বড়লোক

মায়ে, বাসায় আজকেও আসবে না?

কেনো বাবা?

না আজকে বাড়িতে অনেক মেহমান আসছে।আমাদের মাদ্রাসার সভা।তুমি আসবে না?

তুমাকে না পরশু দিন বললাম যে 27 তারিখে সভা।সবাই আসবে, তুমিও আসো।

ও আচ্ছা।আব্বা আমার তো মনেই ছিলনা।

ঠিক আছে আব্বা,দেখি চেষ্টা করবো যাওয়ার জন্য।সন্ধার আগে পৌঁছে যাবো বাড়িতে,যদি যায়।

চিন্তা করো না।

একটু কাজের চাপে আছি আব্বা।তাই নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা।আমার ফ্রিল্যান্সিং এর একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে তো আজকে।তাই আমি কথা দিতে পারছিনা।

স্যারের সাথে কথা বলে,যাওয়ার চেষ্টা করবো আব্বা।

একদিন কিছুই হবে না।

একটু আসো।

3মাস থেকে বাড়ি আসো না।আজকে একটা ফাংশন বাড়িতে।সবাই জিজ্ঞেস করতেছে।

আমার বাসা ফাঁকা।আমার বাড়িতে কেউ নেই।

কেমন জানি একটা চাপা কষ্ট বাবার কথাতে বুঝতে পারলাম।

আমি কথা হারিয়ে ফেললাম। একদিন আমি বাড়ি থেকে চলে আসার সময় আব্বা বলেছিলেন,আমার 7 জন ছেলে মেয়ে।অথচ আজকে আমার পাশে কেউ নেই।

যখন তোরা ছোট ছিল,সেই সময় টাই ভালো ছিল।

আমি বাজার থেকে তোদের জন্য খাবার নিয়ে আসতাম,আর তোরা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতি,

আমি আগে,আমি আগে ধরেছি আব্বাকে।

আমি নাকি বলতাম

 এইটা আমার একার আব্বা।তুমরা খাবার নিয়ে যাও।সমস্যা নেই।আমি আব্বার কাছে বসে থাকবো।

 আব্বার সেই দিনের কথাটি মনে পড়ে গেলো।

আমি বললাম,ঠিক আছে মন খারাপ করো না। 

বাবা কেনো যেনো বাচ্চাদের মত বলতে লাগলেন,আজকে আমি কাউকে পাশে পাইনা।

রফিক,শাহীন কেউ ছুটি পায়নি।

শুধু তুমার বড়ো আপুরা আসছে।আর বউরা বাড়িতে আছে। কেমন যেনো একটা কান্না কান্না ভাব।


আব্বার এমন কথা শুনে,আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না।

বললাম ঠিক আছে আব্বা।যাবো।

চিন্তা করো না।সময় মত পৌঁছে যাবো।

এখন কান্না থামাও আব্বা।

আব্বা চুপ হয়ে গেলেন।

আমি স্বর্ণা।মেসে থেকে পড়াশুনা করি।বিএসসি তৃতীয় বর্ষ,গণিত।

সেই সাথে ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করছি।কিন্তু ক্যারিয়ার এর জন্য ও পড়াশুনার জন্য বাসায় আগের মত যাওয়া হয়না।আগে এমন কোনো শুক্রবার নেই,যে বাসায় যায়নি।

সপ্তাহে শুক্রবার মানেই ছিল বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো।

সকালে আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গা।

এইতো পিঠা বানাইছি,ঠান্ডা হয়ে গেল।

উঠোনা স্বর্ণা।

যদি না উঠতাম,আবার একটু পর গিয়ে বলতো,ঘুম থেকেই উঠেই তো রেডী হয়ে চলে যাবে মেসে।

তো খাবে কখন।মুখ কি দেখবো না।

হাহাহা...

এই সব কথা শুনে শুনে আমার প্রতিটা শুক্রবার কেটে যেত।আমি বাড়ি গেলে,আম্মা শাক দিয়ে পিঠে বানিয়ে দিত।ঝাল পিঠা।শাকের ঝাল পিঠা আমার অত্যন্ত প্রিয়।

সেই দিন গুলো হারিয়ে গেছে।

বড়ো হওয়ার সাথে সাথে জীবনে অনেক কিছুই অটোমেটিক পরিবর্তন হয়ে যায়।


ইন্টারমিডিয়েট এ পড়তাম।তখন মেসে 3 দিন টানা থাকতে পারতাম না।

আর আজ 3 মাস থেকে বাসায় যায়না।

অথচ আমার মেস থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব মাত্র দেড় ঘন্টার জার্নি।

যায় হউক,বাবাকে বুজিয়ে কল কেটে দিলাম।আমি বিকেল পাঁচটা সময় বের  হলাম।বাসায় পৌঁছলাম সন্ধা সাড়ে 6 টায় ।

বাসায় লোকের অভাব নেই।দাদুর বোন,আমার খালারা, ফুফুরা,আমার বড়ো আপুরা।আমার নানু বাড়ি থেকে মামা মামিরা।আমার নানু বাড়ি কাছেই তো।

সবাই আমাদের বাড়িতে।

আমার একটু বেশি ভালো লাগা কাজ করলো।

বাসায় গিয়েই আব্বাকে নিয়ে খেতে বসলাম।

আব্বার সাথে কথা হয়েছিল 12 টায়।

আমি আর দুপুরের খাবার খাইনি।

মিল অফ করে দিয়েছিলাম।বাসায় যাওয়ার সাথেই আম্মা খেতে দিবে,এটাই জানি আমি।

আর হলো তাই।আব্বা বলতেছে,খাবার দাও স্বর্ণাকে।ক্ষুদা লেগেছে।

আসলে পৃথিবীর প্রতিটা  বাবা মা মনে হয়,সন্তানের মুখ দেখেই বুঝে যায়।এদের মধ্যে কি চলছে।আমিও শিকার করলাম যে ক্ষুদা লেগেছে।

আব্বা তুমিও নাও।

আমি আর বাবা খাবার খাচ্ছি।

আচ্ছা আব্বা,আমি না আসলে তুমি মন খারাপ করো কেনো?

এখন আমি বড়ো হয়ে যাচ্ছি না।

আব্বা হাসতেছে আর বলতেছে, হায় হায় কি বড়ো হয়ে গেছে।বাড়িতে সবাই আসছে,তুমি না আসলে হয়।

ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

কথা শুরু করেছিল হেসেই,কিন্তু শেষমেশ আবার চোখে পানি চলে এলো বাবার।আমি বললাম,ঠিক আছে।আর কান্না করতে হবে না। আসছিত ..

আমিও হাসতেছি...

আম্মা পাশে বসে আছেন।

আম্মা বললেন,তুমি সবার ছোট,তুমাকে সবাই খুঁজে বাড়িতে আসলে।তুমার আপারা আসছে।তুমার ভাগ্নি আসছে।এসেই বলতেছে,নানু খালা আসবে না।

এই সব কথা শুনলে ভালো লাগে।

বল?

ঠিক আছে আম্মা।

এখন খুশি হয়েছ?

আম্মা,আব্বা, আপুরা, সবাই রুম এ যারা যারা ছিল 

সবাই হাসতে লাগলো আমাদের কথা বার্তা শুনে।

খাবার খেয়ে শিফাকে একটু গুছিয়ে নিও তো।

আব্বা আমাকে কথাটি বললেন।

শিফা আমার বড়ো আপুর দ্বিতীয় মেয়ে।এইবার নবম শ্রেণিতে পড়ে।দেখতে শুনতে খুবি সুন্দর।শিফার বড়ো রিফা।তাকে গত বছর বিয়ে দেয়া হয়েছে।

এখন এলাকার লোকের চোখে এই শিফা পড়তে শুরু করেছে।

আব্বা কেনো ?

কি হয়েছে?

আজকে তো অনেকেই আসবে বাড়িতে।তো শিফার একটা বিয়ের কথা বলেছে তুমার জহির কাকা।

ছেলে কমিউনিটি ক্লিনিক এ জব করে।সরকারি জব।ছেলেও দেখতে শুনতে খুবি ভালো।ছেলের বাবা মেম্বরি করেছে 10 বছর।ছেলেরা 4 ভাই।ছেলের বাবা অর্থ সম্পদ রয়েছে ভালো।15 থেকে 20 বিঘা জমি আছে।আর আমাদের পাশের গ্রাম তো।আমি ভালো করেই চিনি। ছেলের দাদাও অনেক জমি জমার মালিক।ছেলের চাচা 3 টা।তবুও তারা দাদার থেকে 20 বিঘা করে পেয়েছে।

পুরানা গিরস্থ।

সব মিলিয়ে দেখলাম,ছেলেটা প্রতিষ্ঠিত।

ছেলের বাবার 30 বিঘা জমি আছে।ছেলেটাই বড়ো।

বিয়ে দেওয়া খারাপ হবে না।যদি পছন্দ করে।ওরা বলেছে,মেয়ে সুন্দর নিবে।

আর কিছুই দেখবে না।আমার মেয়ে জামাই এর অবস্থা তো ভালো না।সেটা আমি জানি।কিন্তু জহির তো মানে না।

বলে,ভাই তুমি নাতি দেখানোর ব্যবস্থা করো।

ওরা শুধু মেয়ে নিবো।তুমার মেয়ের জামাই এর কি আছে,কি নেই।সেটা ওরা দেখবে না।

আর মানুষের অর্থ সম্পদ আজ আছে কাল নেই।

ওই সব নিয়ে ভেব নাতো।

তাই আমি কথা দিয়েছি যে নাতিকে আমার বাড়িতে দেখাবো।

আমি বললাম,ছেলের বাবার নাম রকিব।

ছেলের নাম রিমন।

তাই না আব্বা?

হুঁ,হুঁ,তাই।

আমি চিনি আব্বা।ছেলেকেও আমি দেখেছি।কিন্তু আব্বা ওদের সাথে দুলাভাইদের মিলবে না।

দুলাভাই তো এখন ঋণে জর্জরিত।

আমার বড় দুলাভাই,আমার বাবাও নিজের বড়ো মেয়েকে ছেলের বাবার জমিজমা দেখে বিয়ে দিয়েছিলেন।আপাদমস্তক একটা মূর্খের সাথে।জীবনে কোনো কাজ করতো না।সংসার নিয়ে পরে থাকত।হিসাব পাতি কিছুই বুঝতো না।ধান চালের কারবারি করতো।আর ধরা খেতো।এই ভাবে তিনি আজ অনেক ঋণের ভাগিদার।

6 লাখ টাকার ঋণ উনার ঘাড়ে।

এখন তিনি উপায় না পেয়ে কাজে জান।

কথা আছে না একটা,

বুন্ধা পুড়ে হাতে আসলে,মানুষ তখন বুঝতে পারে যে   যে তার হাতে আগুন লেগেছে।এর আগে বুঝতেই পারেনা।যে তার জীবন সংসারে আগুন লেগেছে।

সেটা হলো অভাবের আগুন।

উনার হয়েছে তেমন অবস্থা।

যায় হউক,জমিজমা বন্ধক রেখেছেন সব।

ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আছে 2 জন।

সবার বড়ো ছেলে আপুর।ছেলেটা এইবার ইন্টারমিডিয়েট ফাইনাল দিয়েছে।তার পর মেয়ে,সেটা বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।তারপর এখন শিফা।

আব্বা বললেন,আমিও সেটা তুমার জহির কাকাকে বলেছি,যে আমার মেয়ে জামাই এর কিছুই নেই এখন।যদি আমার নাতিকে দেখে নিতে পারে।তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

যায় হউক,আমি আসলে বিয়ে সা-ধি তে বিরক্ত।কিন্তু আব্বাকে আর বুঝতে দিলাম না।

ছোট মানুষ।এক সাথে 2 বোন ঘরে ছিল,এই অজুহাতে বড়ো টাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।কিন্তু এখন দেখছি এরা শিফা কেও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আসলে গ্রামের মানুষ,এদের মনোভাব বুজা দায়।

আমার ছোট আপুকে দেখলাম,অনেক খুশি।

বড়ো আপি কথায় নেই মুখে।আম্মা হাসতেছে।আব্বাও দেখলাম অনেক টা আশাবাদী ।

তাই আমি আর কোনো নেগেটিভ কিছু বললাম না। চুপ থেকে গেলাম।

পরে জিজ্ঞেস করলাম।

আব্বা আমাকে কি এর জন্যই আরো বেশি তাগাদা দিয়ে নিয়ে আসলে?

আমার বাবা অনেক সহজ সরল।তিনি বললেন,বিষয়টি তেমন না।

তবে তুমার জহির কাকা তুমাকে আসতে বলেছে।

বলেছে মেয়েটাকে বাড়িতে নিয়ে আসো।

শিক্ষিত মানুষ।ছেলে দেখলো। একটু ওদের সাথে কথা বললো।সমস্যা কি?

তাই তুমাকে আসতে বলেছি একটু জোর দিয়ে।

আমি বললাম,আমি ছেলেকেও চিনি।

ছেলের বাবাকেও চিনি।

কিন্তু ছেলেটা বেশি লম্বা না।

ছোট মানুষ।

বেশি বয়স হয়নি।

আব্বা বললেন হুঁ,ওর দাদা নাকি নাতি বউ দেখবে।তাই বিয়ে করাবে।

ঠিক আছে আব্বা,আসুক লোক।

আমিতো বাড়িতেই আছি।

আবার মেজু ভাই আর সেজু ভাই বাড়িতে নেই।

উনারা থাকলে হয়তো,আমাকে থাকতে বলতেন না।

উনারা কর্মস্থলে।

আমি বেপারটি বুঝতে পারলাম।

তাই আর কিছু বললাম না।

রাত প্রায় 9 টা বাজে।তখন 3 জন লোক আমাদের ঘরে আসলেন।একজন জহির কাকা।

আর একজন ছেলে আর তাদের পক্ষের একজন।

সম্ভবত ছেলের বাবার গোয়েন্দা।

গ্রামের মানুষ যাকে বলে,মেম্বারের চেলা পেলা।

আমাদের বসার ঘরেই নিয়ে বসানো হলো।মেয়ে রেডী করে নিয়ে যাওয়া হলো।দেখা শুনা হলো।মেয়েকে সম্মানী হিসেবে 1000 টাকা দেওয়া হলো।

বুজা গেলো,ছেলেটি মেয়েটিকে পছন্দ করেছে।

অবশ্য,এই বিষয়টি আমি বুঝিনি। মানে আমার বড়ো ভাবি বললেন,ছেলের মেয়ে পছন্দ হয়েছে।

উনার সেদিন তেমন কিছু খাওয়া দাওয়া করেননি।

কিছু ফলমূল আর হালকা নাস্তা করে চলে গেলেন।

জহির কাকা বললেন,ভাই জানাবো।

এদিকে সবাই সভা নিয়ে ব্যস্ত।আর আমাদের বাড়িতে সেদিন বিয়ের মত আয়োজন।

আমি শীফা কে কিছু বললাম না।

বাচ্চা পুলাপান।এখনো কোথায় কি বলতে হয়,সেটাই বুজে উঠে না।

একে দিয়ে দিবে বিয়ে।

মনে মনে আমি এই কথা গুলো ভাবতে থাকলাম।

সবাই সভাতে চলে গেলেন,আমি তখন ঘুমানোর উদ্দেশ্য শুয়ে পড়লাম।

আমার আব্বু নতুন বাড়ি করেছে।কিন্তু আমাদের দাদুর বাড়ি আর আমাদের বাড়ির দূরত্ব মাত্র 30 সেকেন্ড এর রাস্তা।দাদু বাড়ির বড়ো উঠানে মহিলারা বসে সভা শুনার জন্য।প্রতি বছর ওখানেই পেন্ডেল করা হয়।

আমি বাড়ি থেকেই শুনি শুয়ে শুয়ে।

কখন যেনো ঘুমিয়ে যায়।

কিছুই জানি না।

আমাদের বাড়ির সভা,তবুও আমি সেই ভাবে শুনি না।

আল্লাহ আমাকে মাফ করুন। যদিও এইটাকে সুযোগ মিস করা বলে।

কারণ অনেক মানুষ যারা দুর দূরান্তে গিয়ে সভা শুনে এসে।আর আমি বাড়িতেই সভা,সেটাও শুনিনা।

ছোট ছিলাম যখন,তখন আমাদের নান্নু দাদুর বউয়ের সাথে অনেক অনেক জায়গায় সভা শুনতে গিয়েছি।দাদী অনেক ধার্মিক ছিলেন

কোথায় সভা হবে,শুনলেই চলে যেতেন।আর আমাদেরকে ডেকে বলতেন,কে কে যাবি?

আমি,আর আমার ছোট আপুর বয়সী 2 জন ফুফু ছিলেন।আমি তখন উনাদের সাথে মিশতাম।

তাই আমরা একসাথে সভা শুনতে যেতাম।

এখন আর ইচ্ছে হয়না।

দাদু মারা গেছেন।ফুফুরা বিয়ে করেছেন।আমি বাইরে থাকি।আসলে ছোট সময় যে দিন গুলো কাটাতাম,সেটাই জীবনের বেস্ট সময়।এর থেকে বেশি ভালো কিছু জীবনে আসে না।

যায় হউক,ঘুমিয়ে পড়লাম।

পরদিন সকালে বড়ো আপু ডেকে বলতেছে,

স্বর্ণা,শীলা চলে যাচ্ছে।তুমি উঠনা।

একটু 3 বোনে এক সাথে খাবার খাবো।

কি অবস্থা।

উঠ উঠ...

শীলা আমার ছোট আপু।

আমি এক লাফে উঠে পড়লাম।

দেখি 10 টা বাজে।আরে আমাকে ডাক দিবে না আগে।

আর আপু এখনি যাবে কেনো?

বিকেলে একসাথে বের হবো সবাই।

এখন যাওয়ার দরকার নেই।

আমি ফ্রেশ হয়ে উনাদের সাথে খাবার খেতে বসলাম।

এই সময় জহির কাকার কল আসলো আব্বার মোবাইল এ।ওরা নাকি সিফাকে দেখতে আসতেছে।

কী বলিস তুই এইসব জহির,আমার বাসায় কোনো প্রস্তুতি নেই।

বললেই হলো নাকি।

না ভাই,তুমি চিন্তা করো না তো।

ছেলের ছবি নিয়ে গেছে না মোবাইলে তুলে।সবাই দেখছে।ছেলের মা দেখেছে।এখন সবাই বলতেছে,আমরা একটু মেয়েটা শুধু দেখবো।

যাবো আর আসবো।

কোনো কিছুই করতে হবে না।

কত জন আসবে?

মহিলা মানুষ যাবে তো,

এই 8 ,10 জন।

তাহলে দুপুর পরে আসতে বল,আমি একটু রান্না বান্নার ব্যবস্থা করি।আমার বাড়িতে এত গুলো মানুষ এসে না খেয়ে যাবে ।এইটা কেমন কথা?

আমাদের শুধু রান্নার সময়টা দে।

আসলে বিষয়টি হলো,ছেলের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়িতে হেঁটে আসলে মাত্র 15 মিনিট।

কিন্তু গাড়িতে আসলে, মাত্র 5 মিনিট লাগবে।

তো এত গুলো মানুষ আসবে,মেয়ে দেখতে ।

উনাদের অ্যাপায়নের একটা সুযোগ ও সময় দিতে হবে না।তাই বাবা সেভাবে বলছিলেন জহির কাকাকে।বললেন,গীরস্থ বাড়িতে কোনো মেহমান আসলে,না খেয়ে যাওয়া ভালনা।

কিন্তু কে শুনে কার কথা।

উনারা 30 মিনিট এর মধ্যে 9 জন মহিলা আমাদের বাসায় আসলেন।

আবার মেয়ে রেডী করানো হলো।

হালকা খাবার যা যা করা যায়,সেগুলো রেডী করা হলো।ফলমূল যা ছিল,সেগুলো তাদেরকে দেওয়া হলো।

মেয়ে দেখার সময় নিলো 1 ঘণ্টা।

মেয়ের সাথে একরকম ভালোই গল্প করা শুরু করলেন

উনারা।আমি বিরক্ত হতে লাগলাম।

এই ভাবে কি মেয়ে দেখে নাকি।

অবশ্য আমার অভিজ্ঞতা নেই।

তবুও অনুমান করা যায়।

উনারা মেয়ের সাথে মিশে,সব কিছু যাচাই করছিলেন। হায় দুনিয়া।

মানুষ কতটা এখন চালাক।

চলে গেলেন,দেখে শুনে।

জহির কাকা নাকি,সকাল 7 টা সময় একবার আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন।

উনার আসার কারণ ছিল, আপুরা চলে গেছে কিনা ।সেটা জানার জন্য।নয়তো না জেনে উনাদের আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসবে,কিভাবে।

যদি না পাই।

অবশ্য পরের বার আব্বার নম্বর নিয়ে গিয়েছে।

আমি একটু ভাবলাম।

উনারা হয়তো মেয়ে পছন্দ করেছেন।

নয়ত এত সকালেই মেয়ে দেখতে আসবেন কেনো?

পরে বাকিটা ঘটকের থেকে পরিষ্কার হলাম।

মহিলারা সবাই চলে যাওয়ার পর জহির কাকা বললেন,মেয়ে ওদের পছন্দ হয়েছে।

2 একদিনের মধ্যেই মেয়েদের বাসায় গিয়ে ফাইনাল করা হবে বিয়ে।

আব্বা কাকাকে মজা করে জিজ্ঞেস করলেন,কি নিবে উনারা?

আসলে বর্তমান বাংলাদেশে যৌতুক ছাড়া বিয়ে নেই।

হয়তো মেয়ে সাজাতে হয়,নয়তো মেয়ের বাবাকে টাকা গুনতে হয় মুটা অংকের।

যৌতুকের পরিমাণ  আরো বেশি হয়,যদি ছেলে সরকারি জব করে।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও হয়তো হার্ট অ্যাটাক করতেন বর্তমান যৌতুকের ডিমান্ড শুনলে। উনার সময় তো ব্যারিস্টারি পাস অথবা MA পাশের মূল্য ছিল শুধু।

এখন দিন মজুর ছেলের জন্যও যৌতুকের পরিমাণ 5 লাখ টাকা।

আর MA পাশ বলেন আর ব্যারিস্টারি বলেন,সার্টিফিকেট এর মূল্য নাই।

মূল্য হলো ছেলের সরকারি জব আছে কিনা।

মূর্খ হউক, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক যে পাসই থাকুক না কেনো।

যদি শুধু সরকারি করে,তাহলে 30 থেকে 40 লাখ টাকা মূল্যের যৌতুক চেয়ে বসে।

শিক্ষিত ভাষায় বলে,আপনাদের মেয়ে সাজিয়ে না দিলে লোকে কি বলবে!আর আপনাদের শিক্ষিত একটা জামাই পাবেন,সরকারি চাকরি ওয়ালা।তাকে একটা বাইক না দিলে সমাজে মুখ দেখাবে কেমনে ছেলেটা।ওর একটা মানসম্মান আছে না।!

আর আপনার মেয়ের সংসারে সুখ দুঃখ আপনাকেই দেখতে হবে।তাইতো মেয়ের যেনো কোনো কষ্ট না হয়।বাড়ি ঘর সাজিয়ে দিতে হবে।এইসব এখন বলতে হয়না।

আগে সরাসরি চাইতো,এখন একটু মার্জিত ভাষায় বলা হয়।হাহাহা...

আমাদের বাসার পাশেই রেহানা কে সেদিন এক প্রাইমারীর কেরানীর সাথে বিয়ে হয়েছে।

15 লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করলেন।অথচ পিছনের খবর কেউ জানে না।ওর বাবা জব্বার আলী,2 বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছে।

সমাজের দিকে তাকাতে গিয়ে প্রতিটা বাবা নিজের দিকেই তাকাতে পারে না।

অভাবকে দাতে দাত কামড়ে সহ্য করে।

তবুও সে নিশ্চিত না,যে তার মেয়েটা আদো সুখি হবে কিনা?


আমার নিজের বান্ধুবী শিখা।

ও ওর বাবার এক মাত্র মেয়ে,ওর নামে 4 বিঘা জমি লিখে দিয়েছে।সাথে মেয়েকে গয়না দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে।ছেলেকে বাইক দিয়েছে।শিখার বাবার আছে দিয়েছে।কিন্তু বাংলাদেশে সব বাবার ঘরে একটা করে শিখা নেই।কারোর ঘরে 5 টা পর্যন্ত শিখাও আছে।

আবার শিখার বাবা সজীব সাহেবের মত সবাই সম্পদশালী নয়।

হাজার হাজার বাবা দিন আনে দিন খায়।

এদের মত কিছু মানুষের জন্য সমাজের যৌতুকের যাত্রা উন্নতি হচ্ছে দ্রুত।

যারা টাকা দিয়ে অন্যের সুখকে কিনে নেই।

সজীব সাহেব নিজের মেয়েকে 

পুলিশ এর জব করে এমন একজন ছেলে দেখে বিয়ে দেন।

যার লেনাদেনার হিসাব করতে রবীন্দ্রনাথের হাত কেপে উঠতো।আর হয়তো কালিও ফুরিয়ে যেত কলমের।

এখন 12 বছরের একটা ছেলের মায়ের মুখে গল্প শুনতে পাওয়া যায়,যাক ছেলেটাকে বিয়ে করবো 5 লাখ টাকা নিয়ে।2 বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে দিবো।

চলে যাবে ওদের জীবন।

আমাদের সমাজের চিন্তা ধারায় এখন এমন হয়ে গেছে।যৌতুক যতো তত তার বড়লোক ঘরে বিয়ে।

খাতা কলমে ভাষায় বড়লোক বলা।এদের সত্যিকারের মানুষ বলা যাই না।

সেটা অবশ্য আমি ঠিক করার কেউ না।

এত কিছু আর ভাবতে পারবো না।

তাই বলেছি,,,রবীন্দ্রনাথের সময় যৌতুক ছিল শুধু প্রতাপ শালী দের মাঝে।

কিন্তু এখন 2023 এ যৌতুকের অগ্রযাত্রা প্রতিটা বাঙ্গালীর রক্ত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।


বিয়ে মানেই,একজন বাবার উপর একটা দুর্বিষহ যন্ত্রণার ভার।যে ভারে হারিয়ে যায়,প্রতিটা বাবার মুখের হাসি।

বিয়ে নামক শব্দটি তখন খুশির পাত্র থেকে হয়ে পরে দায়িত্বের পাত্র।

সংসার থেকে মেয়ে চলে যাওয়ার সাথে সাথে একটা বাবার সব অসহায়ত্ব যেনো আরো মাথা চারা দিয়ে উঠে।



ছেলের হাতের আংটি আর বাড়ি ঘরের জিনিস পত্র এইটা কমন বিষয় হয়ে গেছে।বিয়ে হলো মানেই এইসব অটোমেটিক পেয়ে যায়।


এটাই আমাদের বর্তমান সমাজের অবস্থা।

কাকা বললেন,না না ।কি নিবো।

যুগ হিসেবে যদি তুমরা ইচ্ছে করে মেয়েকে কিছু দাও।সেটা আলাদা কথা।

আব্বা বললেন,না রে আমরা কিছুই দিতে পারবো না।

তুই উনাদের বিষয়টি বলে দিস।জহির কাকা আব্বার বয়সে ছোট ।তাই তুই করেই বলে।

ঠিক আছে ভাই।

আমি জেনে জানাবো।

কাকা চলে গেলেন।আমি সেদিন বিকেলে চলে আসলাম।পরের দিন ছোট আপু কল দিয়ে বলতেছেন,

স্বর্ণা বিয়ে মনে হয় এইটা হবেই।

হলে তো ভালোই।

ওরা নাকি আবার গিয়েছিল আব্বার কাছে।

কালকে নাকি যাবে আপুদের বাড়িতে।

তাই আজকে আপু ঘরের দরজা,জানালা,

সিলিং দিল।

ঘর তুলেছে নতুন।অনেক কাজ বাকি আছে।টাকার জন্য ঘর বাড়ি ঠিক করতে পারছিলেন না।

আর এই সময় মেয়ের বিয়ে ঠিক হবে।

 লোক বাড়িতে আসবে।তাই দুলাভাই 50 হাজার টাকা ঋণ করে ঘর বাড়ি ঠিক করলেন।

পরের দিন যথা নিয়মে ছেলের পক্ষ থেকে লোক গেলেন উনাদের বাড়িতে।আমাকে যেতে বলা হলো।

তাই আমিও পৌঁছে গেলাম।

30 থেকে 40 জন মানুষের আয়োজন।

মুটামুটি এখানেও 20 থেকে 25 হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।


লোক আসছে 15 জন।

আমি এই জীবনে প্রথম দেখলাম।

বিয়ে ঠিক করতে 15 জন লোক যায়।

মেয়ের পক্ষের কাকা জেঠা যারা ছিল ডাকা হলো।

সবাই বসেছে কথা ফিক্সড করার জন্য।

লেনা দেনার কথা চলে আসলো কথা বার্তার মধ্যে।

সব মুরুব্বীরা বসেছেন তো।আমি বসে আছি, জাস্ট আব্বার পাশেই।

লেনা দেনার কথা উঠতেই আব্বা বললেন, আমি আগেই বলেছি।আমরা কিছু দিতে পারবো না।

আমার নাতিকে আমার ইচ্ছে করে যা দেই,সেটা দিবো তো।ওর বাবা কি দিবে,সেটা ওর বাবা বুজবে।এখানে দলিল করার মতো কিছু নেই তো।সবার সামনে বলার দরকার কি আছে।

চুক্তি পত্র হওয়ার কথা ছিল না।আব্বা কানে কানে কথা গুলো জহির কাকাকে বললেন।

আব্বা একটু রাগী মানুষ।

আর উচিৎ কথা বলতে জানেন।

কিন্তু আব্বাকে সেদিন দেখেছি, সম্মানের ভয়ে কিছুই বলতে পারছেন না।

আসলে আব্বা হয়তো এটাও ভাবছিলেন যে,

একজন বাবা তার মেয়েকে ভালোবেসে অনেক কিছুই দিতে পারে।

কিন্তু তার সেই অবস্থা নেই।

দুঃখজনক হলেও,এটাই সত্যি যে,

এইটা বাবা হিসেবে উনার  এটা অপারগতা।

আব্বা কোনো কথা বললেন না।

পরে মেম্বার এর এক লোক,তিনি বললেন আমাদের সব কিছুই পছন্দ হয়েছে,মেয়ে বাড়িঘর।

আপনার এগোচ্ছেন না কেনো?

মেয়ে বিয়ে দিবেন ,কি কি দিবেন অথবা কি কি নিবেন সেটা বলবেন না?

তখন আব্বা বললেন,আপনাদের যদি মেয়ে পছন্দ হয়।

তাকে কি দিয়ে নিয়ে যাবেন সেটা আপনাদের বিষয়।

এমনেই নিতে পারেন।আবার যদি মনে করেন,না।

গয়না দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাবেন।সেটাও পারেন।

কিন্তু মেয়ের বাবা কি দিবে কি দিবে না,সেটা নিয়ে এই খানে কথা বলার কোনো দরকার নেই।

জহির কাকা তো বুঝতেই পারছেন,কি হতে যাচ্ছে।

কাকা আব্বাকে ডেকে নিয়ে আলাদা ভাবে বললেন,

যে দেখ রোহান ভাই।যুগ প রে গেছে এই লেনা দেনার।

অযথা সময় ও টাকার অভাবে ভাল সুযোগ মিস কর না। 

তুই বলিস নাই কেনো যে উনাদের চাওয়া পাওয়া আছে।

আমি আমার মেয়ের জামাইয়ের এই সময়ে এত টাকা পয়সা খরচ করতে দিবো না। দিবো না কি।তাদের তো সামর্থ্য নেই। ফাঁকা আওয়াজ দিয়েছিস তুই।আমি তোকে বার বার বলেছি।তুই শুধু বলেছিস,মেয়ে নিবে।

বিয়ে আরো 5 বছর না দিলেও সমস্যা নাই।তুই বললি এক আর করতেছিস অন্য।

এইটা ঠিক না।

আচ্ছা আমাকে একটা সত্যি কথা বলবি এখন জহির?

বল ভাই।

বলতো ওরা আসলে কি চায়?

কাকা হাসতেছে।আমিও আব্বার পাশেই দাড়িয়ে আছি।কথা শুনছি ।আমরা 3 জন।

কাকা বললেন, দেখো ওরা 4 ভরি গয়না আর ছেলের জন্য একটা বাইক চাই।

আব্বা বললেন বাইক কত টাকার মধ্যে নিবে?

2 থেকে আড়াই লাখ এর মধ্যে হলেই হবে।

জহির তুই কি জানিস বর্তমানে স্বর্ণের দাম কত টাকা ভরি?

হুঁ জানি।

এক লাখ টাকা ভরি ।

তাহলে আমার খরচ কত পড়বে?

সাড়ে ছয় লাখ টাকা।

আর বিয়ের সময় ছেলের বাড়ি থেকে মিনিমাম 100 লোক আসবে।ওখানে খরচ হবে সব মিলিয়ে মিনিমাম 2 লাখ টাকা।

সব খরচ হবে সাড়ে আট লাখ টাকা।

তুই বলেছিলি কিছুই নিবে না।

আমি বলেছিলাম, আমার মেয়ের জামাই এর অবস্থা ভালনা।টাকা পয়সা দিতে পারবে না।

তুই সব কিছু জেনেও আমাদের এমন বিপদে কেনো ফেলে দিলি। আমার মেয়ের জামাই আজকে যে খরচ টা করেছে এই উদ্দেশ্যে সেখানেই তো 70 হাজার টাকা ঋণে পরে গেছে।

কাকা কোনো কথা বলে না।

আমি আব্বাকে বললাম ,তুমি কি এই বিষয়টি নিয়ে আরো এগুবে।

আব্বা বললেন না।

তাহলে আমার সাথে আসো।

আমি কথা বলবো।

বিয়ে ঠিক করার সভায় গেলাম।

বললাম,দেখেন আপনারা অনেক বড়লোক মানুষ।

আপনাদের চাহিদা অনেক।

আমরা আমাদের মেয়ে বিয়ে দিবো না।

আমাদের আপনাদের খাওয়ানোর যোগ্যতাও নেই।

দয়া করে আপনারা আর বিষয়টি নিয়ে কথা বাড়াবেন না।

আপনাদের সরকারি জব,আপনাদের 30 বিঘা জমি,আপনাদের স্মার্ট ছেলে,আপনাদের বংশ মর্যাদা,আপনাদের প্রভাব প্রতিপত্তি ..

সব সব থাকলেও 

আমার হিসেব মতে কিছুই নেই।

কারণ,আপনারা মিথ্যে বলেন।

আর আপনাদের মধ্যে অনেক লোভ কাজ করে।

নিজের এত থাকা সত্বেও যার অন্যের সম্পত্তির দিকে নজর থাকে ।আর যাই থাক,তার মনো সংকীর্ণতার বিশাল প্রাচুর্য রয়েছে।

আর আমরা সেরকম পরিবারে যেতে চাই না।

আমি সেদিন বুজে ছিলাম,জীবনে মানুষের চাওয়ার শেষ থাকে না।

কিছু কিছু নাম ধারি বড়লোক আছে।যাদের বাস্তবিক অর্থে অনেক টাকা পয়সা থাকলেও এদের মন অনেক অনেক ছোট।

এরা অর্থকে আর মানুষকে সমান চোখে দেখে।

এদের কাছে মানুষের চেয়ে টাকার মূল্য বেশি

যায় হউক।

এক সপ্তাহ পরে সেই বিয়ের জন্য উনারা আবার লোক পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু আমি সুজা বলে দিয়েছি,,,

তার থেকে মেয়েকে মেরে ফেলো।

এটাই ভালো হবে।

আসলে ভালোবাসার জিনিস যখন বুজা হয়ে যায়,তখন সেই ভালোবাসার জিনিস টাও নিজেকে নিজের কাছে বুজা মনে করে।

হাজারো মেয়ের পক্ষ থেকে লেখা 

হাজারো শিফা একদিন পরিবারের কাছে নিজেকে এভাবেই অপরাধী ভাবতে থাকে। পৃথিবীর প্রতিটি শিফা সাকসেসফুল প্রজেক্টে পরিণত হউক ।

এই কামনা

যেমনটা ভেবেছিল কল্যাণী...



















Comments

Popular Posts