অনুভূতি
এই তোর ভালোবাসা।যাকে পাওয়ার জন্য এত কান্না কাটি,এত আবেগ কাজ করলো।তাকেই ব্লক করে দিলি? ওর জন্য তো অনেক দিনই নিজেকে অপেক্ষার শহরে লোকালি।আজকে কি হলো হঠাৎ?
আসলে ভালবাসে না তাকে,
এই দাবির থেকে বলা হয় নাই কথাটা। আমি কথাটা শুধু রাহার অনুভূতিকে খুচা দেওয়ার জন্য বললাম। হয়না আহত কোনো মানুষকে দেখলেই কিছু মানুষের যেমন মনের মধ্যে অন্যরকম শান্তি কাজ করে ,সেরকম আর কি। আমিও ওকে ঐভাবেই খুচাতে লাগলাম।একটু ভালই লাগে।কারণ আমি ভালোবেসে বিয়ে করেছি।কিন্তু আমার সম্পর্কে আমি ওকে এক বিন্দু কাছে পাই নাই।অথচ বান্ধবীকে নাকি হেল্প করে আরেক বান্ধবী।আমাকে রাহা কখনোই হেল্প করে নাই।আমাকে শুধু বলেছে,রিলেশন করো ভালো কথা। দেখো আবার যেনো মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে ওই ছেলের জন্য পাগলা গারোদে না যেতে হয়।আর রাহা অনেক রাগী ছিল যদিও।আমিও ওকে প্রথম দিকে আমার রিলেশন এর কথা বলি নাই। রাহা আমার অনার্স ফ্রেন্ড।আমি অনেক অনেক ভয় পাই।আমি জানতাম ও যদি জানে যে আমি এফেয়ার এ আছি তাহলে কখনই আমার সাথে মিশবে না। সে অনেক কথা,,,,কিন্তু এখন ও প্রেমে পড়েছে,আমি শুধু ওকে বুজাতে চাই, দেখো কেমন লাগে। আমার রিলেশন এর কথা যখন ও শুনেছিল আমার মুখে,আমাকে বলেছিল,ওই ছেলে কখনোই তোকে বিয়ে করবে না।বাসায় গেলে তোকে কেনো কোনো কল বা এসএমএস দেই না।তুই কি পাগল?
আর যে ছেলে তোকে ভালবাসে,সে তোকে এই ভাবে তোকে মাসের পর মাস কল না থাকে কি করে?
অনেক বকা ঝকা করেছিল।কারণ আমি ওকে বলেছিলাম কেঁদে কেঁদে যে ও এমন করে আমার সাথে।বাড়ি গেলে কল দেই না।এসএমএস দেই না।আবার ফ্যাক আইডি খুলে অন্য আইডি চালায়।আমাকে না জানিয়ে,ইত্যাদি।অনেক কথা বলেছিল।তাই তো রেগে গিয়ে আমকে বলেছিল,যে এই সম্পর্ক কখনোই পরিণতি পাবে না।রিয়া তুই সাবধানে পথ চল।ছেলেটাকে যাচাই বাছাই কর।
অনেক কথা,,,,,
অবশ্য আমার ভালোর জন্যই বলেছিল। বেটা মানুষকে বিশ্বাস নেই। যদিও তারপর আমি সচেতন হয়,আর আমরা বিয়ে করে ফেলি।আমরা ভালো আছি,,,,
তাই আজকে যখন একটু জ্বালানির সুযোগ পেয়েছি আমি।ছাড়তে চাচ্ছি না আর কি....
তাই আর কি ওকে খুচানো।আসলে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি।হয়না দুষ্ট মিষ্টি খুনসুটি,সেরকম করেই অনেক জালাচ্ছিলাম।
আমাদের জীবনে মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।যেখানে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া না যায়,না নিজেকে দূরে রাখার সাহস যুগিয়ে উঠা যায়। এইটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।আমাদের জীবনটা চলে সম্পূর্ণ নিয়মের মধ্যেই।
আর যা কিছু নিয়মের বাইরে হয়,সেটাই হয়তো ভালোলাগা।হয়তো সেটাকে অনেকে ভালোবাসাও বলেন।আবার কেউ কেউ সেটাকে ওয়ান সাইড লাভ বলেও থাকেন।
রাহা,যাকে আমি সেই ২০২০ থেকেই চিনি।প্রথম দিন থেকেই বুজে ছিলাম।এই মেয়ে এই সবে যাবে না।
যায় ও নাই।কিন্তু ২৩ এ এসে শুনলাম ও নাকি রুহানকে পছন্দ করে।আমাদের সাথেই পরে।কিন্তু আমি কি করে ওকে তখন কষ্ট দিতাম। ও যেদিন আমাকে কথাটি বলল,জাস্ট বাচ্চাদের মত ওজরে কান্না করতেছিল আর নির্ভয়ে কাপাকাপা গলায় আমাকে সেই কথা,নিজের মনের কথা গুলো বলল।আমি সেদিন ওকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ওঁ নাকি রুহানকে বলেও দিয়েছে।
কিন্তু রুহান,এফেয়ার্স এ আছে ২০২০ সাল থেকেই।
শুধু বললাম,কোনো কিছুই করার নেই।
ওকে ভুলে যেতেই হবে।আজকে হঠাৎ দুইজনে বসে আছি। ওর ফোন টি হাতে নিলাম।বললাম,একটু গ্যালারিতে যায়?
বললো,যা।
আমি আবার বুদ্ধি করে ওর প্রাইভেট গ্যালারিতে চলে গেছি।দেখি রুহানের সাথে একটা মেয়ের ছবি।আর ওঁ কিছু ছবি আছে। কিরে তোর ফোন এই ছবি কেনো?
প্রথমে রেগে গেলেও পরে বলল,ছবি থাকলেই কি।
আমি গত কালকে থেকে আর এসএমএস দেই না।দিবো না আর বাকি জীবন।
তুই হয়তো জানিস না আমি রুহান কে প্রত্যেক দিন জালাইতাম।ওর মনে জায়গা পাওয়ার জন্য চাতক পাখি যেমন পানির আসায় থাকে,সেরকম আমি করতাম।
আমার নিজের বিবেগের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি বেহায়াদের মত বার বার এসএমএস দিতাম।আমাকে ও অনেক অপমান করতো।আমাকে কত বার যে ব্লক করেছে।আবার ভদ্রতার খাতিরে আনব্লক করেছে।কিন্তু আমি সেই সুযোগ নিয়েছি বার বার।তার সোশ্যাল মিডিয়ার সব স্টোরি সিন না করলে আমার মন মানে না।বার বার সেই স্টোরি গিয়ে দেখে আসি।মনে যে কি শান্তি,সেটা আমি ছাড়া কেউ জানে না।
ওর এই সব বেহায়া পনা কথা শুনে ওকে আমার তিরস্কার করতে ইচ্ছে করলো।
ইচ্ছে করলো,দুইটা চর মারি গালে।কিন্তু ওর মুখ দেখে কিছুই বলতে পারলাম না।আজকে ওকে সেদিনের থেকেও বিষন্ন,মনমরা লাগতেছিল।মনে হচ্ছিল সমস্ত অন্ধকারের কালো ছায়া মনে হয় ওর ঐ মুখে।তার চোখে যেনো না বলা কত কষ্টের ছাপ।মাথাটা নীচু করে যখন চুপ হয়ে গেলো,তখন দুইফুটা চোখের পানি তার এক হাতকে শক্ত করে ধরে রাখার আরেক হাতের সাথে,সেথায় পড়ল।কি দুর্বিষহ যন্ত্রণা।
মানুষ এই ভাবেও কষ্ট পাই,ওকে না দেখলে বুঝতাম না।
আচ্ছা ঠিক আছে।পরে দেখলাম,সেখানে ৫০ প্লাস ছবি আছে।রুহনের গার্লফ্রেন্ড এর ছবি।লাস্ট ডেট এর ছবি ও আছে।
হয়তো রুহান চেয়েছে ওকে বুজাতে যে ,তুমি যা চাইতেছ সেটা হওয়ার নয়।আমি কমিটমেন্ট এ আছি।তাই হয়তো ছবি গুলো দেখিয়েছে ওকে।
ছেলেটা খারাপ না।তাই হয়তো ওকে ওই ভাবে ট্রিট করে নাই।
এই যুগের ছেলেরা যে বদমাইস।
সে যাই হউক,,,,
বললাম,আজকে কেনো ব্লক দিলি।আবার আনব্লক করবি না তো।কারণ এর আগে তুই ও চেষ্টা করেছিস কথা না বলে থাকতে।কারণ আমি তোকে জানি।হয়তো তো প্যারিস নাই।
এই বার পারবি কি?
রাহা মুখ তুলে তাকিয়ে আমাকে বলল,
দেখ আমি জানি আমার ভেতরের খবর।কিন্তু আমি ওই মেয়ের প্রতি আরো বেশি কনসার্ন। দেখ আমি পাবো না কোনোদিনই।কিন্তু তাই বলে ওদের সম্পর্কের মাঝে নিজেকে কেমন যেনো নর্দমার মত লাগতেছিল।ওদের ভালোতে আমাকে খুশি থাকতে হউক বা না হউক।
দুঃখে থাকি আর যায় থাকি।ওখানে আমাকে মানায় না।
আমি এই জীবন চাই না।আমাকে বাঁচতে হবে।আর এই অবস্থায় থাকলে আমার অবস্থার অবনতি হবে আরো।অনেক লড়েছি ৪ বছর প্রায়।যুদ্ধ করেছি নিজের সাথে।
আমাকে সরে আসতে হবেই।নয়তো আমি বাঁচতে পারব না।আমাকে তার অভাব শেষ করে দিচ্ছে।কিন্তু আমার শেষ হলে চলবে না।তাই আমাকে আমার ভালটা বুঝতে হবে।আমার বিষন্নতা শুধু আমাকে শেষ করবে না।সেই সাথে আমার পরিবার কেউ শেষ করে দিবে।যা আমার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।আমার ভাই পাগল হয়ে যাবে ,আমি যদি কিছু করতে না পারি।আব্বা,আম্মাকে আমি কি জবাব দিবো।
আমার হয়তো এই যন্ত্রণা নিয়েই বাঁচতে হবে।কিন্তু শুনেছি যন্ত্রণার নাকি শেষ আছে।সময়ের বালি ঝরে নাকি তাদের ক্ষত শুকাই।আমিও নিজেকে সময়ের রাজ্যে বিলিয়ে দিলাম।
কিন্তু প্রতি নিয়ত ক্ষত স্থানে খোচা পেতে থাকলে আমি কখনোই সেই সময় নামক মেডিসিন এর সুফল পাব না।আমায় সব সময় অন্ধকার কারাগারের মত জীবন কাটাতে হবে।
আর ওই বেচারীর কি বা দুস, ও তো একটা মেয়েকে মন
থেকেই ভালোবাসে।
ভালোবাসা হলো সম্পূর্ণ একটা ব্যক্তি সত্তা।এইটা কারোর সাপেক্ষে হয় না।এই রং সম্পূর্ণ নিজের।এখানে কেউ কাউকে রাঙ্গাই না।
যদি কারোর রঙের সাথে মিলে যায়,তবেই সেই রং একাকর হয় একে অপরের সাথে।সেইটাই হয়তো পূর্ণতার রঙ্গে সেজে উঠে।বসন্তের সমারোহে নিজেকে বিলিয়ে দেই অপরিসীম ভালোবাসায় নিজেদের।অসীম আকাশে দুটি আত্তা হাসি খুশিতে বিচরণ করে।
আর রূহানের গার্লফ্রেন্ড এর অবস্থাটা ভাব।ওই মেয়ে এই ছেলেকে না পেলে ও নিশ্চিত পাগল হয়ে যাবে। দেখ কি সুন্দর হাসিখুশি আছে,এই হাসির কারণ টা তার জীবন থেকে চলে যায়, ও বাঁচবে না।
মেয়ে হয়েই,মেয়ের জায়গা থেকে বলছি।আমি পাইনাই। ও আমার কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করেছে।কিন্তু এই মেয়েটি তো অলরেডি ৫ বছরের সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে বাস্তব জীবনে আছে।যেখান থেকে ও বঞ্চিত হলে।সত্যি মেনে নেওয়া সমম্ভব।
ওর হাসি অক্ষত হউক।
হয়তো কষ্টে থাকা হাজারো মেয়ের লিস্ট এ ওর নামটি কখনও পড়বে না তাহলে।
তাহলে ছবিও ডিলেট করে দে।দেখবি আর দেখতে
ইচ্ছে করলেও দেখতে পারবি না।ইহাতে তোর ভালো হবে। ও বললো,ছবি গুলো রিমুভ দিয়ে দে তুই।আমি জানি ও করবে না রিমুভ।তাই আমি ডিলেট দিয়ে দিলাম।শেষ মেস ও বললো,ডিলেট লিস্ট এ আছে এখনো।সেখান থেকে রিমুভ দে।আমি সেটাই করে দিলাম।
বললাম,তুই ভালো থাকবি তো?
ভালো থাকবো কিনা জানি না।চেষ্টা করতে হবে অবশ্যই ভালো থাকার।আমি যেখানে ফেঁসে গেছি, আমি নিজের জীবন টাকে মৃত্যু তুল্য মনে করি।কিন্তু এই পথে এক জন জয় হবে।এই ময়দানে একজনের বিজয় পতাকা উড়বে। আর আমি তো নমিনেশন ই পাই নাই। যুদ্ধ পরে, জয় তো আরো পরে।
তাই আমি আমার মন কে ম্যানেজ করতে না পারলেও,নিয়ম এর মধ্যে থাকবো।যেটা নিয়ম সেটাই জীবন। নিয়মের বাইরে আমি যাবো না।
ঠিক আছে,তাহলে দেখিস।এই কথা থাকলো।যদি আবার দেখছি আনব্লক।তো খবর আছে।আর পড়াশুনা কর ঠিক মত।
আমি বললাম,নিজেকে আর সেসরা বানাতে ইচ্ছে করে না।আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল,,
কী অদ্ভুত একটা জিনিস ভালোবাসা।তাই না?
না মানে কোনো নিয়ম,না মানে কোনো শাসন।
আর না আছে এখানে কোনো ভয়,বা হিংসা।একটা মানুষ নিজের ব্যক্তিত্বকে কিভাবে নির্বাসন দিয়ে দেই,রাহাকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। এইটাই হয়তো নিয়তি।
Comments
Post a Comment