হাঁসি
হাসি শব্দটির সাথে চন্দ্রবিন্দু হয়না।কেউ এইটা নিয়ে বিব্রত হবেন না।
আমি চন্দ্রবিন্দু দিয়েছি,এই কারণে।
যে এই হাসি কমন হাসি না।আমরা প্রত্যেকেই যখন খুশি থাকি।সেই বিষয়টির একটা প্রকাশ ভঙ্গি হলো হাসি।
পৃথিবীর সব মানুষই হাসতে পছন্দ করে।আর এই বিষয়টি যে কারোর মাথা নষ্ট করে দিতে পারে। সেই ট্র্যাপে পড়ার ইতিহাস অহনার থেকে না শুনলে বুঝতেই পারতাম না।
কেউ হেসে নেই,অন্যের হাসি দেখে,আবার কেউ বা হাসে নিজের অজান্তেই।কেউ হাসে,প্রয়োজনে।
কেউবা হাসে খুশিতে।
একেক জনের হাসির কারণ একেক রকম।
কিন্তু কি অদ্ভুত তাই না।
এই একটা সিস্টেমকে মানুষ বিভিন্ন রিজন এর ফলাফল হিসেবে প্রকাশ করে।
অনেকে আছে কান্না করতে গিয়েও হেসে দেয়।
আবার অনেকে আছে,
বাধ্য হয়ে হাসে।
আমার লিখা এই হাসির চন্দ্র বিন্দুর কারণ হলো।যে ব্যাক্তিটির হাসিকে মিন করেছি,তার হাসি দুর আকাশে চাঁদের আলোর মত ঝলসানো।নদীর ঢেউ কে চাঁদের আলোয় যেমন চিরো যৌবনা মনে হয়,তেমনি ওর হাসিতে ও নির্জীবতারা চঞ্চলতা ফিরে পাই।
হাসি শব্দটিকে যেমন আরো সুন্দর করে তুলেছে ওই চন্দ্রবিন্দু
তেমনি ওর হাসি ও তার আশপাশের পরিবেশকে আরো প্রাণোচ্ছল ও প্রাণবন্ত করে তুলে।
আমি স্তম্ভিত হয়ে যায় দেখলেই।
নিজের মাঝে নিজের প্রাণকে খুঁজে পাই না।
আমার মনের মাঝে জন্মে থাকা হাজারো বিষাদ,দুঃখ,যন্ত্রণা রা পালিয়ে যায় সেই হাসিতে।
অজান্তেই মন হেসে উঠে তার হাসির সঙ্গ দিতে।
প্রকৃতির সব সুরাসুর যেনো তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।বিকেলের পাখিরা উড়তে ভুলে যায়। গন্তব্য যেনো অচিনপুরে হয়ে যায়।পৌঁছাতে হয়তো পারবে না বলে দ্বিধায় পড়ে যায়।
তাদেরকে ডানায় থাকে না উড়ার ক্ষমতা।
ইচ্ছে গুলো বড্ড বেয়াদব,চাইলেই কথা শুনাতে পারা যায়না।
এত সুন্দর যে হাসি,তাকে তো একটি এক্সেপশনাল ওয়ে তে লেখায় যায়?
যেমন আজকে অহনা আসছে,সে মনের অজান্তেই হাসতেছে।ছোট্ট একটা রুম। অলী আর অহনা থাকে পড়াশুনা করে একই সাথে।মেস লাইফ এর সুবাদে পরিচয় ওদের
কি হলো, হাসছো কেনো?
পড়তে বসে এই ভাবে হাসলে লোকে ভাববে,নিশ্চিত মাথাটা গেছে।ম্যাথ সলভ করতে করতে পাগল হয়ে যাচ্ছ নাকি।
ওঁ ম্যাথ এ পড়াশুনা করছে।
তাই মজা করে বলল।
আরে না কী যে বলো,আমি পড়তেছি।
একটা নোটিফিকেশন আসছে।তাই ফোন হাতে নিলাম।
ফোন হাতে নিয়ে দেখি জীলম জয়েন্ট দা টেলিগ্রাম।
এই জীলোম টা কে?
আগে শুনো কথা।এখনই গোয়েন্দাগিরি শুরু করে দিলে?
আবার হাসতে শুরু করছে অহনা।
হাসি শেষ করছে না।
বলবে তুমি?
এখন রাত 1 টা 20 বাজে।
এত রাতে কি ভেবে হাসছো।আল্লাহ ভালো জানে।আর জিলোম টায় বা কে?
শুনো অলি...
একটা ছেলে আমাকে ব্লক করছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে।
কারণ কি ছিল?
কারণ হলো,আমি ছেলেটাকে পছন্দ করতাম।
তাই! তুমি প্রেমই নাকি করবে না।তো প্রেমে পড়লে কিভাবে?তাও আবার প্রপোজ ও করে ফেলেছ।
রিজেক্ট ও হয়ে গেছ।
রুকাই না তুমাকে কত রিকোয়েস্ট করলো।তুমি শুধু বেচারাকে বললে এই সবে আমি নাই।
আমার ধারা হবে না।
সেই তুমি!!
অলী তুমাকে বলেছি রিলেশন করবো না।
করবো না,এই বিষয়টি আমার হাতে।
কিন্তু প্রেমে পড়ার বিষয় টি আমার হাতে না।
এইটা কারোর হাতেই থাকে না।
এখানে আমার কিছুই করার নেই অলী।
ঠিক আছে ,ঠিক আছে।বুঝতে পেরেছি।
তো
পছন্দ করতে!
মানে অতীত?
এখন করো না?
এই তুমি এত সাংবাদিকের মত প্রশ্ন করো না তো।
আগে শুনো,,,
আচ্ছা বলো।
পরে আমি ভাবলাম,এই নোটিফিকেশন আমার কাছে কেনো আসলো!
পরে মনে পড়লো, ও আমিতো টেলিগ্রাম অ্যাপস ইন্সটল করেছি।
সেদিন তো করলাম। তুমিও দেখলে।কোরআন শিক্ষা কমপ্লিট করবে বলে।
ক্লাস কত দিন করছো এপর্যন্ত?
আরে দৌড়ের উপর আছি।একটা ক্লাস করেছিলাম।
হাফছা মেম আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ,মেসেঞ্জার,আর টেলিগ্রাম এ মেসেজ দিয়ে একাকার।উনি মূলত ক্লাস নেন।
আমি লজ্জায় উনাকে আর রিপ্লাই করিনা।
কিন্তু রমজান মাসে নতুন ব্যাচ এ অ্যাড হইবো।
তুমার ডং...
দেখা যাবে।
আচ্ছা,,,,
এখন তুমি কি গল্প শুনবে।নাকি আমি পড়তে বসবো।
আরে না বলো....
তো হয়তো যারা টেলিগ্রাম ইউজ করে।আর যখন এক্টিভ থাকে,আমি বুজাতে চাচ্ছি টেলিগ্রাম এ আসে।তখন হয়তো সব টেলিগ্রাম ইউজার এর কাছে নোটিফিকেশন চলে যায়। আমি বুজাতে চাচ্ছি ,যারা যারা কন্টাক্ট লিস্ট এ থাকে তার।
আমার ফোন এ জিলম্ নাম দিয়ে বেচারার ফোন নম্বরটি বেহায়ার মত সেভ করে রেখেছি।
এখন ও টেলিগ্রাম এ। তাই নোটিফিকেশন আসছে।
তাই হাসতেছি।
হাসির কি হল?কারণ আর কিছু আসুক বা না আসুক।এই একটা নোটিফিকেশন তো আসছে ।
হাহাহ...
অহনা হাসতে লাগলো।
অলী বলতেছে হয়তো ওর দরকার ।তাই নেটে আসছে।
হুঁ,দরকার তো অবশ্যই।
আমি তো কিছু ভাবিও নাই।
অলী তুমি খুবি ভালো মত মানুষকে নিতে পারো।
এইটা তুমার সংসার জীবনকে সুখী করবে।
হয়তো ওর দরকার আছে।
তাই এসেছে।আমি তো কিছু বলি নাই তুমাকে।
সেটা ছাড়া কি কেউ এমনেই এমনই অনলাইন এ আসে।
আবার হাসি বলেই।
আরে তুমি তো হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাবে।
আর যে ছেলেকে তুমি পছন্দ করতে,সে এত রাতে অনলাইনে
আর তাকে দেখে তুমি হাসতে লাগলে।
আজব তো তুমি।
কোথায় একটু হিংসুটে হবে।
শুনো অলী,,তুমার মত হিংসা করার মতো একটা ফালতু মন আমারও আছে।
হাজার হইলেও আমিও মহিলা মানুষ।
কিন্তু এই মনের মাঝে অনেক ছেরা জায়গা আছে।
যতো দুঃখ,কষ্ট,হিংসা,সপ্ন,অসহায়ত্ব,ভয়।
কোনো কিছুই স্থায়ী হয়না।
সব ছেড়া দিয়ে পালিয়ে যায়।
আরে তুমি তো এক নিমেষেই সাহিত্যিকের মত লেকচার শুরু করলে।আর উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছ।
ছেঁড়া থাক আর যাই থাক।
হিংসা তো জন্ম নিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
যাওয়ার পালা তো পরে,,,
এখন বলো
এই কলমটা কে?
কলম কোথায় পেলে অলী?
ঐযে যে ভদ্রলোকের নাম ঝিলম দিয়ে সেভ করেছো।সেটাই কলম।যে তুমার মনে দাগ কেটেছে।উনাকে কলম বলাই যায়।
হাহাহা...
অহনা তুমি একটু বেশি এক্সসাইটেড।
তুমিও ভালই মজা করতে পারো।
এখন ঘুমাও।আমি পড়তে বসবো।
আরে না,আজকে তোর কলমের হিস্ট্রি শুনবো।
বল না কোথায় থাকে?
আর দেখতে কেমন? কী করে?
আমার বয় ফ্রেন্ড এর থেকেও সুন্দর?
অলী ঘুমাও তো..
অনেক গুলো প্রশ্ন করে ফেলেছ।এত কিছু তুমি জেনে কি করবে।যেখানে আমি গবেষণা করা ছেড়ে দিয়েছি।
এখন আর পেছাল ভালো লাগতেছে না।
অলী ধমক খেয়ে বিছানায় এসে শুনে পড়ল।
আবার পরক্ষনেই হাঁসি দিয়ে উঠছে অহনা।
আরে,অহনা আবার কি হলো?
দেখ মাত্র আমি টেলিগ্রাম এ আসছি,দেখি অনলাইন এ আছে ও।
কিন্তু আমি আসছি,হয়তো সেই নোটিফিকেশন ও চলে গেছে ওখানে। দেখ এখন অফলাইন।মাত্র চলে গেলো।
আচ্ছা ভালো। ভদ্র ছেলে ওইটা। তোমাকে দেখেই চলে গেছে।
তুই একটু বেশি বুঝিস,আমাকে দেখে ও চলে যাবে না।আমার ফোন নম্বর কলমের ফোন এ সেভ করা নাই।
আর ওর দরকার শেষ হয়তো,তাই চলে গেছে।
আমি তো জাস্ট দেখতে আসছি।
কতক্ষন নেটে থাকে।যায় হউক আমার দেখার সৌভাগ্য হলো না।
সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়বে।তাই চলে গেলো।
তুমি পর...বলে অলী,মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো।
অলি তুমি একটু বেশি ভাবের কথা বলছো না।
ওই ছেলে নিয়ম মত লাইফ লিড করে।আজকে হয়তো বিশেষ কোনো দিন।তাই রাত জেগে আছে।
এখন রাত দেড়টা বাজে।তাই কি...
হয়তো আড্ডা দিচ্ছে বন্ধুদের সাথে।
নয়ত পার্টি হচ্ছে।
ওঁ খুবি ভালো ছেলে।আর ও কোনো দরকার ছাড়া নেটে থাকে না।
আর তুমার বয়ফ্রেন্ড এর মত না।
তুমি তো সেই সন্ধায় ফোন বন্ধ করে রেখেছ ফোন এ চার্জ নেই বলে।
তো তুমার বয়ফ্রেন্ড কি করতেছেন এখনো ফেইসবুকে!
তুমিই তো তার গার্লফ্রেন্ড।তুমি নেটে নেই।
তার তো থাকার কথা না।
কি বললে অহনা!
তুমার ভাইয়া নেটে এখনো?
আমার ফোনটা চার্জ থেকে দাও তো একটু?
দিতে পারবো না।
তুমি নাও গিয়ে...
ভবিষ্যতে আর এই রকম কথা বলবে না আমাকে অলি।
আচ্ছা বলবো না। সরি।
অহনা ম্যাথ সলভ করতে শুরু করলো। ফোনটি চার্জে বসিয়ে।
রাত 3 টা বাজে।অলীর বয়ফ্রেন্ড কল দিয়েছে।
দিয়েছে বলতে অলী এতক্ষণ থেকে ট্রাই করতেছিল।কিন্তু ব্যাস্ত পেয়েছে গত দেড় ঘণ্টা থেকে।
যেটা পরবর্তীতে অলীর কান্না ভেজা কথা বার্তা শুনে বুজা যায়।
ওর কথা গুলো খুবি বাজে শুনতে লাগলো।
অহনা বেচারি হুদাই বেচারার গার্লফ্রেন্ড কে খেপায় দিয়ে এখন নিজে আর বাকি রাত ঘুমাতে পারবে না।
এই চিন্তায় অহনা চুপ করে বসে রইল।আর তাদের কথা বার্তা শুনতে লাগলো।
এই তুই এতক্ষণ ব্যাস্ত কেনো?
অলি বলেই কান্না শুরু করে দিলো।
আমি সেই সন্ধা থেকে নেট নেই।তোর এত কিসের কাজ নেটে।আমার সাথে বাটপারি করতে আসবি না।
সত্য কথা বল।
অলী চিল্লায় চিল্লায় বলতেছে আর কি কান্না।এই কান্নার শেষ হলো না। আমি পুরাই অবাক।
কি দুর্বিষহ যন্ত্রণা।
অবশ্য মেনে নিতে পারলে বেপার না।
অহনা সেদিন আর ঘুমাতে পারলো না।বেলকনিতে গিয়ে সে একটা নাটক দেখা শুরু করলো।কি করবে বেচারা গার্লফ্রেন্ড আর বয়ফ্রেন্ড এর মাঝে রাগারাগি বাঁধিয়ে এখন নিজেই রুম থেকে নির্বাসিত।
আপনারা কেউ এমন করবেন না ভবিষ্যতে।
এই রকম। কপুত কপুতির জন্য কেমনে সান্তনা দেওয়া যায়।সেটা করে চলতে হবে।
অহনা,সেদিন আর কোনো কথা বলার সুযোগ পেলো না।
এই দিকে নাটক দেখে ভোর 5 টায় সে রোম এ আসছে।এসে দেখে অলী ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতেছে।
অহনা কেমন যেনো একটু গিলটি ফিল করতে লাগলো।
মজার ছলে ওকে খেপিয়ে দিলো।
ওর রাত টায় নষ্ট করে দিলো এই ভেবে।
কিন্তু ও বুঝতেই পারেনি।যে অলী এমন সিনক্রিয়েট করবে।অহনা অলীর কাছে গিয়ে সরি বললো।আমাকে ক্ষমা করে দাও অলী।আমি বুঝতে পারি নি।তুমি এতটা কষ্ট পাবে আমার কথাই।
অলী ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলতে লাগলো,
তুমি তো আমার কিছু করো নি।
বরং আমি তুমার সাথে মজা করতেছিলাম।
কিন্তু তুমি দেখেছো বলেই তো আমাকে বলেছ।
যে তুমার বয়ফ্রেন্ড এখনও জেগে।
জানো অহনা, ওকে আমি বলেছিলাম,যে আমার ফোন বন্ধ হয়ে যাবে।তাই আমি আজকে তুমার সাথে কথা বলতে পারবো না।
তুমি আজকে খাবার খেয়ে ফ্রেস হয়ে ঘুমিয়ে পড়বে তাড়াতাড়ি।আমিও আর নেটে আসবো না।
আমরা জার্নি করেছি আজকে।ঘুরতে গিয়েছিলাম ওর বন্ধুর মেয়ের জন্মদিনের পার্টিতে।
তাই...
ওই আরো আমাকে বললো, জানু তুমি আজকে রেস্ট কর।রাত জাগার দরকার নেই।কথা বলতে হবে না আজকে।
আর ওই এখন নেটে।আর নেটে থাকা ফ্যাক্ট ছিল না।
আমি ওকে এত রাতে ব্যাস্ত পেলাম কেনো?
আবার কান্না শুরু করে দিলো।
কি চিক্কার।
সেদিন রাতে অহনা অলীর আর্তনাদ শুনেছিল,আর তার অবস্থাও দেখেছিল।কি ভাবে সে ছটফট করতেছিল।
এই বুজি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এখনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে। যন্ত্রণায় কাঁপতে থাকা ওই দুটি ঠোঁট যেনো হাজারো অভিযোগের ভির জমেছে।
নিজের মাথায় যেনো বাজ পড়েছে।হৃদয়ের সমস্ত আশার প্রদীপ যেনো এক ধমকা হাওয়া নিভে গেছে।
অলী অহনাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে আবার কান্না শুরু করে দিলো।
বিশ্বাস অবিশ্বাসের খেলায় নাকি অলী হেরে গেছে।
নিজের সখের সপ্ন গুলো নাকি চুরি হয়ে গেছে।
নিজের ভালো লাগার মানুষ নাকি আজ অন্যের ঘরে শান্তি খুঁজে পাই।
বেঁচে থাকার অক্সিজেন এর নির্মল গাছের সন্ধান নাকি এখন অন্য একটা মেয়ে।
কথা গুলো অলীর মুখ থেকে শুনে,অজান্তেই অহনাও কান্না করে দিলো।
কিন্তু সেটা অলিকে বুঝতে দিলনা।
শুধু বললো,এই পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিল আদম হাওয়া।
তারাই সর্ব প্রথম নারী পুরুষের ভালোবাসার স্বাদ পেয়েছিল।কিন্তু তারাও দুই জন দুই জনকে দূরে রেখে কাটাতে হয়েছিল বহু দিন।
পৃথিবীর মহ মায়া ছেড়ে,ভালোবাসার সুবিশাল পৃথিবী ছেড়ে তাদের ও চলে যেতে হয়েছিল।
তারা যদি সেই শুক কেটে উঠতে পারে,আমরাও পারবো।
অলী কান্না করো না।
সে ওকে বুজিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল।
অহনার স্কুল আছে।সে একটা প্রাইভেট স্কুলে পরাই।
অহনা আর ঘুম আসল না।
তার সকাল স্যার আটটায় স্কুল আছে।
সেখানে তাকে যেতে হবে।তাই সে ফ্রেশ হয়ে নিল।
স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখে অলী ঘুমিয়েই আছে।তাই আর সে তার সাথে কথা বলতে পারলো না।
অহনা দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়ল।
3 টা সময় উঠে সে প্রাইভেট পড়তে চলে গেলো।তার পর একটা টিউশনি শেষ করে বাসায় আসলো রাত আটটায়।
এসে দেখে অলী রুমে নেই।
কল দিচ্ছে,পাচ্ছে না।
খাবারও খাইনি সে।
কোথায় গেলো।চিন্তিত মনে কল দিল অলীর বয়ফ্রেন্ডকে।
তিনি বললেন,আমি জানি না।আপনি জানবেন না কেনো ভাইয়া?
আপনার তো সব কিছুই জানার কথা।আপনি গত কালকে রাগারাগি করেছেন।আপনি কি উনার রাগ ভাঙ্গার জন্য আজকে আর কল দিন নাই ভাইয়া?
আমি কেনো ওলিকে কল দিবো।
ওই মেয়ে কি আমার কথা শুনে।
কোন বেক্কল মেয়ে রাত 2 টা বাজে কল দেয় কাউকে।
ওতো একটা সাইকো।ওর মাথার সমস্যা আছে।ওকে কাউন্সেলিং করাতে বলবেন।
ওঁর পিছে অনেক সময় দিয়েছি আমি।
আমি আর ওকে ম্যানেজ করতে করছি না।
শুধু শুধু বকা বকি করে।
আচ্ছা রিখন ভাইয়া,আপনি কি সত্যি মনে করেন আপনি ঠিক?
না মানে ও যে আপনাকে ব্যাস্ত পেয়ে কল দিয়েছে।
সেটা কি ভুল?
ওঁ কি আসলেই উচিৎ হয়নি কল দেওয়া?
প্রথমত উচিৎ হয়নি কল দেওয়া।
তার উপর আমাকে সন্দেহ করতেছে।
আমি নাকি মাল্টি বয় ফ্রেন্ড।
আর তুমি তো শুনেই থাকবে,আমাকে কি ভাষায় কথা বলেছে।
দেখুন,আপনার কথা শুনতে আমি আপনাকে কল দেইনি।অলী কোথায়? সেটা বলুন । ওকে পাচ্ছিনা
জানলে আমাকে বলুন ভাইয়া।
পাবেন কোথায়।অত নিশ্চই কারোর সাথে দেখা করতে গেছে।ওর তো এইটা নেশা হয়েছে।আমার সাথে কথা বলবে,আবার অন্যকেও সময় দিবে।
ওরে আমার জানা হয়ে গেছে।
বাহ!
আপনি তো অনেক কিছুই জানেন।আসলে আপনার কথা গুলো আমার মন ছুঁয়ে গেলো।
আসলেই ও এমন।
কিন্তু কথা গুলো যদি আমার সামনে এসে বলতেন।আমার আরো ভালো লাগতো।
আমি কি আপনার সাথে দেখা করতে পারি।
কোনো একদিন চলে আসেন ভাইয়া।
তুমি জানো,ওর জন্য আমি কি না করেছি।
আমার খরচ থেকে ওর আবদার মিটিয়েছি।
বুঝতে পারছি ভাইয়া।
আপনার কোনো সমস্যা নেই।
আসলে সমস্যা ওরই।
ওঁ আপনার প্রতি পসেসিভ।ভালোবাসার এক উদ্যান বিনা শর্তে লিখে দেওয়া টায় ওর বুকামি।
বিশ্বাসের রঙিন পৃথিবীতে আপনাকে রাজত্ব করতে দেওয়াটা ওর জীবনের চরম ভুল।
নিজের মনের বিরুদ্ধে চলতে না পারার ব্যার্থতার ফল আজকের দিন।
ভালোবাসার রঙ ধরে রাখতে না পারার সব অভিযোগ আজকে তার বাসায় আগন্তুক।আর আপনি বললেন না,কোথাও হয়তো দেখা করতে গেছে।
নিজেকে সম্মান আপনি নাই করতে পারেন।
কিন্তু আপনি অন্যের বিষয়ে কথা বলার আগে, একটু ভাববেন।ভাববেন মেয়েটা কেনো আপনার কাজের বিষয়ে চিন্তিত।কিছু ভালবাসা রংহীন হয়,তিক্ততায় ভরপুর হয়।তবুও সেটা ভালোবাসা।কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে শুধু মিষ্টির খুঁজে থাকলে,দেখবেন একদিন মৌমাছি আর পোকামাকড়ের খাবারের আইটেম এ পরিনত হবেন আপনি।
তখন যেনো আবার তিক্ততায় পূর্ণ মানুষটির কথা গুলো মনে করে আফসুস না করতে হয়।
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।
রাত 9 টায় কল দিয়েছে অলী,আমাকে একটু ছাদ থেকে নিয়ে যাবি অহনা।অহনা দৌড়ে ছাদে গেলো।
আসলে যেটা বুজা গেলো রিখন এর কথাই।ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনেক কারণ থাকতে।আর রাখতে চাইলে পৃথিবীর পরিমাণ নেগেটিভিটির সাথেও যুদ্ধ করা যায়।
কোনো বেক্কল মানুষ তার গার্লফ্রেন্ড এর নামে আজেবাজে কথা বলবে।
তাও আবার অন্য ছেলের সাথে গার্লফ্রেন্ড কে জড়িয়ে।
আসলে এদের পুরুষত্বের অভাব আছে।
যে পুরুষ তাকে ভালোবেসেছে।সেই পুরুষই যদি সন্দেহ করে।এইটা অবশ্যই বলা যাই,যে তার নিজের মাঝে ঘাটতি আছে।
হউক সেটা মনুষ্যত্ব বা পুরুষত্ব। প্রতিটা সন্দেহের মাঝে নিখুঁত ভালোবাসার সুভাষ লোকায়িত থাকে।
কিন্তু যে সন্দেহ সম্মানে লাগে,সেই সন্দেহের পিছনের উদ্দেশ্য টা হয়,তাকে ছেড়ে দেয়া।নয়তো তার থেকে নিজেকে মুক্ত করার ধান্দা।
আর কিছু না।যেটা রিক্ষণ ভাইয়ার কথা তে বুজা যায়।
উনি কখনোই রাত 2 টায় কথা বলতেন না অলীর সাথে।12 টা অব্দি সর্বোচ্চ।
আজকে দুর্ঘটনা বসত ধরা পড়ে গেছে।আর সেটার ব্যাক্ষা চাইতে গিয়েই বেচারা অলী আজকে 10 বছরের সম্পর্ক থেকে নির্বাসিত।
যায় হউক
এই ঠান্ডায় ও ছাদে বসে ছিল এতক্ষণ।আমার জন্য বেচারার যতো অশান্তি। তুমি এখানে কেনো?
আমি তুমাকে খুজে না পেয়ে রিখন ভাইয়ার সাথে আরো কথা কাটাকাটি করলাম।
আমি খুবি ভয় পেয়ে গেছিলাম।সারাদিন তুমার সাথে কথা বলতেই পারি নাই।এসে দেখি তুমি রুমে নেই।আমার হাত পা ভয়ে কাঁপতে ছিল।
আবার ছাদে এসে বসে আছ।
দেখো আবেগে উল্টা পাল্টা কিছু করবে নাতো।
আরে অহনা,চিন্তা করো না।
আমি তেমন কিছুই করবো না।আমি জাস্ট এমনেই বসে ছিলাম। ফোন সাইলেন্ট ছিল।তাই।
অলীর চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
চোখ ফুলে গেছে।মুখ শুকিয়ে গেছে।
জানো অহনা,আমার সেই ক্লাস সিক্স থেকে রিলেশন।আমি ওকে ছোট থেকেই পছন্দ করি।
আমি কেমনে ওকে ভুলবো।
ওঁ আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে।
আমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে ওকে মিস করি।
আমি ওকে অন্ধের মত বিশ্বাস করি।
সে আজকে আমাকে ডিরেক্ট বলে দিয়েছে।
আমাকে নেক্সট টাইম কল দিবি না।
আমার তোকে আর ভালো লাগে না।
তোর নেকামি, আর সন্দেহ আমাকে অতিষ্ট করে তুলেছে।
আমি ওকে কোনো দিনও সন্দেহ করি নাই।
আমাকে ও অনেক বাজে বাজে অভিযোগ করেছে।
আর সেই সাথে বলেছে
তাকে নাকি আমার সাথে যাবে না।
হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বলতে থাকা এই কথা গুলো যেকোনো মানুষের হৃদয় কে বিচলিত করবে।
সেদিন অহনাকে দেখেই বুজা যাচ্ছিলো আসলে পৃথিবীর থেকে বেশি নির্মম মানুষের মন।
হাজারো সিডর টর্নেডোতে হার মানাবে মানুষের অভিনয়ের দক্ষতা।
অহনা তাকে বুজাতে লাগলো।
আরে ওই সব রাগের মাথায় বলেছে।
সব ঠিক হয়ে যাবে।
অলী কে ধরে ধরে রুমে নিয়ে আসলো অহনা।
বেচারা খাবারও খাই নাই।
তার উপর মুড অফ।
জর আসছে।
সেদিন রাতে আর কোনো কথা হলো না।
আমার ফোন দিয়ে সে রিজন ভাইয়াকে ট্রাই করে।
কিন্তু রেসপন্স করেনা।
অলিকে ব্লক লিস্ট এ রাখা হয়েছে।
কি থেকে কি হয়ে গেল।
আমার মাথায় ধরে না।
এই ভেবে অহনা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিল।
কারণ অহনা খুবি ভালো করে জানে,প্রিয় মানুষের অস্তিত্ব প্রতিটা মানুষের জীবনে কতটা জায়গা জুড়ে।
হয়তো পৃথিবী পুরুটা নিঃশেষ হয়ে গেলেও কিছু যায় আসবে না।
কিন্তু নিজের জীবনে কোনো একটা জায়গা থেকে তার প্রিয় জিনিস এক নেন সেকেন্ড দূরে থাকলেও মনে হয় পুরু জীবনটায় মুরুভূমি হয়ে গেছে।
না আছে তাকে কোনো রস,না আছে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব।আর না আছে লোকের আনাগুনা।
ধু ধূ মুরুভূমির সেই চরে উড়ে শুধু বালি ঝর।
নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
তাই অহনা একদিন চুপি চুপি রিজন এর সাথে দেখা করলো।
আর সব বিষয় খুলে বললো।
অলী ভালো নেই আপনাকে ছাড়া।
রিজন একটা কথাই বললো,আসলে আমার ওকে মেনে নেওয়া সম্ভব না।আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।আর আমি বাইরে চলে যাচ্ছি।আমার মামাতো বোন রিমাকে আমার মা পছন্দ করেছে।
অনেক আগে থেকেই করতো।আমি জানতাম না।
এখন আম্মা বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস।আমি আম্মার কথার উপর কোনো কথা বলতে পারব না।
আর অলী আমার থেকেও অনেক ভালো ছেলে পাবে ।
তাই আমি আর ওকে বিরক্ত করতে চাচ্ছিনা।
সব ব্রেকআপের একটা লাস্ট ডায়লগ।
আমার থেকে বেটার পাবে...
হাহাহা....
ওই মিচকা.....
তোর থেকে বেটার পাবে কি পাবে না।
সেটা তকে বলতে হবে।
তোর যাওয়া দরকার চলে যা।
এইটা আবার কোন ধরনের আশীর্বাদ করে যাচ্ছ।
মনে মনে অহনা বলতে লাগলো কথা গুলো।
ওর জীবনের বেটার টাইম এ আগমন করে,লাস্ট টাইম চলে যাচ্ছে ছেড়ে দিয়ে।
আবার বেচারা আশীর্বাদ করে যাচ্ছে বেটার কাউকে পাবে। ইচ্ছে করছে জুতা পেটা করি।
কিন্তু উপায় কি..
বলি কি...
বিকাল বেলা ভুরের সূর্যের গুণাবলী খুঁজে পাওয়া যায়?
যায় না।
ইচ্ছে করছিল কষে একটা থাপ্পর দেই।
কিন্তু অনেক লোক জন ছিল।তাই আর কিছু বলতে পারলাম না।
বললাম,ভাইয়া অলী হয়তো রিকভারি করতে পারবে না।
সবাই তো আর আপনার মত অভিযোজন ক্ষমতা সম্পন্ন না। সে সত্যিই ডিপ্রেসড।অনেক বুঝাচ্ছি,
দেখেন এত দিনের সম্পর্কে ছেড়ে দেওয়ার আগে একটু ভাববেন দয়া করে।
সেই দিন চলে আসল অহনা।
কিন্তু এসে দেখে অলী পড়তেছে।
অহনা একটু হালকা ফিল করতে লাগলো।
যাক বেচারা তাহলে টেবিল এ বসেছে অন্তত।
হয়তো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।
চলছেও ভালই।
একদিন হুট করেই দেখা গেলো লেপের নিচে শুয়ে আছে।বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।করে তুমি এই দুপুরে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছো কেনো?
আর আমার লেপটপ অন কেনো?
ওকে ছুঁয়ে দেখলো অহনা।
প্রচন্ড জর আসছে।
কথা বলার অবস্থাও নেই।
অন করা লেপটপ অফ করতে গিয়ে দেখা গেলো,সে রিজন এর আইডি ভিজিট করেছে। ওতো নিজের আইডি দিয়ে রিজনের আইডি ভিজিট করতে পারেন না।ওকে ব্লক করে রাখা হয়েছে।কিন্তু অহনাকে ব্লক করেনি।তাই হয়তো অহনার লেপটপ দিয়ে সে ওর আইডি ভিজিট করেছে।
রিজন তার ওয়াইফ এর ছবি পোস্ট করেছে।
আর ও বাইরে চলে যাচ্ছে, সেটার আপডেট দিয়েছে।
অহনার আর বুঝতে বাকি রইলো না।
বিষয়টি কি হয়েছে।
ওকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো।
আর অলীর বাবা মাকে বুজিয়ে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
কিছু দিন পর দেখা অলী মেসে আসলো।
সাথে অনেক খাবার নিয়ে আসছে।
অনেক হাসি খুশি।
কি অলী,এত খুশি কেনো তুমি?
কী হয়েছে?
আমি খুশি থাকবো না কেনো?
যার সাথে থাকি,সেই তো অনেক খুশি থাকে।
তুমার রুম মেট হয়ে আমাকে মুড অফ রাখা মানায় না।
আচ্ছা,অলী মেসের আপডেট শুনেছ।
নিচ তলার এক আপি সুইসাইড করেছে।
অহনা কি বলো এই সব।
কোন আপি?
রিক্তা আপি।আপুর বয়স শেষ,জব হচ্ছে না।
তার মধ্যে বয়ফ্রেন্ড নাকি ব্রেকআপ করেছে।
ব্রেক আপ বলা যাই না।
অন্য মেয়ে নিয়ে ভাগছে।
আপিরও নাকি 9 বছরের রিলেশন।
ভাই এই দুনিয়া কি ?
এই সব শুনতে চাই না অহনা।
শুধু চিল করতে চাই।
তুমার মত। আমাকে ভালো রাখার দায়িত্ব কেউ নাই নিতে পারে।
সেটা ভেবে নিজেকে আরও দুঃখী করার কোনো মানে হয় না।কারণ নিজেকে ভালো রাখার জন্য একজন তো আছে।সেটা হলাম আমি নিজেই।
তাই অন্যের দিকে নয়।এখন থেকে নিজের দিকে নিজে তাকাবো।ভালোবাসবো এই মানুষ টাকে
যাকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ পুরু ফ্যামিলি করেছে এতদিন।
এখন থেকে আমি ব্যাক্তি টাকেও যুক্ত করেছি।
কথা গুলো শুনে অহনা চমকে যাচ্ছে।
অলী এই সব কথা কে তুমাকে শিখিয়েছে।
এত স্ট্রং কথা কোথা থেকে শিখেছ?
আমার বোন অহনার ডাইরি থেকে।
অহনাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করলো সেদিন অলী।বললো আমাকে তুমি মাফ করে দিয়ো এই জন্য যে আমি তুমার ডাইরি না বলে পড়েছি।
সেদিন দেখলে যে টেবিল এ বসে আছি।তুমার ডাইরি পরতেছিলাম।
পরে বাসায় যাবো,মনে অনেক কৌতূহল ছিল,তাই তুমার ডাইরি নিয়ে গিয়েছিলাম।
বিশ্বাস কর,আমার অনেক ভালো লেগেছে ।নিজেকে অনেক ভাবে নতুন করে বুঝতে পেরেছি।
অহনা তুমার মাঝে এত কিছু ।আর তুমাকে দেখে কখনো বুঝতেই পারিনি।
অহনা অবাক।অলী তুমি আমার ডাইরি নিয়ে গিয়েছ বাসায়।আমি আরো কষ্ট পাচ্ছিলাম এই ভেবে যে আমার ডাইরি টি হারিয়ে গেলো।
আমার সপ্নের সমস্ত কথা,সব অনুভূত এখানে লেখা।
আচ্ছা তুমি যে ছেলেটিকে ভালোবাসো।
তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হয় না তুমার?
আরে কি বলো,কথা কখন বলবো।আর ওই ছেলের আফেয়ার আছে।
আর দেখো না দৌড়ের উপর থাকি।রিলেশন নিয়ে ভাবি না।
আমি এখন মিস করিনা।
আচ্ছা অহনা তুমি যে নামাজে কান্না করতে,
এইটা আমি ভাবতাম তুমার অসুস্থতার জন্য।
কিন্তু আসলে তো সেটা না।
তাই না?
আরে আমাকে এই ভাবে জেরা করতেছ কেনো অলী।
নিশ্বাস নেওয়ার সকল পথ বন্ধ করে দিলেও আমি তাকে দেখেই হয়তো অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারব।
তাকে দেখার এতটাই লোভ আমার।যে রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি উপর দিয়ে গেলেও মাথায় থাকে না।
বাইরে বের হলে আমার চোখ শুধু তার সন্ধানে থাকে।
আর এই সব কিছুই আউট অফ কন্ট্রোল।তুমি আমাকে ভুল বুজ না অলী।মানুষ যা ভাবে তা পাওয়ার চেষ্টা শুধু করতে পারবে।কিন্তু পাবেই সেটা কেউ বলতে পারে না।আর আমরা পরিস্থিতির শিকার হয়।যেখানে মনে প্রাণ সব কাজ করলেও,বিবেক কাজ করে না।আর বিবেক যদিও সায় দেই,তবুও সেটা ফলপ্রসূ হয়ে উঠেনা।জীবনটা কখনো আমার তুমার একার সিদ্ধান্তে চলে না।এই জীবন অনেকের দিকনির্দেশনায় চলে।
যেমন ধর আমি তাকে চাই।কিন্তু সে আমাকে না।
এই হলো বিষয়।
আমাকে রাগিয়ে দিয়ো না।
এই বলে ও রুম থেকে চলে গেলো।
ওর
কথা গুলো এভাবেই লেখা ছিল তার ডাইরিতে।
14/02/23
আজকের পৃথিবীটা অনেক রঙ্গিন।কিন্তু এই রঙ্গের বিন্দু মাত্র রং আমার হৃদয়ের আঙ্গিনা রাঙাতে পারেনি।
আমি সবার মাঝে থাকতে পছন্দ করি।যেনো আমার হৃদয়ের সব দুর্বলতার মাথা চারা দিয়ে না উঠতে পারে।
আমি আমার সব অসহায়ত্বকে জন সমাগমের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।কিন্তু হয়ে উঠে কই।
রাত হলেই আমার সব ব্যার্থতারা আমার দিকে তেড়ে আসে।ধিক্কার দিতে দিতে বলে,জীবনে আমাদের থেকে তোর মুক্তি নেই।আমরা তোর সত্যিকারের শত্রু ।
শত্রুও নাকি কখনো তার ঠিক বুল বুঝতে পারে।কিন্তু তুমার দুর্বলতা,তুমার ফেইলিউরনেস তুমাকে কখনোই ছাড়বে না।তাই এটি শত্রুর থেকেও ভয়াবহ।
আমার জীবনে কোনো বসন্ত উদযাপন হয়নি।আমি আজকেই প্রথম ফুল কিনেছিলাম।কিন্তু আমি সেটাকে জায়গা মত পৌঁছে দিতে পারিনি ।আমি কলেজ চত্তরে গিয়ে তার মেসের দিকে কিছুক্ষন দাড়িয়ে ফুলের তোরা পানিতে ফেলে দিয়ে চলে আসলাম।আজকের দিনটা আমার মনে থাকবে।আমি কল দিতেও পারিনি।আমাকে ব্লক করে রাখা হয়েছে। আমার সব ইচ্ছে গুলো তাকে খুজে,কিন্তু আমার ইচ্ছেরা তার ইচ্ছেতে জায়গা পাইনা।
তার সপ্ন গুলোর সঙ্গী হতে পারে না আমার স্বপ্ন গুলো।
আজকে আমি সারাদিন খাবার খেতে পারিনি। শুধু মনে হয়েছে আমার কেনো এখানে আটকাতে হলো।আল্লাহ চাইলেই ত আমার মাঝে এই ফেলিংস নাও দিতে পারতো।নিজেকে নিঃসঙ্গ মরুভূমির প্রাণ যায় যায় বৃক্ষের মত মনে হয়।
আমার হৃদয় আজকে মৃত আত্তার মত নিজের জায়গা খুঁজেছে।কিন্তু সে যেমন তার দেহকে পাইনা।আমার এই আজকের ইচ্ছে গুলো তেমন।তারাও আর আজকে জায়গা পাইনাই।
আমার সপ্নের মানুষটি আজকে তার স্বপ্নের রাজ্যের যত্ন নিচ্ছে।নিরবে নিবৃত্তে নিজের ভালোবাসার মানুষের ভালো লাগা,খারাপ লাগার অগুছালো কথা গুলো শুনছে।ভালোবাসার এই চিরো সত্য বিষয় গুলো আমাকে মেনে নিতেই হবে।
আমি আমার আল্লাহর কাছে একটা বিষয় চাই।
আমাকে বুজার তৌফিক দিন।আমার হৃদয় কে শান্ত রাখার তৌফিক দিন।
অহনা তার ডাইরিতে সেই ছেলেটির বর্ণনা দিয়েছে...
সেখানে শুধু হাসির প্রাধান্য পেয়েছে।
তবে সব কিছুই তার মতো করে লিখেছে।আসলে মানুষ প্রেমে পড়লে যা হয়
তার শ্যামলা রূপের মাধুর্যতাই সূর্যের কিরণ লজ্জা পাই।জোঁছনা রাতের আলোরা যেনো অন্ধকারে ঘর বানায়।
তাঁর হেঁটে চলার পথটি যে চঞ্চলতায় নেচে উঠে।
তাঁর গম্ভীর চাহনিতে পাখিরা যেনো পথ হারায়।
মায়ায় ওই হাসির কথা বলার আর ভাষা নাই।
কল্পনার চেয়েও সুন্দর তুমি
মন ভুলানোর জাদুকর।আমার রাজ্যে আসনা একবার
রাঙিয়ে রাখবো জীবন ভর।
ওর কথা গুলো পরে আমার মনে হয়েছিল।
ওঁ গেছে...
এই বেচারা আর উঠে ধারাতে পারবে না।
অহনা লিখেছে,
আমার তাকে দেখলেই নিজের মনে যেনো খুশির ফুয়ারা জাগ্রত হয়।আর সাথে সাথেই সব হারিয়ে যায়,যখন কথা বলার কোনো পথ থাকে না। আমার হৃদয় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়,যখন আমি তাকে দেখা সত্বেও কথা বলতে পারিনা।আমার মনে হয়,এর থেকে মরে যাওয়া বেটার।প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলতে না পারার যে খরা,টা হাজারো বেডা মানুষের ভালোবাসার কথা দিয়েও সিক্ত হবে না।
মানুষ বলে না,যে অভাব পূরণ হয়।
আরে এইটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা।
অভাব অভাবের জায়গায় থাকে।
ওইটা কখনো পূরণ হওয়ার না।
ফালতু একটা শান্তনা দেই মানুষ ওইটা বলে।
কিন্তু দেখে বুজার উপায় নেই।এই বেচারা কতটা একাকীত্বের সাথে যুদ্ধ করে আছে।
অহনাকে বললাম,
আচ্ছা তুমি ওর সব মিডিয়া থেকে ব্লক?
না।
কোথায় তুমাকে আনব্লক রেখেছে।
ইনস্টাগ্রামে।
ওঁ আমাকে আনব্লক ইচ্ছে করে রাখে নাই।আমি ওকে ফলো দেইনাই।ফলো দিলেই ব্লক দিবে।আর কমেন্ট করার কোনো উপায় নাই।ওই যে বললাম না।
একটাই ভয়।
আর আমি যতক্ষণ ইনস্টাগ্রামে থাকি,মনে করো বেচারা স্টোরি দেখতেছি আমি।নয়তো তার আইডি ভিজিট করতেছি।আমার ইনস্টাগ্রামে কোনো কাজ নেই আর।
আমি দিনে 50 বারো ওর আইডি তে যায়।
ওঁ অনেক স্টোরি দেয়।ওর গার্লফ্রেন্ড কে হয়তো মেনশন করে।
আমি ওকে ডিস্টার্ব করি না।
তাই ব্লক করেনি। ও আচ্ছা..
ওখানে নক দিয়ো তাহলে।মাঝে জিজ্ঞেস করতে তো পারো।কেমন আছে ।কি অবস্থা।
শুনো তুমার এই সব ফালতু মতামত আমাকে দিয়ো না।
আরে মেসেজ দিতেই আমাকে ব্লক করবে।
তুমি বেশি জানো।আমি ওকে একটু ওই খানেই দেখার সুযোগ পায়।আর শুনো দেখতে মন চায়,তাই দেখি।
যেদিন মন বলবে দেখো না,সেদিন আর দেখবো না।
আসলে আমি আমার মাথাকে হয়তো কাজে লাগাতে পারি,কিন্তু এই ফালতু একটা জিনিশ মন,
এই।বেচারাকে বুঝানো যায় না।
ওঁ ওকে 24 ঘণ্টায় মনে করে।ঘুমিয়ে গেলে সপ্নেও ওকে দেখে। দেখ কিছু বিষয় হাতে থাকে না।
কপালেও থাকে না।
কিন্তু এই না থাকার বিষয়টি শালার মন মানে না।
তাই ওকে ওর মতো ছেড়ে দিয়েছি।
আমি আমার দেহটাকে শুধু পরিচালনা করছি
আমার ভালো লাগে। মন খারাপ থাকলে অনেক টায় হালকা লাগে।
আসলে ওকে যারা ফলো দিয়ে রেখেছে।তারা হয়তো দিন একবার তার প্রোফাইল ভিজিট করে।আর আমি একটু পর পরই যায়।
আনফলো ফলোয়ার আমি..
হাহাহা....
আচ্ছা এই সব বিষয় ছেড়ে দাও।
ভালোবাসা ভালো জিনিস।এতে তুমার নারীত্বের প্রভ আসে।কিন্তু এইটাকে পেতেই হবে,এমন ভেবে নিজেকে অযথা পেরাই রাখা বুকামী।
আরে মরুভূমিতে যদি মানুষ বাস করতে পারে।তাহলে আমাদের সপ্ন,আমাদের বেঁচে থাকার প্রাণ প্রিয় ব্যাক্তিকে ছাড়াও সম্ভব।আর এমন তো না যে আমি অনেক সুস্থ,স্বাভাবিক,সুন্দর,ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো।আমার ভালো ক্যারিয়ার আছে।আমার সব সাইড ভালো।কি দরকার বেচারাকে একটা ভূতের মত মেয়েকে দিয়ে অযথা একটা চিন্তায় রাখা।
ওর গার্ল ফ্রেন্ড ও আছে..
সব মিলিয়ে হি ইস আলরাইট।
কি করব,মারা তো আর যাইতে পারবে না।
তাই আমি বেঁচে আছি।
আছে না,,,বাধ্য হয়ে মেনে নেওয়া।সেটাই হলো আমার অবস্থা
ঠিকই বলেছ অহনা।
আমিও আর চিন্তা করিনা।
আমার জীবনে আল্লাহ অবশ্যই ভালো কিছু রেখেছে।
যেটা জীবনে আসে,সেটা আল্লাহর রহমতে আসে।
আর যা যায়,সেটাও মঙ্গলের জন্য যায়।
Comments
Post a Comment