কি আর করার!
ছাদের একপাশে বসে বসে ভাবছি কি আছে এই জীবনে?হতাশায় জর্জরিত আমার হৃদয় ভূমি।জীবনের এক প্রতি আমার একরাশ অভিযোগ।একা একা আর পথ চলতে ইচ্ছে করেনা।খাবার খেতে গেলেও আমার বিরক্তি আসে।মনে মনে আমি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছি।এই 29 বছর বয়সে নিজের মনের বিরুদ্ধে আর কত
যুদ্ধ করা যায়!
জীবনের অন্তিম পর্ব নয়,তবুও জীবনের প্রতি এই বিতৃষ্ণা নিয়ে সুদীপ্তার চোখ দিয়ে অজরে জল পড়ছে।বুঝতেই পারছে না,সে নিজের মাঝে আছে কিনা!
পিছন থেকে দীপার স্পর্শ তাকে চেতনায় ফিরে আনলো।
সুদীপ্তা তখনও বুঝতেই পারেনি,যে সে কান্না করতেছে।
কিছু বলবি দীপা?
আরে আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করতে আসিনি।
আমিও ছাদে সময় কাটাতে এসেছিলাম।দেখলাম তুই আনমনে ছাদে বসে আসিস।একা একা তাও আবার।তাই তোর কাছে চলে আসলাম।
কিন্তু তুই কেনো এতো বিষণ্ণ?
তোর চোখে পানি কেনো?
সুদীপ্তা তখন বুঝতে পারলো,জীবন অংকের কোথায় ভুল,সেটা খুঁজতে গিয়ে কখন যে সে বেদনায় কান্না করতেছিল,সেটাই সে বুঝতে পারনি।
দ্রুত চোখ মুছে বললো,কই না তো ।
মন খারাপ না।
এমনেই বসেছিলাম।
আমরা হাজার হাজার মন খারাপের সময়কে কিছু না বলে চালিয়ে দেই।
অনেকেই ভেবে নেই,হয়তো কিছু হয়নি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো,কিছু তো একটা আছেই।যেটা সে ফেস করতেছে।
হয়তো মাইন্ড ডাউন,নয়তো ,ফ্যামিলি পেরা।
নয়তো জীবনের কাছে হেরে যাওয়ার মত কোনো গল্প তার বিষণ্ণতার কারণ হয়ে আছে তার বিশাল হৃদয়ের আকাশে।
আমরা সেটা সবাই বুঝতে পারিনা।
আমাদের চারিপাশের সবকিছুকেই তারা নরমাল দেখাতে পায়।
অথচ তাদের সাভাবিকতা হারিয়ে গেছে।
তাদের মধ্যে প্রাণোচ্ছ্বল হাসিগুলো কান্নার সুরে পরিণত হয়েছে।
নিজেকে তারা বড্ড অগুছালো মনে করে।
কিন্তু দীপা সেটা মেনে নিল না।
তুই অনেক ক্ষণ থেকে এখানে বসে আছিস।
আর তোর মাঝে তুই নেই।
কান্না করতেছিস।
সেটাই বুঝতে পারছিস না?
আমাকে বলবি কি হয়েছে?
যদি না বলিস,কখনো আমি তোর সাথে কথা বলতে আসবো না।
বলে দিলাম।
দীপা আর সুদীপ্তা একসাথে পড়াশুনা করে।
জীবনের সেই প্লে জীবন থেকে তারা একসাথে পড়াশুনা করে।
যেখানে যাই একসাথে।
কেউ কারোর থেকে কোনো বিষয় লুকিয়ে যায়না।
সেই সুদীপ্তা আজকে নিজের মনের কথা দিপাকে বলতে পারছে না।
এই ভেবে দীপা কষ্ট পাচ্ছে।
সুদীপ্তা এইবার দিপাকে জড়িয়ে ধরে হাও মাও করে কান্না শুরু করে দিলো।
দীপা আরো বিচলিত।এমন কখনো হয়নি।
ওকে সবসময় সে অনেক স্ট্রং দেখতো।
কিন্তু আজকের বিষয়টি একেবারে ভিন্ন।
দিপাও ওকে সময় দিল।
মাঝে মাঝে কান্নাতেও মন ভালো হয়।
বলা যায় ,ওই দুর আকাশে মেঘের মতো।
মেঘ আকাশের বুকে জমা হয়,অন্ধকার নিয়ে আসে।
কিন্তু সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় ,যখন বৃষ্টি হয়।
আমাদের জীবন টাও ওই দুর আকাশের মতোই।
এখানে দুঃখ গুলো মেঘের মত।
আর এই মেঘ হালকা হয়,তখন আমরা কান্না করি।
অথবা আমাদের কষ্ট গুলো কারোর সাথে ভাগ কর
তাই দীপা ওকে কান্না করতে দিল।
কিছুক্ষণ পর দিপা কথা বলা শুরু করলো।
আমাকে বলবি,আজকের এই কান্নার কারণ কি?
এবার সুদীপ্তা চোখ মুছে বললো,তোকে বলেছিলাম না আমি একটা প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুল এ যুক্ত হয়েছি।
আমি না অনেক শান্তি পাচ্ছিলাম।
এই ভেবে,কিছুটা হয়তো এখান থেকেও করা সম্ভব।
আমার জবের বয়স আছে মাত্র এক বছর।
করুণার জন্য 2 বছর পাবো।
কিন্তু আমি এতদিনেও কিছু করতে পারলাম না।
বাকি দিনে কিবা হবে।
আবার কান্না....
তুই চুপ করতো।
সব হবে।এখনই ভেঙ্গে পড়ছিস কেনো?
আমি জানি তোর চেষ্টার কমতি নেই।
কিন্তু চেষ্টাকে জীবন থেকে একেবারে বিদায় দিস না।
অনেক সময় আছে।
অনেক এপ্লাই করতে পারিস নাই,তো কি হয়েছে।এখন করবি।অনেক কিছু হবে এই 2 বছরে।
এখন বল,স্কুল এ কি হয়েছে?
আসলে আমরা 3 বছর প্রায় কোনো এপ্লাই করতে পারিনি।করুণার ঝড়ে যখন পুরু বিশ্ব থমকে গেছে,তখন আমাদের মত নিম্ন মধ্য বিত্ত দেশের আর কি বা করতে পারে।
কিন্তু সময় তো সময়ের মতোই চলেছে।
চলেনি শুধু আমাদের সপ্নগুলো তার সফল হওয়ার পথে।সপ্নগুলো যেনো থমকে দাড়িয়ে আছে সেই শুন্যে।যেখানে সে কোনো আশ্রয় পাচ্ছেনা।
গৃহহীন,লক্ষ্যহীন,মুসাফিরের মত অস্থায়ী পথের যাত্রী হয়েছে সেই সপ্ন গুলো।
ঠিক আমাদের জীবনের মতোই।আজকে আমরা যেমন,নিজেদের অস্তিত্বের খুঁজে দিশেহারা,ঠিক আমাদের সপ্ন গুলোও একই রকম অস্তিত্বহীন,দিশেহারা।
সময়ের বালিঝরে সব বিদিশিকাময়।
স্কুল এ কি খারাপ কিছু হয়েছে?
দেখ আমার সব টিউশন চলে গেছে।
আর আমার বাসা থেকে এখন টাকা নেওয়া সম্ভব না।
এখন এমনিতেই আমি বাসার সবার তীতা হয়ে গেছি।
জব হচ্ছে না।
তারপরও বিয়েও করতেছিনা।
এখন টাকা চাওয়া মানে বুঝিস?
আমাকে উঠতে বসতে ওই বিয়ে করছিনা,আর জবের খুটা দিবে।
তাই আমি আসলে টিকে থাকার জন্য মাত্র 3 হাজার টাকা বেতনের একটা প্রাইভেট স্কুল এ যুক্ত হয়েছি।
থাকা খাওয়া হলেই হলো।
তুই জানিস,আমার বাড়িতে ঘটকের আনাগুনা আমার জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
আমি কেমনে কোন সাহসে বিয়ের পিঁড়িতে বসবো ?
আমাকে বলতে পারিস?
আবার কান্না!
আরে কান্না করতে হবে না।
বিয়ে করবি না,বাড়িতে যাওয়া বাদ দিয়ে দে একেবারে।
দীপা আমি তো ইতোমধ্যে গত ঈদের পর থেকে প্রায় 10 মাস বাড়িতে যায়না।
ঈদে না গেলে নয়,তাই যেতে হয়।
নয়তো আমি বাসায় যেতাম না যতদিন জব না হচ্ছে।
ঠিক আছে,,
তুই চিন্তা করিস না তো।
বাসায় না গেলে,বিয়ে কোনো ভাবেই দিতে পারবে না।
আর তুই ভেঙ্গে পড়লে,আর ঘুরে দাঁড়ানো হবে না।
পরে কি হলো স্কুলে বল,,,,,,
আসলে দিপ্তা এতদিন অনেক অনেক বিয়ে রিজেক্ট করে আসছে ,একটাই কারণ সে কিছু করতে চাই।
কিন্তু তার চাওয়াটা হয়তো গুরুত্বহীন হয়ে পড়তো,
যদি না সে অসুস্থ হয়ে পড়ত।
হয়তো বিয়ে করে ফেলত,নিজের মনকে হয়তো সাই দিয়ে ফেলত।
কিন্তু এখন ও সম্পূর্ন মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
কারণ তার জব লাগবেই।
আমার বিয়ের দিন, ও হাসির ছলে বলেছিল,
আমাদের সব বন্ধু বিয়ে করে ফেলেছে,,
শুধু তুই ছি লি দীপা।
তুই ও গেলি।
সুদীপ্তা কে সেদিন দীপা মজা করে বলেছিল,
তুইও অতিশীঘ্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসে পর।
সেদিন দেখা গিয়েছিল,
ওর হাসি মাখা মুখটি মুহূর্তেই বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল,
শুধু নির্বাক একটা কথা বলেছিল,
দীপা তোর জন্য শুভ কামনা।
কিন্তু আমার জন্যও দোয়া করিস,
যেনো আমি অন্তত একটা কাজের বুয়ার টাকা ইনকাম করার যোগ্যতা নিয়ে শশুরবাড়ি যেতে পারি।
নয়তো আমাকে কেউ সংসারে রাখবে না রে।
বলেই ও আমার বিয়ের মণ্ডপ থেকে চলে গিয়েছিল।
সেদিন ওকে আমি আমার বিয়েতে আর পায়নি।
কিন্তু ও ওই সামান্য কথাতে যে এতটা রিয়াকশন দিবে বুজে উঠতে পারিনি।
আসলে সুদীপ্তা তার অসুস্থতার জন্য,,রান্নার ধারে কাছেও যেতে পারেনা।
হাঁচি আর হাচি।
শেষ মেস নিঃশ্বাস নিয়ে টানাটানি।
সুদীপ্তা কে এর পর থেকে কখনো বিয়ের কথা বলেনি দীপা।
সুদীপ্তা কান্না ভেজা গলায় বললো,
আমার সেই আসতেও গুড়েবালি হবে মনে হচ্ছে।
কেনো? কি হয়েছে?
আসলে আমি তো নতুন যুক্ত হয়েছি।
তো আমাকে অনেক নিয়ম,শিখতে হচ্ছে।
আমার লেখা সুন্দর করতে হচ্ছে।
তাই অনেক লেখালেখি করতে হচ্ছে।
আমাদের প্রিন্সিপাল স্যারকে আমি অনেক ভালো মনে করেছিলাম।
আসলে আমি ওখানে সরাসরি নিয়োগ পাই।
আমি নিজেই একদিন হুট করে দেখা করি অফিস এ।
বললাম,টিচার লাগবে কিনা আপনাদের স্কুল এ।
আব্দুর রাজ্জাক উনার নাম।
স্কুল এর নাম সুনালি সূর্য।
স্যার বললেন,জ্বী আপনি এখানে কাজ করুন।
আসলে আমি গিয়েছিলাম গত মাসের শুরুতেই।
আজ 1 মাস পূরণ হলো।
কিন্তু আমাকে শুধু বাংলা লেখা দেখাচ্ছেন।
আমি সব পারি।
তবুও স্যার আমাকে লেখা লেখি করতে বলেন।
প্রাকটিস এর জন্য শুধু জাতীয় সংগীত লিখতে বলেন উনি।
জাতীয় সংগীত কেনো লিখতে বলে জানিস না?
ওখানে আমি তোমায় ভালোবাসি লাইনটা আছে।
আমি প্রথমে বুজি নাই।
কিন্তু পরে বুজেছি।
আর গতকালকে নিশ্চিত হয়ে বুঝতে পেড়েছি,
উনার মনে কিছু বদ মতলব চলছে।
গত কালকে আমাকে স্যার বললেন,আপনি থ্রি ক্লাসে এখন ক্লাস নিন।
আমি যাচ্ছি স্যার।
কিন্তু আমি বের হওয়ার আগেই তিনিও বের হলেন।আর আমার আগে সিড়ি বেয়ে 2 তলায় গেলেন।ক্লাসটি দুতলায় ।
তো আমি ভাবলাম,হয়তো স্যারের কোনো ক্লাস আছে..
কিন্তু থ্রি ক্লাস এর সামনে দাড়িয়ে আমাকে কিভাবে ক্লাস নিতে হবে বুজাতে শুরু করলেন।
ভালো কথা ...
আমি কথা শেষ করে ক্লাসে ডুকতে যাচ্ছি,আমার সাথে স্যার ধাক্কা নিলেন।
আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম।
একটু সরি ও বললেন না।
আমার পুরু পৃথিবী কাল কেপে উঠছিলো।
সুদীপ্তা তুই চিন্তা করিস না।
একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। তোর অন্ধকার সময় কেটে যাবে।
আর যদি খারাপ লাগে ছেড়ে দে কাজ।
আসলে মেয়ে মানুষ।
এরা এক অদ্ভুত প্রকৃতির।
ছেলেদের দৃষ্টি কোন দিকে কত ডিগ্রী অঙ্গেলে হচ্ছে,
এক মাত্র মেয়েরাই বুজে।
তাদের দৃষ্টির প্রখরতা বুঝতে এক সেকেন্ড সময় লাগেনা।
তাদের কথা বলার সিস্টেম বলে দেই,,
তাদের মধ্যে কি চলছে।
এই সব কিছুই মেয়েদের সেন্সে ধরা পড়ে।
ওখানে তোকে কিছু করতে হবে না সুদীপ্তা
আমি তোর জন্য বেবস্থা করে দিবো।
তুই শুধু মন ঠিক রেখে পড়াশুনা কর।
আর আমার জব হয়েছে।
তোর টাকা যতো লাগে আমি দিবো।
কিন্তু তুই আমাকে কথা দে ছাদে এসে মন খারাপ করে কান্না কাঁটি করবি না?
আমি তোর পাশে সবসময় থাকবো।
আরে তুই আর কত ভাবে দেখতে পারবি ?
ঠিক আছে,,,, দীপা আমি তোকে বলবো যদি আমার টাকা লাগে।
দীপা সুদীপ্তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু।
ও ম্যাক্সিমাম সময় দীপা দের বাড়িতে খাবার খেতো।
নিজের বাড়ির মত সে ওই বাড়িতে যেত আসতো।
দীপা সুদীপ্তা রেখে কোনো কিছু খেতে পারতো না।
কোথাও গেলে,সুদীপ্তাকে লাগবে।
সব কিছুতেই দীপা ওকে মিস করতো।
সুদীপ্তা ও দিপাকে খুবি ভালোবাসতো।
তাইতো ওদের বন্ধুত্ব এখনো অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।
দীপা সুদীপ্তার একমাত্র বিশ্বস্ত ফ্রেন্ড।
দীপা হলো এই শহরের মেয়ে।
আর সুদীপ্তা বাইরে থেকে এসেছে। ও এসএসসি দেওয়ার পর ওর বাবা মা গ্রামে চলে গেছে।
নয়তো পুরু পরিবারই ছিল এখানে।
কিন্তু দিপার জব হয়েছে শশুরবাড়ি যাওয়ার পর পর।
হাসব্যান্ড সাপোর্ট করেছে।
ফ্যামিলি ছিল।
যায় হউক।
সুদীপ্তার এখন বলা যায়
করুন অবস্থা।
সুদীপ্তা এমন একটা মেয়ে, যাকে কখনোই কান্না করতে দেখেনি দীপা। ও কান্না করলে পরে আর কথা বলতে পারে না।
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ওর।
কিন্তু ওর জায়গায় আমি হলে,বাবা মাকে 24 ঘণ্টায় দৌড়ের উপর রাখতাম।
কারণ আমি হয়তো ওর মতো বুদ্ধি করে চলতেই পারতাম না।
ওর ফিজিক্যাল অবস্থা ভালনা।
পিরিয়ডিক সমস্যা, থাইরয়েড সমস্যা,কোল্ড এলার্জি,স্কিন এলার্জি,আর ব্রেস্ট টিউমার রয়েছে।
হার্ট এর সমস্যাও আছে।
একটা মানুষ এতগুলো সমস্যায় আছে, সুদীপ্তার মত কাউকে না দেখলে জানতাম না।
তাও আবার সেই ইন্টারমিডিয়েট লাইফ থেকেই ওর এই সমস্যা গুলো।
ওর ডক্টরের পিছেই খরচ হয়,3 থেকে 4 হাজার টাকা প্রতিমাসে।
ও নাকি এখন 3 হাজার টাকা দিয়ে পুরু মাস চলবে।
কথা গুলো দীপা ভাবতে থাকে।
আসলে মানুষ পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অনেক কিছুই ম্যানেজ করতে শিখে যায়।
ভাবা যায় কতটা মানসিক চাপ থাকলে মানুষ 3 হাজার টাকার জন্য 5 ঘণ্টা ডিউটি করে।
এই রকম পরিস্থিতি শুধু সুদীপ্তার নয়।
বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুণ তরুণীর।
বিশেষ করে মেয়েদের প্রতিকূলতা বেশি।
তারা তাদের বয়সের কাছে হেরে যায়,পরিবারের কাছে হেরে যায়, সমাজের কাছে হেরে যায়।
প্রতিযোগিতার জগতেও হেরে যায়,যেমন বাংলাদেশে কিছু বেকার আছে যারা প্রাইভেট কোম্পানিতে নিজের কর্ম খুঁজে নেই।
নিতে পারেন।
কিন্তু মেয়েদের জীবনে জব মানেই সরকারি হতে হবে।
ওরা আবার কিসের কোম্পানি বেশি পানিতে জব করবে।
ওদের জব মানেই সরকারি হলে হলো,নয়তো সে রান্না ঘরের চাকরি নিবে।
তার সার্টিফিকেট ভাত রান্নার লাকড়ি হবে।
এই হলো বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা।
জগতের সব স্বামী স্ত্রী যখন কাধে কাধ রেখে কাজ করছে,তখন বাংলাদেশে চলছে নানা সংস্কার।
একটা বাংলাদেশী ছেলে পড়াশুনা শেষ করে 25 বছর বয়সে।
তারপর দিনরাত না খেয়ে না দেয়ে পড়াশুনা করেও যখন চাকরি পাইনা।
তখন বাংলাদেশের সেই ছেলেরাই আবার বলে,মেয়েদের 25 এই বিয়ে করে সংসারী হওয়া উচিত।
কারণ বয়স হয়ে যাচ্ছে।
যদিও তারা জব পাই,দেখা গেছে চাকরিতে যুক্ত হতে হতে তার বয়স 31 বা 32।
আমি এই সমাজকে বলে যেতে চাই,
এই সমাজের মানুষকে বলে যেতে চাই।
যে সমাজের মানুষেরা মেয়েদের কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করো,পারবে না বলে।
তাদের বয়স হয়ে যাচ্ছে বলে,বার বার মনে করিয়ে দাও।
তারা চাকরি পাচ্ছে না বলে,
তাদেরকে সান্তনা দেওয়ার পরিবর্তে আরো হতাশ করো নানা কথায়।
তারা, বা তুমরা পুরুষরা নিজেকে তো পুরুষ বলে মনে করো,ছেলে মানুষ, নির্ভরযোগ্য সাপোর্ট,40 হলেও বিয়ের জন্য মেয়ে পেয়ে যাও।30 বা 29 বছর পর্যন্ত কুত্তার মত দৌড়াতে থাকো জবের পিছে।
সরকারি চাকরি না হলেও,তুমরা প্রাইভেট জব হলেও করো।
কিভাবে তুমরা আশা কর যে একজন মেয়ে 25 এ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
একটা মেয়ে 20 তে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারবে।
একটা মেয়েকে জব করতে হলে, দরকারিই করতে হবে।
এত উল্টা পাল্টা নিয়ম তুমরা কেমনে কোন সরমে তৈরি করো।?
দিপা মনে মনে সুদীপ্তা কে নিয়ে চিন্তিত অনেক।
জীবন টাকে কোথায় দাড় করিয়েছে।
ভাবলেই গা কাটা দিয়ে উঠে!
ও আবার সুইসাইড করে বসবে না তো!
হতাশা মানুষকে তার নিজের কন্ট্রোলে রাখে না।
হতাশা এমন একটা বিষয়,যা মানুষকে হিতাহিত বুদ্ধি কমিয়ে দেই,নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পায়না।
জঘন্য রকম ভাবে সে,নিজের মনের সাথে আপোষ করে নিতে পারেনা।
সুদীপ্তা তুই আজকে আমাদের বাসায় চল।
ওকে নিয়ে চলে যাওয়া হলো দিপাদের বাড়িতে।
সন্ধা হয়ে আসছে চারিদিক।
আকাশের পুরু নীল রঙ্গে ছিল।সেই আকাশ যেনো অন্ধকারের খাবারে পরিণত হচ্ছে।ধীরে ধীরে আকাশ এর নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছে।ওই অভিশপ্ত অন্ধকার যেনো পুরু আকাশের সুখকে কেড়ে নিচ্ছে। যেমনটা সুদীপ্তার আকাশে হতাশার ছায়া...ঠিক তেমন।
চারিদিকে বাতাস বইছে,মনে হচ্ছে হাওয়ার সাথে দীপ্তা কথা বলছে। হাওয়ারা ওকে বলে যাচ্ছে
কি হলো তোর ওই সোনালী সময় গুলোর সাথে কম্প্রোমাইজ করে। কি হলো নিজের সাথে নিজের সেই সূত্রগোলো প্রয়োগ করে,যা তুুমি খুব কষ্ট মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আবিষ্কার করেছিলে।
সেই ক্লাস ফাইভ থেকেই নিজেকে বলেছিলে অনেক বড় হবো জীবনে।ক্লাস ফাইভে পাওয়া বৃত্তি, JSC তে প্লাস,SSC,HSC BSC,MSC রুমে রেখে এখন কেনো জীবনে সেই যোগ নিয়োগ করতে এসেছো।
এই রকম হাজারো সুদীপ্তার জন্ম হয়েছে গত 2020 থেকে 2023 সাল পর্যন্ত।
কিছুই করার ছিল না।
ভাগ্য তাদেরকে শায় দেয়নি।
হারিয়ে ফেলেছে জীবনের ছন্দ, বিষিয়ে গেছে জীবনের সমস্ত মিষ্টতা।
একজন সাধারণ ঘরের ছেলে পেলে ঠিক এই রকম জীবন বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছে.....
আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী,আমারতো কিছু করার নাই।
এই হলো জেনারেল ফর্মুলা
বাংলাদেশের হাজার বেকারের।
Comments
Post a Comment