আনব্লক করেছি।
না রুহান,তার আর দরকার পড়বে না।
রুহান তুমার আশা কেমন আছে?
হুঁ হইত ভালই আছে।
হয়তো ভালো কেনো?
তুমার ওয়াইফ এর কথা তুমিই ঝানো না?
জানি তো...ভালো আছে।ওর সংসারে ও অনেক খুশি আছে।
হুঁ,খুশি তো কেউ না কেউ থাকেই।
তুমার আর আশার খুশিতে শুধু অহনা হাসতে পারেনি।
আচ্ছা যাই হউক।
অনেক দিন পর রিপ্লাই কেনো করলে তুমি?
আজকেই অহনার দেওয়ার এসএমএস টি পড়লাম
আমি দেখিনি এত দিন।
ও আচ্ছা..
এখন কোথায় আছেন?
আমি এখন বাড়িতেই থাকি।কিছু করিনা।
চুপচাপ বসে থাকি।
বাচ্চা হয়েছে তুমাদের?
আরে কি বলো অর্পা,আশা আমাকে বিয়ে করেনি। ও অন্য এক জনকে ভালো বেসেছে ।আমাদের বিয়ের দিন ও ওর পছন্দের মানুষকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। ও আমাকে বোকা বানিয়েছে।
ঠকিয়েছে ও আমাকে।
কি বলেন এই সব?
হুঁ,সত্যি বলতেছি।
রুহান তুমাকে আমি আজকে একটা কথা না বললেই নয়, অন্যের ভালোবাসাকে তুমি যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছো।তার ফলাফল এই হওয়ার কথা ।
আর আল্লাহ কাউকে ছাড় দেন না।
অহনা তুমাকে অসম্ভব ভালো বসত।
তুমি জানো, ও তুমার প্রতিটা birthday তুমাকে উইশ করতে না পেয়ে,মসজিদে খাবার দিত। এ্যাতিমদের সেদিন ও খাবার খাওয়াত।
ও টাকা ধার করে নিয়ে হলেও সেই দিন ও তুমার জন্য মসজিদে দোয়া চাইতো।
ও শুধু তুমার ভালো চাইতো।
নামাজে বসে অনেক কান্না করতে দেখেছি আমি ওকে।
আর তুমি তাকে চিনতে পারলে না।
অহনা তুমাকে অনেক ভালো রাখতো..
শুধু কাউকে খুশি রাখার তীব্র ইচ্ছে থাকা সত্বেও এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হলো অহনাকে।
অহনা তুমাকে ভালোবেসে অনেক খুশি ছিল,সেই খুশি তাকে বাঁচতে দিল না।
শেষ মেস এই পৃথিবীকে বিদায় জানাতে বাধ্য হলো সে।
আসলে কেউ পারে না ,নিজের পছন্দের মানুষকে অন্যের হতে দেখা।
ও চাইলেই খুশি থাকতে পারতো।
ওকেও কেউ না কেউ ভালোবাসতো।আমার জানা মতে ও অনেক ছেলেকে রিজেক্ট করেছে।আল্লাহ ভালো জানে, ও তুমার মাঝে কি দেখেছিল।
ও শুধু তুমাকে সাথে নিয়ে খুশি থাকতে চেয়েছিল।
অন্য কারোর সাথে না
এইটাই হলো পার্থক্য।
অহনাকে বাঁচতে দিল না মানে কি?
কি হয়েছে অহনার?
রুহান ,তুমি কি জানো না অহনা মারা গেছে?
আরে কি বলো!
আমি জানি না তো।
আমাদের পাশের গ্রামেই ওর বাড়ি।আমি জানবো না।
এমন টা হয় নাকি?
আমি গিয়েছিলাম ওদের বাসায়,ওর লাশ এর সাথে।
ওকে দ্রুত কবর দেওয়া হয়েছে,লোক জন অবশ্য কমই জেনেছে।আসলে ও সুইসাইড করেছিল তো।তাই হয়তো বেশি জানাজানি করেনি।আমার তখন তুমার কথা মাথায় আসেনি।
আমি তুমাকে জানানোর মত অবস্থায় ছিলাম না।
নিউজ শুনে রুহান সেদিন অহনাদের বাড়িতে গিয়েছিল।
তার বাড়ির লোক জন সবাই বাসায় ছিল।তার বড়ো ভাই,অহনাকে সবচেয়ে বেশি ভালো বসত।
উনি রুহান কে বসতে বললেন।
রুহান ভেবেছিল,ওরা হয়তো তার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে,কিন্তু না।ঘটলো ঠিক উল্টোটা।সবাই তাকে অনেক অনেক ভালোবাসা দেখালো।
রুহান অবাক হয়ে গেলো রীতিমত।
সে বলল,আমাকে আপনার ক্ষমা করে দিবেন।আমি বুঝতে পারিনি অহনার মত মেয়েকে...
অহনার ভাই বলল,আমরা তো তুমার মাঝেই অহনাকে খুঁজে পাই।আমার বোন আমাকে সেটাই বলে দিয়ে গেছে।
রুহান কে একটা পত্র হতে দিলেন ..
আমার পৃথিবীর শ্রেষ্ট তম ভাই
আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো।আমি শেষ মেশ তুমাদের লস প্রজেক্ট হলাম।
আমি কোনো ভাবেই বাঁচতে পারব না।
কাউকে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।
আজকে রুহান বিয়ে করছে, কালকে আমাকে বিয়ে দিবে তুমরা।এই সব আমার সাথে হতে পারেনা।
আমার কলিজা ছিন্ন ভিন্ন।
আমার কিছু ই নেই।
এই জীবনে আমার কিছু চাওয়ার নেই পাওয়ার নেই।
আমার কথা মনে হলে,রুহান কে দেখে নিও।
ওর মাঝেই আমি নেই সেটা রুহান মানে,কিন্তু আমি জানি,হুহান ই আমি আর আমিই রুহান।
আমার মৃত্যুতে কাউকে দায়ী করবে না।
রুহান কে তো প্রশ্নই আসে না।
ইতি
তুমার ছোট্ট বোন।
অহনা
আসলে আমাদের পৃথিবীটা খুবি জটিল।
কার মন কখন কোন দিকে ঘুরে যায় বলা যাই না।
তাই আমরা অন্তত তাদেরকে সিলেক্ট
করি যারা আমাদের সত্যি ভালোবাসে।
এই পৃথিবী অভিনয় করার মতো মানুষের অভাব নেই।
অভাব শুধু সত্যি করের ভালোবাসার মানুষ এর।
Comments
Post a Comment