আমার বাড়ি
ঈদের সুবাদে বাড়ি আসছি। আম্মুও অসুস্থ,তাকেও দেখা হচ্ছে,টুকটাক বাসায় কাজ ও করছি।বলা যায় হেল্প করছি আম্মাকে। আজকের ভাবলাম,দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বো।সেই অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া ও শেষ হলো।আমাদের জামালপুরের বিখ্যাত মিল্লি। ছুট আপি আসছেন আর উনার ছুট ছুট দুইটা বাচ্চা।ছেলেটা ক্লাস ফাইভে পরে আর মেয়ে বাচ্চা এখনো স্কুল যায় না।বাসায় এসেই আম্মাকে বলতেছে,নানু মিল্লী খাবো।আম্মুও রান্না চাপিয়ে দিলো সেই অনুযায়ী।সেই মিললি দিয়েই খাবার আমিও খেলাম।বেশি একটা অপছন্দ,বলতে পারি না।কারণ আমিও দুইবার খেয়েছি।
সবাই বললেন,গরু গুস্ত আগামী তিনদিন খেলে কিছুই হবে না। খাও।আমিও খাইলাম উনাদের কথা ই।
আমার শরীল টা একটু খারাপ ছিল বলে একটু দ্রুত আজকে ঘুমাতে চেয়েছিলাম আজকে।তাই রাত ১০ টায় ফোন রেখে ঘুম দিলাম।মুটামুটি গরম আছে বলা যায়,কিন্তু আমি ফ্যান অন রাখি না।তাহলে আর রক্ষে নেই।এমনিতেও কাথা নিয়ে ঘুমাই। ঘুম ভাঙ্গলো রাত ১২ টায়। বাবার কথা শুনেই জেগে গেছি।
উঠেই দেখি আম্মা আব্বা দুইজনেই কথা বলতেছে,আমার ছুট ভাই একটু আগেই রুমে আসছে। ওর এক বন্ধুকে নিয়ে।বাবা ওর থেকে কৈফিয়ত চাচ্ছে।বলতেছে কাউকে বলে যাও নাই কেনো?
আর একা একা স্টেশন থেকে বাসায় আসলে,গাড়ি নাই
পরে আমি ওকে বাঁচানোর জন্য বললাম,আব্বা আমাকে বলেই গেছে,আমি তোমাকে বলতে ভুলে গেছি।যদিও বাবাও আজকে পাশের বাড়ি মামার দুকান থেকে চা খেয়ে আসতে আজকে ১১ টা সময়।আম্মা ,আমি ঘুমাইছি এসে দেখে।এদিকে দরজা খোলা, বাজে রাত ১১ টা।হারুন ও ঘরে নেই। কার ভালো লাগে তখন।তাই একটু বকাঝকা করতেছেন।এই দিকে আম্মা,আমি দুইজনেই ঘুমাইছি বলে বাবা কাউকে জিজ্ঞেস করতেও পারে নাই।
বুঝতে পারলাম বাবার ঘুম হয়নি এতক্ষণ। মানে ঘুমই আসেন নাই।ঠিক আছে রাগারাগি করো না।ঘুমাও এখন।
আমিও আর কোনো কথা বাড়ালাম না।বাবাকে বলে আমিও ঘুম আসতে চেষ্টা করলাম।
পরে ওরাও শুয়ে পড়ল,আব্বা দেখি হারুনের রুমে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেছে,কেমন আছ বাবা?
জ্বী আংকেল ভালো আছি।আপনি ভালো আছেন?
মানে হারুনের যে বন্ধু আসছে ওকে বাবাও চিনে।এইটা নিশ্চিত হলাম।ছেলেটার নাম শাকিল।হারুন যখন মাদ্রাসায় পড়ত,তখন ওর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়।আমাদের বাড়িতেই মাদ্রাসা, মসজিদ,আর ঈদ গা মাঠ।
ওখান থেকেই ওদের সম্পর্ক। কতদূর থেকে আসলো,খাবার না খাইয়েই ঘুম আসলে।আগে বলে রাখলেই হতো,তুমার আম্মাও একটু রেডী থাকতো।
হারুনকে আব্বা কথাটা বললে,হারুন বললো
আব্বা ও হোটেল থেকে খেয়েই আসছে।রাতে আর খাবে না।
আমি ছেলেটাকে চিনতে পারছিলাম না।
পরে মনে পড়ল গত ঈদের কথা....
গত ঈদে আমি আর হারুন ঘুরতে গেছিলাম দুইজনে।আমার মনে হয়,ভাই বোনের ওইটা ফার্স্ট কোথা ও ঘুরতে যাওয়া ছিল।দুইজনেই রিকশায় উঠলাম।মনে হচ্ছিল অনেক খুশি আছি দুইজনেই।অটোতেও যাওয়া যেত,ভাবলাম রিকশায় উঠে গেলে মজা হবে অন্যরকম।আমার মেজু ভাবীকে দেখতে যাওয়ার হচ্ছিল গত ঈদের দিন।সেদিন শেমপুর বাজার পার হওয়ার পর বলতেছে আর একটু পরেই আমতলা,সেখানেই আমার বন্ধু শাকিলের বাড়ি।আজকে বিকালে তুমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ওখানেই যাবো আমি।ওখানে সিহাব,শান্ত আরো অনেকেই গেছে অলরেডী।আমি বললাম, ও কে ?
তোর এত দূরে বন্ধু কিভাবে হলো?
আমার ভাই,আমাকে সরল মনে সব কথা বলা শুরু করলো, জান ওর না বাবা মা নাই।
কথা শুনে আমার খারাপ লাগলো।
বললাম,তাহলে ওদের বাড়িতে তুই যাচ্ছিস কেনো?
ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যা।
ওর এখানে কে আছে?
ওর ভাবি আছে,কিন্তু ও একাই রান্না করে খাই।ওকে দেখে না ওর ভাই,বড় বোন ও আছে।
আমি আজকে ওদের বাড়ি যাবো।আমরা সবাই বাজার করে নিয়ে গেছি।মুরগি, কাঁচা সবজি,ওর জন্য আমি ১৫০০ টাকা দিয়ে শার্ট পেন্ট ও কিনেছি।ওইটা আমি পার্সোনালি দিয়েছি। আমি ওকে প্রতি ঈদে কিছু না কিছু দেই।আমি যখন কাজ করতাম না,তখন ও ওর বোনের কাছে ঢাকায় একটা দুকানে কাজ করত।তুমি জানো ও আমাকে পেন্ট শার্ট কিনে দিয়েছিল।
আমার না ওর প্রতি অন্য রকম মায়া হয়।
ওর দুলাভাই এর কাছে থেকে ও চলে আসছে,ওই লোক নাকি ওকে বেতন এর টাকা দেই না এখন।যেখানে কাজ করে,মালিকের থেকে উনি টাকা তুলে নিয়ে আসেন।বলেন যে ও ছুট মানুষ,ওকে দিয়েন না।
আমাকে দিয়েন।
টাকা পয়সা কি না কি করে।
আমি বললাম,ঠিক আছে ওকে দেস,সমস্যা নেই।
কিন্তু ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাইস আজকে।এখানে রেখে কি করবি।
আজকে ওদের বাড়িতে মজা করে,সাথে নিয়ে বাড়ি আসিস।আমি ও চিনি না।একটু দেখিরো।বলে তুমি ওরে দেখলেই চিনবে।আমাদের বাড়িতেই খাবার খাইতো,যখন ও পড়ত। ওর খাবার দায়িত্ব আমাদের উপর ছিল।তারপর ও হাফেজ পাস করলো,আর অন্য জায়গায় চলে আসলো,কিন্তু একটু তো খরচ লাগবেই এখন,সেটা দিলো না ওর ভাই।
আর তাই পড়তেও পারল না।
শাকিল নাকি অনেক সফট মনের ছেলে,আসলে মা বাবা যাদের থাকে না,তারা এই দুনিয়াটাকে অন্য ভাবে দেখে । স্বাভাবিকতার এক অস্বাভাবিক রূপ দেখেই বড় হয়। জীবনের প্রতিটা সেকেন্ড তারা হয়ত চিৎকার করে বলতে চাই,মা আমি ভালো নেই তুমাকে ছাড়া,বাবা আমাকে ছেড়ে না গেলেও পারতে।
হারুন এমন ভাবে কথা গুলো বলতেছে,যেনো ও নিজেই সেই কষ্টটা ফিল করতেছে।আমি আর ওকে কিছুই বলতে পারলাম না।
সেদিনই শাকিলের কথা শুনেছিলাম।আজকে আবার সেই ছেলে।গত কালকে ঈদ গেছে কুরবানীর।হয়তো ঢাকা থেকেই আজকে রাতে ফিরেছে। বাড়িতে আসার তাগিত নেই।আমাদের মা ঈদ এর ১০ দিন আগে থেকেই বলা শুরু করেছে কবে আসবে? কবে আসবে? যখনি কথা হয়তো আম্মার সাথে,আব্বার সাথে
কথা একটাই।কখন আসবে?
কিন্তু ওকে বলার কেউ নেই।
ওকে একবারের জন্য ও কেউ প্রশ্ন করে নাই
কবে আসবে বাবা?
শুনেছিলাম মায়ের আঁচলের কিছুটা অংশ নাকি বোনের আঁচলের মাঝে লুকায়ীত।কিন্তু এর ক্ষেত্রে সেটাও নেই।
তাই হয়তো আসে নাই।
হয়তো হারুনের কথা তেই দুইদিন এর জন্য দেশে আসছে।বন্ধুত্বের টান বলে একটা কথা আছে।
যায় হউক,আজকে রাতে আমি কোনো ভাবেই ঘুমাতে পারছি না।এদিক ওদিক ফিরছি আর ঘুম যেনো কোথায় পালিয়ে গেলো।ভাবলাম,একটু পড়ি তাহলে নিশ্চয়ই ঘুম ধরবে।তাই ফোন নিয়ে প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান করতে শুরু করলাম।আড়াইশো কোয়েশ্চন সলভ করলাম,বাজে ভোর ৪ টা।আমি ভাবলাম ঘুম আসতেছে না কেনো?
আমার অবশ্য ঠান্ডা বেড়ে গেছে আজকে।তাই হয়তো,একটু পর পর হাঁচি হচ্ছে, আর সেই সাথে আমার মনে হচ্ছে আব্বা আবার উঠেই পরে নাকি।কারণ আমাদের পাশাপাশি রুম।একই ঘর,রুম তিনটা। সব মিলিয়ে আমি কো নো ভাবেই ঠান্ডা কে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।যখন ৫ টা প্রায় বেজে গেলো,মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো।
বিছানা থেকে উঠে ডাইনিং টেবিল এ বসে বসে প্রশ্ন সমাধান করতে লাগলাম।আর হিটার এ একটু পানি গরম দিলাম,একটা কফি পান করবো এই ভেবে।
৫ মিনিটেই পানি তৈরি হলো।কফি খেয়ে নিলাম,এরই মাঝে বাবা উঠে পরেছে।বাবা মসজিদে চলে গেলেন। একটু পরে একটা বৃদ্ধ লোক,উনার কন্ঠস্বর শুধু চিনলাম।বাবাকে ডাকতেছেন,কাশেম, ও কাশেম।
নামাজে যাবে না?
উঠ নাই? আমাদের বাড়ি যতক্ষন না পার করা হলো,উনি ততক্ষণ আব্বাকে ডাকতে থাকলেন। আমি উনার নাম জানি না তবে উনার মুখটা মনে পড়ল। এখন লাঠি ভর করে হাটে। একটু পর তার আর ডাক শুনা গেলো না।
আমিও আর রেসপন্স করলাম না।আমাদের বাড়ি রাস্তার সাথে।৩ পাশেই ঘর আছে।আর বাইরে যাওয়ার জন্য গেট সিস্টেম।বাড়ির সামনে পাগার (পুকুর সিস্টেম) গ্রামে অনেকই পুকুর বলে।তবে ঐ শব্দটাও ব্যবহার করে। পুকুর যেমন চারিদিক বাউন্ডারি করা থাকে মাটি দিয়ে।ওখানে মাস চাষ করে।কিন্তু পাগার বাউন্ডারি থাকে না সাধারণত।মাস চাষ ও করে না নিয়মিত।বন্যার পানিতে যতটুকু মাস বাসা বাঁধে।
এই আর কি ।
বাড়ি করার সময় বাবা ওখান থেকেই মাটি নিয়ে আমাদের বসতভিটা তে দিয়েছে।
তাই ওই রকম সামনে।
ধুম করে একটা আম পড়ল উঠানে। বুঝতে পারলাম ঘরের উপর যে গাছটা আছে,সেখান থেকে পড়ল।
আম্মুও বুজে গেছে।আমি যখন বাইরে যাচ্ছি,দেখলাম আম্মা উঠার চেষ্টা করতেছে।আমি যে রুমে ঘুমাই, ঐ রুম থেকে বাইরে গেলে আব্বা আম্মার রুম হয়েই যেতে হয়।আমি গিয়ে আমটি তুললাম।আম্মা উঠেছে দেখে বললাম আমি ধরেছি আম।দেখি আম্মা আবার শুয়ে পড়ল।
আমাদের বাড়িতে ৪ টি আম গাছ আছে।কাঠাল গাছ ছিল ৪ টি ,এখন নেই।একটা মাত্র গাছ বাড়ির দক্ষিন পাশে লাগানো আছে।বাকি গুলো থেকে,একটা ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে। আর একটা কেটে ফেলা হয়েছে।আর একটা কাঠাল ভালো হয়না। তাই কেঁটে কাঠ করে রেখে দিয়েছে।
মালটা,সফেদা,আতাফল ইত্যাদি কাছ আছে।
আমটি নিয়ে এসে আমিও বসে পড়তে চাইলাম,কিন্তু খুবি বিরক্ত লাগতে লাগলো। অসুস্থতায় শরীল ছটফট করতে লাগলো। প্রায় এমন হয়। আমি মেসে থাকলে সমস্যা হতো না।কিন্তু আমি বাড়িতে বাবা মা যদি বুজতে পারে আমি ভালো নেই।উনারা চিন্তা করবেন।বিশেষ করে আব্বা।উনি আম্মার অসুস্থতার জন্য এখন অনেক চিন্তিত।তার উপর আমার কথা বললে। যাই হউক সব মিলিয়ে চুপচাপ রইলাম।
মনে হলো,সকালে হাওয়া খেয়ে আসি।রাস্তায় যায় একটু।এখনতো আর কেউ নাই রাস্তায়।বাড়ির গেটে দাড়ালাম একটু।
দেখলাম,হালকা আলোকিত হয়েছে চারিদিক।কে যেনো আসতেছে দেখলাম দক্ষিন দিক থেকে। মানে মসজিদের থেকে আসতেছে।চশমা চোখে ছিল ,তাই দেখতে পেয়েছি।
নয়তো ঐ আলোয় এত দূরে দেখে যেতো না।
একটু পর বুঝতে পারলাম,শাহাজান ভাই।
আমাদের বাড়ির পরের বাড়িটি তাদের।উনি চলে গেলেন।
তারপর দেখলাম একটা ছোট্ট বাচ্চা। সাত বছর হবে কিনা সন্দেহ আছে।মাদ্রাসায় পড়ে। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে থাকতে হয়।এখানে মাদ্রাসা তে যারা পরে,সবাইকে রাতে ওখানেই থাকতে হয়।এখন তো ঈদ।তাই বাড়িতে থাকে।
বাচ্চাটা নাচতে নাচতে আসতেছে।নাচতে নাচতে বলতে খেলার চলে,হেলতেছে দুলতেছে।এমন ভঙ্গিমাতে।
যখন আমার কাছে আসলো,আমার দিকে একবার তাকাল।আমি বললাম,শুনো বাচ্চা।
আমার কাছে আসলো।আমিও ওর হাত দুটি ধরলাম,বললাম, তুমার নাম কি?
তুমার বাসা কোথায়?
মুফতি।
বাসা কালাবাড়ি।
এখান থেকে অনেক দূর।আমি হাঁটলেও সাত মিনিট এর মত যেতে পারব না।এই বাচ্চা একা একা আসছে,ওখান থেকে।এইটা আসলেই নামাজের প্রতি টান ছাড়া কিছুই না।বললাম,
তুমার ভয় করে নাই আসতে?
জ্বী না।
একটু সরম পেতেও লাগলো।তবে মুচকি মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলল।তুমার বাবা কি করেন?
আব্বু রিকশা চালায়।
আমি কিন্তু তুমাকে চিনি না।
তুমি কি আমাকে চেনো?
বললো,জ্বী চিনি?
আপনি হারুন ভাইয়ের বোন।
হারুন কে কিভাবে চিন,বললো ভাইয়া তো মাদ্রাসায় যায়।তাই চিনি।
আর আপনি একদিন ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আসছিলেন মাদ্রাসা থেকে।
যদিও স্পষ্ট কথা না,থেমে থেমে কথা বলতেছে বাচ্চা টা।
আম খাবে,একমিনিট দাড়াও এখানে।আমি বাসায় এসে আমটি নিয়ে,বাচ্চাটিকে দিলাম।
বললাম,বাসায় গিয়ে খেয়ে নিও।
শুধু মাথা নেড়ে বলল,আচ্ছা।
তুমি নামাজ মিস করো?
বললো,না।
নামাজ মিস করলে আব্বা,আম্মা দুইজনেই আমার সাথে কথা বলে না,আমাকে মজা কিনে দেই না।
আর আমাকে আব্বু বলে,তুমি যদি মিথ্যে বলো,তাহলে আমার জন্য নতুন জামাও কিনে নিয়ে আসবে না।
আর আমার আব্বু বলেছে,আমি যদি নামাজ পড়ি,তাহলে দ্রুত বড় হবো।পড়াশুনা ভালো ভাবে শিখতে পারব।আর আমি বড় হলেই আব্বুকে আর রিকশা চালাতে দিবো না।
কারণ আব্বুর অনেক কষ্ট হয়।
এত গুলো কথা বাচ্চার মুখ থেকে শুনে,আমি অবাক।
কি চিন্তা
কী নিষ্পাপ ভালোবাসা বাবার প্রতি ছেলের।
আমি বাচ্চাটাকে একবার জড়িয়ে ধরলাম।
বললাম,তুমি অনেক অনেক বড় হও সুনা।
এখন বাড়িতে যাও।
সাবধানে যেও।
তারপর আমি বাড়ির ভিতরে আসলাম।বাতাস প্রচুর।অনেক গুলো বাবই পাখি আমাদের বাঁশঝাড়ে।
বড় ভাবির মুরগির ঘরে মুরগির কেচ কেঁচ করতেছে।
মুরগির ঘরের দৌড় খুলে দিতে চাইলাম।
কিন্তু তখনও এতটা আলোকিত হয়নাই আশপাশ।
আবার শেয়াল,এসে ধরে নিয়ে যাবে।
তাই ছেড়ে দিলাম না।
দেখলাম,আম্মা উঠেছে।ওযু করে নামাজ পড়তে রূমে গেলেন আম্মা।
আমাকে বললেন,আজকে এত তাড়াতাড়ি উঠেছ তুমি।
কি হইছে।
বললাম,
একটু হওয়া খাই আম্মা....
Comments
Post a Comment