বন্দি এমএ পাশ
জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড থেকে মানুষ শিখে ।
শিখতে বাধ্য।এই বিশাল উদারতার পৃথিবীতে আছে যেমন হাজারো সফলতার গল্প।আবার ঠিক তার উল্টো পাশে আছে কোটি কোটি ব্যার্থতার গল্প।
আমি হয়তো কাজী নজরুলের মত বিদ্রোহী হতে পারবো না।
হয়তো এই সমাজের চির দুর্বিষহ চিত্র গুলোকে নিজের লেখনীতে ধারণ করতে পারবো না সূক্ষ্ম ভাবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত প্রেম,যন্ত্রণার মিষ্টি মিষ্টি গল্প হয়তো লিখতে পারবনা।হয়তো বা আমার আজকের লেখাটা রবীন্দ্রনাথের অভাগার মত হবে না।
কিন্তু একজন অপারগ বোনের ঘুমরে ঘুমরে শেষ হওয়ার মতো একটা গল্প নিশ্চই হবে।
কিন্তু আমি এই টুকু পারবো,নিজের মতো করে এই বর্তমান সভ্য সমাজের হাজারো অসহায় এর মনের আর্তনাদ,তাদের আক্ষেপ,আর তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো অগুছালো ভাবে হলেও লিখে যেতে।
আজকে বিয়ে হয়েছে 10 বছর ধরে।আমার শ্বশুর বাড়ি কোনো অভাব নেই।আমার জামাই সরকারি চাকরি করেন।অনেক শিক্ষিত।পড়াশুনা শেষ করেছেন।আমাকে অনেক পর্দায় রেখে দেন।আমিও আমার জামাই এর কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি।
শীলা নামের সেই মেয়েটি আমাকে কথাগুলো কেনো জানি আপন মনে বলে যেতে লাগলেন।আমি প্রথমেই একটু বিরক্ত হচ্ছিলাম।এই কারণে যে আরে আপনার লাইফ স্টোরি শুনতে কল এর এই প্রান্তে আমি দাড়িয়ে আছি নাকি!.
শিলার সাথে আমার পরিচয় হয় ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার এ আসার পর।আমি একজন ফ্রিল্যান্সার। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ করি।
পাশাপাশি নিজের সিনিয়রদের সাথে সমন্নয় করে কাজ করি।আমার প্রতিষ্ঠানের হয়েও কাজ করি।
হঠাৎ একদিন আমাকে মেসেজ দিয়েছে..
আপু আমি কি আপনার সাথে কথা বলতে পারি?
অনেকেই কথা বলে,উনি বললে সমস্যা কি?
বললাম,জ্বী অবশ্যই আপু।
আপনি কল দিতে পারেন।কোনো সমস্যা নেই।
ফোন দিয়েই নিজের শশুরবাড়ি নিয়ে এত গুলো কথা শুনালেন!কি অদ্ভুত না?
যায় হউক
আমি বললাম আপনার শশুর বাড়ি কোথায়?নীলফামারী।
ও আচ্ছা।
আপনি বিয়ে করেছেন।খুবি ভালো
শশুর বাড়িতে দিব্যি ভালো আছেন।
আল্লাহ আপনাকে আরো সুখী করুন।
তা আপি,আপনি আমাকে কেনো কল দিয়েছেন?
সেটা যদি একটু বলতেন?
আপু আমি ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই।
আপনি যদি আমাকে বোন হিসেবে একটু গাইডলাইন দিতেন।
সেই কথা,বুঝতে পারলাম।
আপি আপনি বর্তমানে কি করেন?
আপু আমি MA পাস করেছি।
কিন্তু আমার জামাই আমাকে জব করতে দিবে না।
আমি হাতে পায়ে ধরেও অনুরোধ করেছি।
কিন্তু আমাকে সে কোনো ভাবেই জব করতে দিবেন না।
বলে তুমি বাসায় থাকবে,নামাজ কালাম পড়বে।বাসা সামলাবে।আমার সংসার দেখবে।এছাড়া আর কিছু করার নেই তুমার।
আমি বললাম,আপু আপনার হাসব্যান্ড কিন্তু খুব একটা অযুক্তিক কিছু বলেনি।
একজন বিবাহিত মেয়ের জীবনে বিশেষ করে মুসলিম মেয়েদের জীবনে সংসার ,স্বামী,বাচ্চাকাচ্চা এই সব আগে।
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তো অন্য বিষয়।
সেটা মেজর না।
আপনি যদি মনে করেন আপনার একটা জব বেচেঁ থাকার জন্য দরকার ।তো সেটা আপনি করতে পারেন।সেটা আমাদের ধর্মেরও বলেছে।কিন্তু পর্দা করে করতে হবে।আমি যদিও ইসলাম বিষয়ে সব কিছু জানি না।তবে একটু জানি।আর আপনার হাসব্যান্ড তো আপনার পাশেই আছেন।
তাহলে তো জবটা আপনার লাইফ এ উহ্য।সেটা না করলেও চলবে।
আমার কথা গুলো শুনে মেয়েটি কান্না করা শুরু করে দিয়েছে ।
ফুপিয়ে ফুলিয়ে কান্না করছে,আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি।
আমি একটু অবাক আর বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।
আমার কথা আসতেছে না এই ভেবে যে উনার কি ব্যাক্তিত্ব আদো আছে?আরে একজনকে চিনে না জানে না।অপরিচিত মানুষের সামনে এই ভাবে কান্না করছে!
নাকি উনি কষ্টে কান্না করছেন? উনার কি আসলে কোনও আক্ষেপ আছে জীবনে।
যদি থেকেও থাকে,সেটা চেনা নাই,জানা নাই এমন মানুকে কেনো বলবে। যায় হউক, এই বিষয় গুলো তো আর আমি সলভ করতে পারবোনা।
সাধারণত অপরিচিত কোনো মানুষের সামনে মানুষ নিজের কষ্ট এতো সহজেই বলে না।
বিশেষ করে একজন ভালো ব্যাক্তিত্বের মানুষ সেটা কখনোই করে।
নিজের লোকদের কেই তার সমস্যার কথা বলে না।আর তো অপরিচিত।
আমি আর কিছু বললাম না।
থাক হয়তো উনার কথা গুলো বলে ভালো লেগেছে।হয়তো মনটা হালকা হয়েছে।
সে বলুক।কোনো সমস্যা নেই।
আপনার কিছু করা দরকার ।সেটা কেনো আপু?
সেটার প্রপার কোনো কারণ আছে কি আপি?
শীলা নির্দ্বিধায় বলতে লাগলো,আপি আমার পঙ্গু বাবাকে কিছু দেওয়ার জন্য হলেও আমাকে কিছু করতে হবে।আমার ছোট্ট বোনকে মায়ের ভালোবাসার অভাব পূরণ করতে হলেও আমাকে কিছু করতে হবে।
আমার সেই ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ যেন আমি কিছুটা দিতে পারি ।সেই জন্য হলেও আমাকে কিছু করতে হবে।
কথা গুলো আমার কাছে অদ্ভুত রহস্যময় মনে হলো।
কিছুতো একটা আছেই।
চোখের জল অত সহজেই আসে না।
আপি আপনি কি আমার কথা গুলো শুনে বিরক্ত হচ্ছেন?
শীলা আমাকে এই প্রশ্নটি করার পর আমি বুঝতে পারলাম।আর যাই হউক,প্রচন্ড ভদ্র ঘরের একটা মেয়ে শিলা। যার মাঝে আছে ব্যাক্তিত্ব।
আর উনার কথা গুলোর মাঝে একটা শব্দও অশুদ্ধ নয়।
স্মার্টনেস এর বিন্দু মাত্র অভাব নেই তার মাঝে।
হয়তো আছে কাউকে না বলতে পারা অনেক যন্ত্রণা দায়ক অভিযোগ।যা তিনি হয়তো আজকে আমাকে বলতে যাচ্ছেন
আমাদের মানুষ জাতির মাঝে অনেকেই আছেন চাপা স্বভাবের।সহজেই কাউকে বিশ্বাস করে না।নিজের ভালো লাগা খারাপ লাগা কারোর সাথে শেয়ার করে না।
সেটা আপন কেউ হলেও বলে না।
উনি হয়তো তেমন একজন মানুষ।
হয়তো বা মনের মাঝে জমা আছে না বলা অনেক অনেক সপ্ন।
হয়তো নিজের ফ্যামিলির পাশে দাঁড়াতে না পারার এক সমুদ্র পরিমাণ ব্যার্থতার গ্লানি।
হয়ত বোনের কাছে নিজেকে দায়িত্ববান বোন হিসেবে প্রকাশ করতে না পারার এক বিশাল আক্ষেপ।
হয়তো ভাইকে জড়িয়ে,আমার বাড়িতে আসিস ভাই।
এইটা না বলতে পারার এক পৃথিবী পরিমাণ যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত।
আপনার বাবা কি করতেন আপি?
আপি আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।আমরা 3 ভাই বোন।আমি বড়ো।আমার ছোট একটা ভাই ও আমার ছোট একটা বোন আছে..
আমরা পিঠাপিঠি।
আমার বয়স যখন 6 বছর।তখন আম্মু মারা যায়।
বাবা আর বিয়ে করেননি।আমাদের মানুষ করে গেছেন।
আমার ভায়ের বয়স ছিল তখন 4 বছর আর আমার পিচ্ছি বোনের জন্মের কিছুদিন পর মা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান।
ও তখন অনেক ছোট। ওকে নানু বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।আর আমি থেকে যায় বাবার কাছে।বাবা আমাকে স্কুল এ নিয়ে যেতেন।আমি পড়াশুনাই খুবি ভালো ছিলাম।
আমার নানু বাড়ি কাছেই ছিল।আমি অনেক সময় আমার ভাই বোনদের সাথে সময় কাটিয়েছি।
আমি এই জীবনে কোথায় সেকেন্ড হয়নি।
পড়ালেখায়,খেলা দুলাই,কোনো প্রতিযোগিতা
সেটা বলেন লেখা লেখি,বা অন্য কিছু।
আমি প্রথম হতাম।
আপি জানেন,আমি লেখা লেখিতে ইন্টার মিডিয়েট এ থাকা অবস্থায় জেলা পর্যায়ে ফার্স্ট হয়েছিলাম।আমার বাবা খুবি খুশি হয়েছিলেন আমার উপর।আমার মামা অনেক ভালোবাসতো আমাকে।আমার মামাতো বোন আমার সাথেই পড়াশুনা করতো। দীপ্তি অনেক অনেক বেশি ভালোবাসতো আমাকে।মামা মামীর থেকেও বেশি ভালোবাসতো আমাকে।আমি যখন HN ফাইনাল ইয়ার এ উত্তীর্ণ হয়।
তখন আমার জীবনে ঘটে যায় এক অঘটন।আমি আমার স্বামী, করিম ইসলাম।যাকে আমি ভালোবেসে বিয়ে করে ফেলি।আমার জীবনের চরম বিপর্যই হয়তো তখন থেকেই শুরু।
যে বাবা আমাদের জন্য বিয়ে অব্দি করলেন না।আমাদের সুখের রচনা লিখতে লিখতেই যে বাবার পুরু জীবন টা খরচ করে দিলেন। আমি সেই বাবাকে ঠকিয়ে দিলাম ।হয়তো আজকে আমি সেই শাস্তি পাচ্ছি।
আমি যে মামা নানুর ভালোবাসায় বড়ো হলাম।তাদের সবাই কে ভুলে গিয়ে আমার শুধু বেক্তিগত সিদ্ধান্ত কে এতটা মূল্য দিয়ে ফেললাম।
যায় হউক আপি,আমার জীবনের কি হয়েছে কি হয়নি।আমি কত ভুল করেছি সেটা হিসেব করে লাভ নেই।
তবে আমার জীবনের চরম একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল রিলেশন করে বিয়ে করা।
আমাকে ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গিয়ে আমি তাকে বিয়ে করি।কিন্তু এখন বুঝতেছি। এখান থেকে আমাকে পিছে ফিরে যাওয়া সম্ভব না।শাশুড়ি হয়তো সরাসরি বলেন না।কিন্তু আমি বুঝতে পারি।আমি যেনো বাড়িতে যেতে না পারি।সেই মত কথা বলেন উনি আমার সাথে।বলেন আমার সংসার আগে।
এখন আর বাবার বাড়ির কথা ভাবলে হবে না।
আমার জামাই বলেন, থাকো না।বাসায় গিয়ে কি হবে বলো।অযথা তুমার সংসারে অশান্তি হইবে।
তাই আমি চাই দরকার নেই যাওয়ার বাসায়।তুমার বোন তো আছেই।
আজকে আমার বোন বাবার সাথে থাকে।আমার ভাই বাইরে থেকে পড়াশুনা করছে।
কিন্তু যখন বোনটাকে বিয়ে দিবে।তখন আমার বাবার কি হইবে?
আবার কান্না!
কান্না থামে না।
আচ্ছা আপু।আমাদের মেয়েদের বিয়ের পর কি বাবা মার উপর থেকে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
যাদের জন্য পৃথিবী দেখলাম।তাদের শেষ জীবন পর্যন্ত পাশে রাখার অধিকার কি আমাদের মেয়েদের নেই?
আমরা কি পারি না ভাই বোনকে নিয়ে এক সাথে থাকতে।
আপু থাকতে পারতাম হয়তো ।
যদি আমার আমিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতাম।
আজ যদি আমার জব থাকতো ।আমি হয়তো আমার নিজস্ব সত্তা তৈরি করতে পারতাম।যেই সত্তায় হয়ত আমার আসে পাশের সবাই জায়গা পেত।হইত আজকে আমার রক্তকে এভাবে দূরে রাখতে হতো না।আমার বাবাকে আমি আমার পাশে রাখতে পারতাম।আমার সেই ছোট্ট বোনকে হয়তো কলেজ যাওয়ার আগে নিজে রান্না করে এক মুঠু ভাত খেতে দিতে পারতাম।
যাওয়ার আগে হাতে 20 টা বা 30 দিয়ে বলতে পারতাম।
মন দিয়ে পড়াশুনা করবি।কোনো ফাঁকি বাজি করবি না।
আজ হয়তো ওকে একসাথে বাবা আর সংসারের রান্না বান্না করতে হতো না।
আপু জানেন, ও হয়তো অনেক অভিমান করে আমার উপর।হয়তো ভাবে আপু আমাদের একটুও দেখতে আসে না।
আমার খুঁজ নেই না।
আমার মা নেই সেই অভাব টা হয়তো ও বেশি ফিল করে।
ওর হয়তো অনেক খারাপ লাগে,যে বয়সে মায়ের আঁচলে থাকার কথা সে বয়সে তাকে সব দায়িত্ব নিয়ে চলতে হচ্ছে।
আজকে আমি বাবাকে আমার কাছে নিয়ে আসতে পারছিনা,কারণ আমার সংসারে কোনো ইনভেস্ট নেই।আমি তো টাকা দেই না।
তাই আমার বাবা কে কেনো অন্যের ছেলে খাওয়াবে। এই কথাটা আমি শাশুড়ির থেকে শুনেছি।আমি অনেক অনেক কান্না করেছি এই বিষয়টি শুনে।কাউকে বলতে পারিনি।
একবার বোন এসেছিল।
ওতো থাকতে পারবো না।এইটা আমিও জানি আমার শশুরবাড়ি সব লোক জানে।
তবুও খাবার দেওয়ার সময় আমার শাশুড়ি বলে ফেলেছিল,খাবার খেয়েই চলে যাও।তুমার বাবাটা না জানি কি করতেছে।
অথচ যাওয়ার সময় আমার বোন আমাকে বলেছিল।
আপু আমি না আব্বুর জন্য সব কিছু রেডী করে রেখে এসেছিলাম।আর নানুকে আমাদের বাড়িতে রেখে এসেছিলাম।তুমার সাথে একটা রাত থাকবো বলে।
কিন্তু আমি না বুঝতে পেড়েছি।এখানে থাকা যাবে না।
তুমি হয়তো শুনোনি শীলা আপু
তুমার শাশুড়ি রান্না ঘরে বলতেছিল তুমার ননদকে ফোন দিয়ে যে আজকে আসিস না।বৌমার বোন এসেছে।জানি না যাবে না কিনা।
হয়তো থাকবে।
তুই আসলে আবার কোথায় থাকবি।
তাই আমি চলে যাচ্ছি আপু।
তুমি একদিন সময় নিয়ে আমাদের বাড়িতে যেয়ো শীলা আপু।আব্বু আর তুমাকে নিয়ে আমরা অনেক মজা করবো।আর আমার ভগ্নেটাকে নিয়ে যেয়ো।
শীলা কথা গুলো আমাকে বলছিলো আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতেছিল।
জানেন আপি।আমি কাউকে আমার শশুর বাড়ির সমস্যা বলতে পারিনি।কারণ আমি নিজেই তো সিলেক্ট করেছি।
নিজের পায়ে নিজে কুঠার মেয়েছি।
কেউই আমাকে সাপোর্ট দেইনাই ।
হয়ত তাদের কে কষ্ট দিয়েছি তাই।
নিজের মামাদের ভরসা হারিয়েছি।
আমার কপাল আমি খেয়েছি।
আমার মামাতো বোন এখন এমেরিকায় থাকে।আমি জীবনে সব দিক থেকেই পিছিয়ে গেছি।
নিজের বোনকে আমি মায়ের মত সাপোর্ট দিতে পারিনা।ভায়ের জন্য আমার বাসায় জায়গা হয়না।
আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপি আপনি MA পাস করলেন কিভাবে?
উনি বললেন,এইটার বড়ো গল্প আছে।
আপু জানেন আমি বইটা পর্যন্ত কিনে নিতে পারিনি।উনি আমাকে বলেন যে,আর পড়াশুনা করতে হবে না।যা হয়েছে তাই।
আমাকে বিয়ের সময় বলেছিলেন তুমার সপ্ন আমি পূরণ করব।
কিন্তু এখন উনি আমার সাথে পুরু উল্টো আচরণ করছেন।
আমি মাস্টার্স এ ভর্তি হয়েছিলাম আমার মামাতো বোনের টাকা দিয়ে। ও আমাকে হেল্প করেছিল।
আমি বই ছাড়া মাস্টার্স ফাইনাল এক্সাম দিয়েছিলাম।
আমার গ্র্যাজুয়েশন এখন রান্না ঘরকে সঙ্ঘ দেই।
আমার MA পাস সার্টিফিকেট এখন আমার বিবেকের সাথে খেলা করে।আমার শেখা প্রতিটা বর্ণ আমাকে ধিক্কার দেই।
আমার জীবনে অর্জন করা প্রতিটা পুরস্কার আমাকে
হেসে বলে,কি করবি আমাকে দিয়ে।নিজের এতিম ভাই বোনকে দেখিয়ে বলবি কি? যে দেখ আমি কত ভালো ছিলাম।যে ভাই বোন এর পাশেই থাকতে পারনা তুমি।তাদেরকে এসব দেখাতে তুমার খারাপ লাগবে না।
কি হবে তুমার সেই প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব দিয়ে।
কি হবে আজকের সেই সকল সার্টিফিকেট গুলো দিয়ে যা আজকে তুমার কোনো কাজেই আসে না।
কি করবে তুমার এই সব অর্জন দিয়ে যা তুমার অসহায় ভাই বোনকে বাবাকে কাছে রাখার পথ দেখিয়ে দিচ্ছে না।
যে শিক্ষার আলো আজকে তুমার পঙ্গু বাবার জন্য হুইল চেয়ার হয়ে আসতে পারে না।কি দরকার আছে জীবনে এই সবের।কিবা দরকার আছে সেই শিক্ষার স্বীকারোক্তির।
যে হাত দিয়ে আজকে তুমি তুমার পুরু সংসার সামলে রাখছ।অথচ তুমি তুমার বাবার জন্য রান্না তৈরি করতে পারছ না।নিজের বোনকে এক লোকমা খাবার তুলে দিতে তুমার অনুমতি লাগে।
নিজের ভাই বোনকে তুমার কাছে রাখার জন্য চরম হীনমন্য অবস্থায় পড়তে হয়।
অনুমতি নিতে জনে জনে ।
আমার শীলা আপুর কথা শুনে মনে হলো..
প্রতিটা মেয়ের তার নিজস্বতা থাকা উচিৎ। নিজের বলে কিছু থাকুক।
যেখান থেকে অন্তত তার রক্ত ফিরে যাবে না অপমানিত হয়ে।জন্ম দাতা বাবাকে দেখতে যাওয়ার জন্য লাগবে না অনুমতি পত্র।
ভাই বোনকে বুকে জড়িয়ে ধরতে লাগবে না কোনো ভিসা,পাসপোর্ট বা অন্য কোনো শর্ত।
হউক না একটু নিজের মত করে প্রতিটা মেয়ের বেচেঁ থাকা।হউক না একটা পরির মত রাজ্য।
মেয়েরা কখনোই তার সংসার কে অবহেলা করে না।
কিন্তু তাদের ও ব্যক্তি সত্তা আছে।তারাও মানুষ।তারাও কোনো পরিবারে বড়ো হয়েছে।তাদের বাবা মা ভাই বোন আছে।
আমাদের বর শ্রেণীকে বলতে চাই।
ভাইয়া তুমরা তুমাদের বিবেককে এক দিকে ঠেলে দিয়ো না।যে মেয়েটিকে নিজের পরিবারে নিয়ে আসো দায়িত্ব নিয়ে ।
এই বলে যে তার ভালো মন্দ আমার।তার পরিবার মানেই আমার পরিবার।তাকে বিয়ের পর পরিবার থেকে মানসিক ভাবে,শারীরিক ভাবে দূরে রাখার জন্য এই বাজে অজুহাত গুলো দেখাও।এই সব মনুষ্যত্বহীন মানুষের পরিচয় বহন করে।যে পরিবারে মেয়েটি 20 থেকে 25 বছর বড়ো হয়। তাদের থেকে নিয়ে আসা হয় ।
ভাই তাদের প্রতি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে থাকা।এইটা কি মগের মুল্লোক নাকি?
তাদেরকে যে সংসারে দুহাই দেখাও,বাচ্চা কাচ্চার দোহাই দেখাও।ভাই নাও না একদিন সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে। দাও না সেই মেয়েটি 2 দিনের জন্য ছুটি।ঘুরে আসুক না নিজের সেই চির চেনা ভূমিতে।যেখানে সে কাটিয়েছে নিজের শৈশব,কৈশোর । যাদের সাথে মিশে আছে তার আত্মার সম্পর্ক।
শিলার কথা গুলো আমার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছিল।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম।
ফ্রীল্যান্সিং শিখতে কিছু ইকোনমিক সাপোর্ট লাগবে সেটা কি আপনার হাসব্যান্ড দিবে?
আপনি যেহেতু রোজগার করেন না।
সেক্ষেত্রে কি করবেন আপনি?
আর বলবেন না আপু।
আমি ওর পায়ে পর্যন্ত ধরবো।বুজবো অনেক ।যদি রাজি হয় দিতে। তাহলে দিবে। আর যদি না দেই আমি আমার মামার বাড়িতে বলবো।
জানেন আপি আমি আপনাকে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না।কারণ আমি আমার জামাই এর কাছে হাত খরচের টাকা চাইতেও ভয় পাই।
একদিন আমাকে ও মাত্র 100 টাকার জন্য আমার গায়ে হাত তুলেছিল।আমি সেই টাকাটা আমার ভাইকে লোড দিয়েছিলাম।ওকে না বলে টাকা টা নিয়েছিলাম।
আমি উনার স্ত্রী,উনাকে না বলে যদি কিছু নাই নিতে পারি।এমন জীবন এর কি আর দাম থাকে বলেন।
পরাধীনতার বেড়া জালে আমি বন্দী।আমার সপ্ন গুলো আজ দিশেহারা।
আমার ব্যাক্তি সত্তা বলতে কিছুই নেই।
আমি এই বাড়িতে জাস্ট ইনস্ট্রাকশন পালন করা একটা যন্ত্র।আমার না আছে আবেগ,না আছে অনুভূতি।
আর না আছে অধিকার।
শীলার সাথে আমার সেদিন 3 ঘণ্টার মতো কথা হয়েছিল।
সেই অভিজ্ঞা আমার রুহকে কাপিয়ে দিয়েছে।
শুধু শীলা না।বাংলাদেশে এমন হাজার হাজার শীলা আছে।যারা সংসারের জাতা কলে পিষে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যাদের জীবন টা কেউ কিনে নেই একটা সাইন এর সাহায্যে। যাদের অস্তিত্ব বিক্রি হয়ে যায় অন্যের মতাদর্শের আইনের মাঝে।
যাদের বের হওয়ার আর সুযোগ থাকে না।সেই মায়া জাল থেকে।হয়তো সন্তানের মায়ায় নয়ত বা মান সম্মানের মায়ায়।
যদি এমন টা না হতো,তাহলে বলা যাই।
হাজার হাজার কোটি কোটি মেয়ে এর যোগ্য জবাব দিতে পারতো।হয়তো বা সে মেয়েটি তার পরিবারের কাছে কখনো মেয়ে হিসেবে বাবাকে মাকে সহযোগিতা করতো।হয়তো বা ভাই বোনের পাশে ঢাল হয়ে দাড়ানোর সাহস পেত।
উনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল।
আপনি মাস্টার্স কোথা থেকে করেছেন।
তিনি বলেছিলেন,আমি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষ করেছি জো লোজি থেকে।
আমার তখন মনে হয়েছিল।
সম্ভাবনাময় একটা প্রতিভা হারিয়ে গেছে একটা ভুল সিদ্ধান্তের বেড়া জালে।
যে কিনা হতে পারত বাবার সাহস,বোনের ছায়া,আর সমাজের একটা প্রতিষ্ঠিত নারী।
যার থাকতো নিজস্বতা।থাকতো নিজেকে নিয়ে ভাবার একটা পরিবেশ।
কিন্তু একটা সিদ্ধান্ত তার পুরু জীবনকে উলটপালট করে দিয়েছে।
বানিয়ে দিয়েছে মেরুদন্ড হীন একটা মানুষ।
যার চাওয়া, পাওয়া,আবেগ,অনুভূতি,ইচ্ছে আর সপ্ন গুলো অন্যের ইচ্ছে নামক জেলে বন্দি।
যাকে চাইলেও কোনো উকিল, বা আইন সেখান থেকে বের করে আনতে পারবে না।
Comments
Post a Comment