কেমন হলো?

 মাস এর শুরু মাত্র।আজ 2 তারিখ ।

কাজের চাপে নাদিরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পাচ্ছে না।

নাদিরা স্কুল থেকে এসেই তার লেপটপ টি নিয়ে বসেছে।

5 জন ক্লায়েন্ট এর সাথে কথা বলতে হবে তাকে।

তাই সে সেই কাজ গুলো একে একে সলভ করা শুরু করলো।কাজ শেষ হলো 6 টায় প্রায়।


কিন্তু তখনও সে ফ্রী না।

কিছু কাজ এর সমস্যা তার সিনিয়র থেকে জেনে নিল।

তারপর নিজের টীম এর খুঁজ নিতে বসেছে।

সব কাজ শেষ করে সে,

লেপটপ টা অফ করবে।

সেই সময় SMS দেয় তাহিরা ।তাহিরা নাদিরার স্নাতক লেভেলের ফ্রেন্ড।ফার্স্ট ইয়ার থেকেই পরিচিত।

এখন ওরা থার্ড ইয়ার এ পড়ে।

কিন্তু কিছু দিন থেকেই তাহিরা অসুস্থ।ওর জর হয়েছে । আবার পলিপাস।অপারেশন করতে হবে।

জেলা সরকারি হসপিটালে সে আজকে ভর্তি আছে।

ওর মা আসছে তাহিরা যে মেস এ থাকে।ওর যত্ন করবে বলে।কিন্তু উনি একটু সচেতন না।

শহরের রাস্তা ঘাট ঠিকঠাক  চেনেন না।


তাই ভুলে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু তাহিরা হসপিটালে। তাহিরার জামাই আছে।শিপন।

ওরা একই সাথে পড়ে।

কিন্তু সেও ব্যাস্ত।তাই সে বাধ্য হয়েই,আমাকে সন্ধা 7 টা 25 এর দিকে কল শর্ট মেসেজ দিয়েছে।

নাদিরা তখন ওয়াশরুম এ গিয়েছে একটু।

2 মিনিট পর সিন হয়েছে।

তাহিরা রেগে গিয়েই বলতেছে

কিরে সিন করিস না কেনো?


খুব স্বাভাবিক,

কারণ নাদিরা সবসময নেট এই থাকে।

কারণ ও অনলাইন কাজ করে।

যায় হউক,

এসে রিপ্লাই হলো,,,

হুঁ।

তাহিরা বললো,আমাকে অফলাইন এ কল দে।

তখনই নাদিরা বুজলো,

ওর ফোন এ কথা বলার জন্য টাকা নেই।

স্বাভাবিক নিয়মে টাকা নেই। ও বরাবর এমনি।

এত একটা জরুরি অবস্থা,,,তবুও ফোন এ ব্যালান্স নেই।


যায় হউক,নাদিরা একটু মনে মনে হাসলো

আর সাথে সাথে কল ব্যাক।


পরে জানতে পারলো,

 তাহিরা র আম্মা রাস্তা ভুলে গেছে। 

ওর আম্মা কে রিসিভ করতে হবে।

বাইরে অনেক ঠান্ডা।জানুয়ারি মাস।

কুয়াশা চারিদিকে।নাদিরা অনেক বিচলিত।

তাহিরা নাদিরাকে বললো,,আমাদের বাড়ির নম্বর এ কল দে।আম্মাকে পাবি।

তাহিরা 3 মিনিটে বুরকা পরে নিয়ে 30 এর মধ্যেই বেরিয়ে গেলো।

ব্যাগ চেক করে দেখলো তার কাছে 100 টাকা আছে।

কিন্তু তাহিরা অনেক আপসেট ছিল।

তাকে যেতে বলা হয়,দীঘির পাড়।

কিন্তু সে চলে যায় দীঘির চর।

সেখানে যেতে অটো ভাড়া 5 টাকা।

কিন্তু সে রিকশা দিয়ে গেলো।

10 টাকা খরচ।ওখানে গিয়ে দেখে তাহিরার আম্মা নেই।

পরে কল দিয়ে নাদিরা তার ভুল বুঝতে পারে।

সে অন্য জায়গা আসছে।

পরে আবার সে দীঘিরপাড় দ্রুত যায়।

আবার 10 টাকা খরচ করে।

সেখানে গিয়ে দেখে তাহিরার আম্মা 2 টা ব্যাগ নিয়ে বসে আছে একটা দুকানে।

রিকশা নিয়ে 10 টাকা দিয়ে চলে আসলো মেস।

মেসে গিয়ে দেখে,8 টা 5 বাজে।

সন্ধা সময় নাদিরার মেসে খালা আসছে।

কিন্তু ওর মিল হয়নি।

মিল দিতে ভুলে গেছে সে।কাজ করতেছিল ।মিল এর অর্ডার করতে পারেনি।

কিন্তু ভাত হয়েছে তার।

এখন নাদিরা চিন্তা করতেছে,কিভাবে কি দিয়ে খাবেন।

তাই সে ভাবলো,একটা ডিম ভাজি করে খেয়ে নিবে।

কিন্তু ডিম নেই।সে ডিম পছন্দ করে না।

অসুস্থতার জন্য অনেক টানা 2 বছর ডিম খেয়ে থাকতে হয়েছে।মাস মাংস সব নিষিদ্ধ ছিল।এমন বিরক্তি আসছে।

এখন সে নামও শুনতে পাইনা।

তবুও মাঝে মাঝে বিপদে পরে খেতে হয়।

আজকের মত।পরিস্থিতি হলে তবে।

কারোর থেকে ধার দিয়ে নিবে।

কারোর নেই ডিম।

বিপদে পরে গেলো।

এখন এই ডিমের জন্য,সে সন্ধা সময় বাইরে যাবে।

এইটা হইবে না।

তাই নাদিরা রাতে ভাত খাবে না।

এই সিদ্ধান্ত নিল।

পরে সে ওই নিউজ শুনলো।

তখন কি আর করার,

তাকে বাধ্য হয়েই বাইরে যেতে হলো।

যায় হউক,

সে যখন তাহীরার আম্মাকে ওর রুম এ দিয়ে আসতে যায়,সে তখন তার বোন তারাকে বলেছিল।তুমাদের ডিম আছে?

আমি নিয়ে এসে দিয়ে যাবো আবার।

কিন্তু বলল,আপি ডিম নেই তো।


তারপর তাহিরার আম্মা বললো,আমি মেয়েকে দেখতে যাবো।

নাদিরা ভাবলো।

একা একা কেমনে যাবেন?

আগামী কালকে সকালেই জান।

বলে না আমি এখনি যাবো।

তাই সে ভাবলো ,ইনি তো রাস্তা হারিয়ে ফেলেন।আবার মায়ের মন।না ও করা যায় না।

আবার কান্না শুরু করে দিবে এখনি।

একা একা কেমনে ছেড়ে দেয়?

তাই সে বললো, 

আপনি খাবার খেয়ে নিন।20 মিনিট এর মধ্যেই চলে আসুন আমার রুমে।আমি নিয়ে যাব হসপিটালে।

একা একা যেতে পারবেন না।

বলে সে রুম এ চলে আসল।

এসে  কিছু কাজ করে নিল।

তারপর উনি আসলেন,

হসপিটালে যাওয়া হলো।

রিকশা ভাড়া 30 টাকা।নাদিরা দিল।

তাহিরা র আম্মা দিতে চেয়েছিল।

সে দিতে দেইনি নাদিরা।


তারপর,তারা ওর সাথে দেখে করলেন।

নাদিরার একটা অনলাইন মিটিং আছে সাড়ে 9 টায়।।তাই 9 টা 2 এ হসপিটাল থেকে বের হয়ে এলো বিদায় নিয়ে।

তাহিরা র সাথে কথা বলার সময়,তাহিরা জিজ্ঞেস করলো,আম্মা ডিম নিয়ে এসেছ আমার জন্য?

তিনি বললেন,জ্বী নিয়ে আসছি।

নাদিরা একটু মনে মনে হাসল।

তারপর চলে আসলো ওরা।

নাদিরার ব্যাগ টাতে তখন 45 টাকা আছে।

আসার সময় নাদিরা আর ভাড়া দিলনা।

রিকশা থেকে নেমে নাদিরা 1 হালি ডিম কিনে নিল।

আন্টি নাদিরার সাথেই দাড়িয়ে আছেন।

তারপর চলে আসল তারা।


যারা গল্পটি পড়েছেন।তাদের উদ্দেশ্যে বলবো,

ব্যাক্তিত্বের পরিচয় দেওয়া হয়তো তুমার সম্মানের প্রশ্ন।

কিন্তু নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে চলাটা সবার আগে।


তাই পরে নাদিরা আর ব্যাক্তিত্বের পরিচয় দেইনি।

আর কি বলতো....?

তাকেই সব সময় ব্যাক্তিত্বের পরিচয় দিতে হবে?

কোথায় লেখা আছে!

মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে এই ভাবেও জবাব দেওয়া যায়।

আসার সময় সে যদি ভাড়া দিয়ে দিত,

তার অবস্থান বিন্দু মাত্র উনার মনে চেঞ্জ হতো না।

এই রকম অনেক মানুষ আপনি আপনার চার পাশে পেয়ে যাবেন।

যারা কিছুই জানে না।এই রকম ভাব ধরে থাকবে।

এদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার কোনো দরকার নেই।


নিজে ভালো থাকেন।

এতেই আপনি বেস্ট ফলাফল পাবেন।













Comments

Popular Posts