মিশু
চারিদিকে গুর অন্ধকার। রাত প্রায় শেষ পর্যায়ে । পাখিরাও একটু পরেই নিদ্রা ত্যাগ করবে।
এমন সময় নিরালা কে ঘুমের
ধান্দায় কথা বলতে শুনল লিপু। লিপু রাত তিনটার পর বিছানায় থাকে না। উঠে পড়তে বসে। সেদিনও তাই করল। হঠাৎ নিরালা বলতেছে,আমি যায় হয় না কেনো, আমি মানুষ। আমাকে এইভাবে বলা ঠিক না।
লিপু বিচলিত হয়ে ওর মুখে লাইট ধরল।
দেখল,মুখ কুঁচকে আছে, কপালে ঘাম জমে আছে।
যদিও তখন প্রচণ্ড শীত চলছে। কুয়াশার রাজত্ব চলছে রাতের সমস্ত মাঠের ঘাসের উপর।
চারদিকে নিস্তব্দ ।
চাদর মুড়ি দিয়ে বিছানার পাশে বসে পড়তেছে লিপু।
ওরা দুইজন একই বিছানায় থাকে।
ওকে ধাক্কা দিয়ে বলল,কি হয়েছে?
এমন করতেছ কেনো?
এই,নিরালা।
ধাক্কা খেয়ে ধুম করে বিছানায় উঠে বসলো,
মনে হলো হুসে ফিরেছে।
চোখ ধীরে ধীরে খুলে লিপুকে দেখে,জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিলো।
আজব,কি হয়েছে তুমার?
কান্না কর কেনো?
কোনো কথা বলল না,
শুধু বলল,তুমি পর। এখন তোমাকে ডিস্টার্ব না করি।আমি ঘুমাই।বাজে একটা স্বপ্ন দেখেছি।
বলেই বেচারা ঘুমিয়ে গেলো।
কেনো জানি নিশ্চুপ হয়ে গেলো। হুট করেই কান্নাও থেমে গেলো।
জানি না বাবু, এরা কেমন জানি লোক,এই কান্না কাটি করে একাকার,পরক্ষণেই চুপ,শান্ত মেজাজের।
দেখে বুঝার উপায় নেই যে বেচারা মাত্রই কান্না করলো।
কিছু লোক আছে এরা কোনো প্রকার পূর্বাভাষ ছাড়া,বিদ্যুৎ চমকানোর মত।
হুট হাট একটা কিছু শুরু করে,আবার পরক্ষনেই শেষ।
যায় হউক, লিপু মনে মনে কথা গুলো বলে, পরতে বসলো।
কেউ যদি না বলে, লিপু কোনো কিছুর জন্য জোর করে না।
পেটের কথা হজম না হলে এমনেই বের হয়ে আসবে।
কারণ খারাপ কিছু পেটে হজম হয়না।
অবশ্যই বেরিয়ে আসে।
লিপু এইটাই মনে করে পড়ায় মন দিল।
সকাল ৭ তার দিকে ঘুম এর ঘুরে সে শুনতে পাচ্ছিল
কিছু কথা।
তোমার মত একটা মেয়েকে আমি কেনো পছন্দ করব? হাঁটা হাটিতে কোনো মেয়েলি স্বভাব নেই।কথা বার্তায় স্নিগ্ধতা নেই।গায়ের রঙের ব্রাইটনেস নেস।সমাজে দেখানোর মত একটা ভালো পরিবার নেই।আমাকে তুমি কেমনে চাইতে পারো?
কোন সাহসে!
জানো সুমা,আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।স্বপ্ন টা দেখেই। বুজতে পারল নিরালা তখনও কান্না করতেছে।
এখন সে বুঝতে পারল,গত কালকে ও এই সব কিছু স্বপ্নে দেখেছে।এই কথা সুমার সাথে সেয়ার করতেছে।
সুমা, পাশের রুমে থাকে। সুমা ওর বেস্ট ফ্রেন্ড। গ্র্যাজুয়েশন এর শুরুতেই ওর সাথে বন্ধুত্ব হয়।
ওকেই তো বলবে।
আমি আর ওই ছেলেকে জ্বালাবো না।
থাক ভাই,দুনিয়ায় সবাই সুখী হওয়ার জন্য আসে না।আমিও না হয়,তাদের লিস্ট এই থাকলাম।
আমার উপর ওয়ালা যদি আমাকে এই ভাবে তৈরি করে শান্ত থাকতে পারে,আমি কেনো সৃষ্টি হয়ে কষ্ট পাবো।
যেখানে আমাকে। তৈরির পিছনে আমার বিন্দু মাত্র অবদান নেই।
মনে মনে লিপু ভাবলো,ভালই তো দার্শনিকের মত কথা বলতেছে।সে মনে মনে হাসলো,আসলে সত্যিকারের প্রেমে যারা পরে তারা আর উঠে,নতুন ধানের ভাত খাইতে পারে না। কিছু দিন আগেই তো আমার থেকে একটা থাপ্পর খাইলা।এখন যদি একটু শিক্ষা হয়। কী একটা অবস্থা।ভালবাসতে যাওয়া। হম আসছে।পড়াশুনার খবর নেই।এই দিকে প্রেমে পরে বসে আছে।
নিরালা লিপুর ডিপার্টমেন্টের একটা ছেলেকে পছন্দ করে।ওই ছেলের নাম শান।শান আবার সুমার এলাকার ছেলে।সেই সুবাদে ভালই যোগাযোগ আছে ওদের মধ্যে।
কিন্তু ব্যাপারটা টা যে এতটা সিরিয়াস হবে,বুজা যায় নাই। প্রথম বর্ষ থেকেই নাকি নিরালা ছেলেটাকে বুঝানোর চেষ্টা করতেছিল।
একদিন নিরালা কে ড্রাগস নিয়ে রুমে আসতে দেখায় লিপু ওকে থাপ্পড় মেরেছিল।
এই ঘটনা জানাজানি হলে হল থেকে যদি ওকে বের করে দেই, লিপু ও ফাসবে সেই সাথে মান সম্মান সবই যাবে।এই ভয়ে বেসিনে ফেলে দেই।আর বোতল ফেলে দেই টুকরো টুকরো করে ডাস্টবিনে।সেই সাথে
বলেছিল,এর থেকে মারা যাও।এই সব করে কি বুঝাইতে চাচ্ছ,দেবদাস হওয়ার ধান্দা।
ভালোবাসলে পাওয়ার লোভ করতে নেই।
যদি এই শর্তে ভালবাসতে চাও সেটাকে ভালবাসা বলে না। তখন সেটা কন্ডিশন এ রূপ নেই।
তুই দিলে মুই দিমু,একা একা কত দিমু।
এইটা হলে,সেখানে আর ভালোবাসা থাকলো কোথায়?
বলো।
যা থাকে সেটা হলো এক্সচেঞ্জ।আর যদি সেটা না থাকে,তাহলে কারোর সাথে পরিচয়টা ও হারিয়ে যায়।
তাই এসব দেবদাস গিরি ছেড়ে দিয়ে।
ভাগ্য কে নতুন করে লিখে নেওয়ার জন্য উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করো।
তার পর থেকে লিপু কে তেমন কিছু শেয়ার করতো না।
মাঝে মাঝে এখনো বুজতে পারে লিপু
প্রায় রাতে কান্না কাটি করে ঘুম আসে ও।
ফোন কি না কি দেখে আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করে।
মাথায় এমন ভাবে বিষয়টা গেঁথে নিয়েছে
এখন স্বপ্নেও উল্টা পাল্টা দেখে।
ছেলেটি উচ্চ বংশের।আর পড়ালেখায় ডিপার্টমেন্ট ফার্স্ট। ইকোনোমিক্স এ পরে....
আর সবচেয়ে বড় কথা ওই ছেলের যে ভাব।
ও কেনো এসে একসেপ্ট করবে।
লিপু কথা গুলো ভাবতেছিলো আর বাস্তবতার সাথে কল্পনার যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছিলো নিজের মস্তিষ্কে।
বাস্তবতা বলতেছে,নিরালা যেমন হউক দেখতে,হউক নিচু পরিবার। ও আসলেই একটা ভদ্র মেয়ে।
নামাজ কালাম পরে।আর সবসময় ভয়ে ভয়ে চলে,যাতে কোনো অঘটন না ঘটে জীবনে।
সেই বেচারি অঘটন এই পরে গেলো।
আর কল্পনা যেটা ,সেটা হলো হউক না মিল।
কি বা হবে।একটা অতৃপ্ত আত্তা শান্তি পাবে।
মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
মানুষ চাইলেই সব কিছুই মেনে নিতে পারে।
নিরালা কে নিয়ে হয়তো শান ও মেনে নিতে পারবে।
লিপু কথা গুলো চুপচাপ শুনতেছিল।ওরা ভেবেছে, লিপু ঘুমিয়েছে।কিন্তু ওদের কথার কানাঘুষার ফলে ওঁ যে জেগে গেছে,সেটা আর ওরা জানবে কিভাবে।
কয়েকদিন পর, ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্ট এ একটা ক্লাস পার্টি।লিপু সেদিন পার্টিতে উপস্থিত হয়েছে।
শান হঠাৎ এসে লিপুকে বলতেছে।
কেমন আছো?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
তুমি?
ভালো আছি।
এখানে বসতে পারি?
পাশেই ব্র্যাঞ্চ এ বসলো শান।
তুমার রুম মেটের কি অবস্থা?
কার কথা বলছো?
যদিও কিছুটা জানে,তবুও ভালো মতো যাচাই বাছাই করার জন্য জিজ্ঞেস করলো আবার লিপু।
নিরালা তুমার রুমে থাকে না?
হুম,থাকে।আমরা একই বেড় শেয়ার করি।
জানো, ও তো একটা সাইকো।
কেনো?
ও আবার কি করলো?
প্রায় এক মাস আগে এমন ভাবে মেয়েটাকে অপমান করলাম,তবুও এখনো মেয়েটা আমার সাথে কথা বলতে চাই।আমাকে এখনো ইমপ্রেস করার চেষ্টা করে।
সেটা খারাপ কি হলো?
হয়তো সে সত্যি তুমাকে ভালো বাসে।
তা তুমি ওকে কি বলেছ যে ওর তুমার উপর বিরক্ত হওয়া উচিত বলে তুমার মনে হলো?
তুমি দেখতে সুদর্শন।হয়তো তুমার পজিসন ও ভালো।
কিন্তু ভালবাসতে একটা নির্ভেজাল মনি যথেষ্ট।তুমি চাইলেই বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে পারো।
খারাপ হবে না।নিরালা একাই।বাবা মার যায় কিছু থাক। সবই ওর।
হয়তো সামাজিক স্ট্যাটাস নেই।
কিন্তু ওইটা হইতে সময় লাগে না।
তবে এইটা আছে মানেই আবার চাদের মত ধাম্ভিক হয়ে উঠার কিছু নেই।
চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো নেই। চাদ যেমন সূর্যের আলোর সাপেক্ষ নিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।আভিজাত্য ও তেমন।
ওই আভিজাত্য বিষয়টির নিজস্ব কিছু নেই।ওইটা অর্থের উপর নির্ভরশীল।
যদি অর্থ থাকে,এমনেই চলে আসে ওইটা।
না থাকলে,,,তুমার আমার ভাষাই বলি স্টেটাস লেস।
তখন সে পুরু ঘটনা বললো,
লিপু বুজতে পারল,সেদিনের সেই স্বপ্ন ছিল তার মস্তিষ্কের ক্যান্সার স্বরুপ।মন,মাথা ও অপমানের বিষয়টি নিয়েই ভাবছিল সে।
সাইকোলজি বলে,
মানুষ যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকে
সেটাই ঘুমের মধ্যে অবচেতন মনে ও ভাবতে থাকে।
সেদিন নিরালার সেটাই হয়েছিল।
আমাকে হয়তো বলে নেই।
গত কালকে আমি ওই মেয়েকে অনেক কিছুই বলেছি।
কি বলেছ?
বলেছি,আমাদের ডিপার্টমেন্টের যে প্রোগ্রাম টা হচ্ছে,
সেখানে তুমি ড্যান্সার হিসেবে পার্টিসিপেট করো।
যদি তুমি পরিপূর্ণ মেয়েলি স্বভাবের একটা ড্যান্স করতে পারো।
তাহলে আমি তুমাকে মেয়ে হিসেবে ভেবে দেখব।
বলেই শান হাসিতে ফেটে পড়ল।
লিপু স্তব্ধ হয়ে শুনছিল ছেলেটির কথা।
এরাও মানুষ।
কি সুন্দর তাদের পুরুষত্ব।
মানুষের দুর্বলতা নিয়ে কতটা তৎপর খেলা করতে।
এদের হাতেই মেয়েরা নর্তকী,এরাই তৈরি করে মা, এদের সাপেক্ষেই বোন আর এদের জন্যই বউ।
লিপু সেদিন কিছু বলল না।
বিদায় নিয়ে হলে চলে আসলো।
ক্লাস পার্টিতে থাকতেও আর ভালো লাগলো না।
হলে ফিরে আসলো।
এই বিষয় গুলো সে আর কাউকে বললো না।
লিপু লক্ষ্য করলো,সুমি আর নিরালা সারাদিন রুমে থেকে না।এমন কি হলের কোথাও থাকে না।
না ডাইনিং রুম,না রিডিং রুম,না অঙ্গসজ্জা রুম,না আড্ডা দেওয়ার রুমে।
কি ব্যাপার,কোথায় থাকে ও।
লিপু জিজ্ঞেস করে না আর।
অনুষ্ঠানের আগেরদিন রাতে,নিরালা লিপু কে বলল,আমাকে তুমার অর্নামেন্টস গুলো দিবে।
আর তুমার না লেহেঙ্গা আছে। সেটাও একটু দিবে।
ঠিক আছে নিয়ো।
ও আর জিজ্ঞেস করে না। কারন ও জানে ওই ছেলের ফাঁদে পড়েছে।এখন নিজের সারাজীবনের পার্সোনালিটি বিসর্জনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ও আর বুঝালো না।কারণ প্রেমে পড়লে মানুষের বুধ বুদ্ধি লোপ পায়। হাজার বুজাইলেও কাজ হয়না। যতক্ষণ না সে নিজে বুজতে শিখে।
পরের দিন সবার আগে খুবি সকালে সে চলে যায় কলেজ প্রোগ্রামে।
লিপু গিয়েই ইনডোর অডিটোরিয়াম এর কোনো এক চেয়ার এ বসে পড়ল।
প্রোগ্রাম শুরু হলো সকাল দশ টায়।
বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের প্রোগ্রাম শেষ হলো।
স্যারদের লেকচার শেষ হলো।
অন্যান্য কলেজ থেকে আগত স্টুডেন্ট দের পারফরমেন্স ও শেষ হলো।
মুটামুটি অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে,কিন্তু নিরালার পারফরম্যান্সের কোনো প্রভাবিলিটি দেখতে পারছে না লিপু।লিপু তাদের ডিপার্টমেন্টের রিপন স্যারকে মঞ্চের এক কোণে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
রিপন স্যার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন।
স্যার,নিরালা কি ড্যান্স করবে?
কোন নিরালা?
দর্শন বিভাগের নিরালা।
স্যার বললেন, হম করবে।
সবার শেষে।নিরালা তিনটা ড্যান্স করবে।
টানা পারফরমেন্স হবে।
একটু পরেই শুরু হবে।
তারপর সেই মুহূর্ত চলে আসলো।
শান সবার সামনের সারিতে বসছে। শানের পাশেই একটা সিট ফাঁকা দেখে সেখানে লিপু গিয়ে বসলো।
গ্রুপ পারফরমেন্স।দেখা গেলো, আট জন ছেলে আর সেখানে লেহেঙ্গা পরে বেচারি ড্যান্স করতে গিয়েছে।
বেদের মেয়ের মতো সেজেছে।খুবি সুন্দর লাগতেছিল। ম্যাক আপ এমন ভাবে নিয়েছিল, ওর রং একদম ব্রাইট দিচ্ছিল।গুলাপি রঙের ঠোঁট হাত ভর্তি কাচের চুরি।মাথায় কি সুন্দর খোপা করেছে,বেলি ফুলের কৃত্তিম ফুলের মালা কাদের উপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে।কানে ঝুমকা দিয়েছে।পায়ের গোড়ালি রক্ত রেখা দিয়ে রাঙিয়েছে। হাত রাঙিয়েছে মেহেদী দিয়ে। ঐ চোখ দুটি সাজিয়েছে।জমকালো মঞ্চে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
লিপুর নিজেরই ভয়ে হাত পা কাপতেছিলো।
লিপু ভেবেছিল একা ড্যান্স করবে,কিন্তু এই রকম কেনো?
কোনো উত্তর পাচ্ছিল না খুঁজে লিপু।সব কয়টা ছেলে এক রকম ড্রেস পড়েছে।
ড্যান্স শুরু হলো,দর্শক পুরু ফিট পারফরমেন্স দেখে।পিছনে ছেলে,মেয়ে সবাই তালেতালে মিলিয়ে ওদের উৎসাহী করতেছে।পরিস্থিতি এমন,লিপু একে বারে সামনের দিকে গিয়েই ভালো করেছে বলে মনে হলো।
কারণ,সবাই দাড়িয়ে পড়েছে।ধাক্কা ধাক্কি।
বিচারক রা মঞ্চের বাম পাশে বসে আছেন।
এই বুজি একে অপরের উপর পড়ে যাচ্ছে।ছেলে মেয়ে সব ভুলে যাচ্ছে।
প্রথম ড্যান্স শেষ,পরক্ষণেই নিরালা বেরিয়ে এলো নতুন সাজে,জাস্ট ওয়াও।লিপু লাফ দিয়ে উঠেছে।নিরালা তুমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
ক্যারি অন।
নীল রঙের শাড়িতে তাকে দেখে মনে হচ্ছে আকাশ থেকে একটা পরী এসে নামলো মঞ্চে।
তার সেই ড্যান্স ও শেষ হলো।
এবার সে বেরিয়ে এলো সেলোয়ার কামিজ পরে।
সে সময় যে গানটি চলছিল,তার প্রায় মাজ পথে একটা ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ল।দুইজন ছেলে তাকে নিয়ে মঞ্চ থেকে বেরিয়ে পড়ল।
ড্যান্স বাকি টুকু শেষ করল।
পুরু অডিটোরিয়াম নিস্তব্দ হয়ে গেলো পারফর্ম্যান্স দেখে।রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান ডিপার্টমেন্ট এর স্যার মেমরা মিলে তাদের গ্রুপ কে দশ হাজার টাকা পুরষ্কৃত করলো।ঠিক তার পর নিরালা রিপন স্যারকে কানে কানে কি যেন বললো,স্যার বাকি জজ দের থেকে অনুমতি নিয়ে নিরালা কে কথা বলার জন্য মাইক্রোফোন দিলেন।
নিরালা শুরুতেই সালাম দিলেন।তারপর সম্মানিত দর্শক মন্ডলী,সম্মানিত স্যার মেম দের কথা বলেই,চোখ ভিজে গেলো তার।
গলা তার কান্নায় চেপে আসতে লাগলো। ঠুটে যেনো কথা বেজে যাচ্ছে।
তবুও সে থেমে যাচ্ছে না।
সবাই ভাবলো,এইটা তার নার্ভাসনেস।
তাই এমন হয়েছে।
কিন্তু না,,,
পরক্ষণেই বুজা গেলো আসলো কাহিনী।
কাপা কাপা গলায় সে বলতে শুরু করলো।
আপনার একটু আগেই দেখেছেন,দুইজন ছেলে একটা ছেলেকে মঞ্চ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তারা এমন হাসপাতালের পথে আছেন।
আমি তাদের কে আমার ড্যান্স পার্টনার করেছি টাকার বিনিময়ে।যে ছেলেটি আহত হয়েছে সেই আমাকে ড্যান্স তিনটি শিখিয়েছে।বলতে পারেন ড্যান্স মাস্টার আমার এই পারফরম্যান্সের।
কিন্তু আমি উনাকে শর্ত দিয়েছিলাম, টাচ রিলেটেড কোনো স্কিপ দেওয়া যাবে না।
মিলতেছিল না বলে একটা স্কিপ আমার লাস্ট পারফরমেন্স এ ছিল।
আমি বলেছিলাম,জাস্ট হাত পিছনে থাকবে আপনার।
প্র্যাকটিস ও সে ভাবেই করেছি।
কিন্তু এখানে এসে লোকটি আমার কোমরে হাত দেই।আমিও তাকে একটা শর্ট দেই।তবে সেটা আপনারা বুঝতে পারেন নেই। দর্শক হাসতে শুরু করলো পরক্ষণেই। কিন্তু নিরালা র মুখে হাসি নেই কোনো।
দোয়া করুন,উনি যেনো বেচেঁ যায়। দর্শক এবার চুপ।
কারণ জায়গাটা সুবিধা জনক না।
আপনার বলতে পারেন,ছেলেদের সাথে ড্যান্স করতে এসে আবার লয়েলিটি দেখাচ্ছে।
তাহলে আপনাদের বলতে চাই।
এক ইঞ্চি ও দূরত্ব আর হাজার হাজার ইঞ্চি ও দূরত্বই।
স্পর্শের অস্তিত্ব কোথাও নেই।
একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি,এক সাথে ড্যান্স করেছি বলে যদি আমার লয়েলিটি চলে যায়,
তাহলে আমরা,মেয়েরা,ছেলেরা একটা পরিবারে বাস করি,একটা সমাজে বাস করি,একটা দেশে বাস করি,
যেখানে ছেলে নেই এমন একটি পরিবার ,সমাজ,দেশ, পৃথিবী খুঁজে পাবেন না। যেখানে ছেলে নেই।
ছেলে আসে।
তাহলে তো আমরা সেখানেও একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি।
কী বলেন আপনারা? সেখানে আমাদের লয়েল থাকা সম্ভব?আপনাদের সূত্র অনুযায়ী।
ছেলেটি ভেবেছিল,আমি নেশায় আছি।আমাকে ড্যান্স করতেই হবে।আমাকে ভালো করতেই হবে।
মঞ্চের পারফরমেন্স এ সে এমন করেছে এই ভেবে যে, আমি কিছু বলবো না হয়তো।সম্মানের ভয়ে,অথবা তার সাথে চার পাঁচ দিনের পরিচয়।কিছু তো মানবিকতার সৃষ্টি হয়েছে।
সে তো আর জানে না আমি এখানে এসেছি অন্য একটা কারণে।আমি কোনো একটা ছেলের কাছে নিজেকে মেয়ে হিসেবে প্রমাণ করতে এসেছি।
তাই আমাদের ড্যান্স পার্টনার ছেলে।যাতে দর্শক আমাকে বুজে আমি মেয়ে কি না!
তারপর শাড়ি পরে নিলাম, যাতে সকলের সামনে আমাকে নারী রূপে মানাবে কি না,সেটা প্রভ করা ।
তারপর সেলোয়ার কামিজ।
আমার নারী সত্তাকে যাচাই করার সাহস পেয়েছে এই কারণে আমি এত দিন ঘুরের মধ্যে ছিলাম।
আমি ভাবতাম,এই পৃথিবীর মাঝে মেয়েদের ও দাম আছে।যে পৃথিবীর আলো পুরুষ তুমি মেয়ের মাধ্যমে দেখ,তাদের রূপ গুন বিচার করো!তাদের নারীত্বের অবমাননা করো।
তাদেরকে বিচার কোনো সৌন্দর্য, আভিজাত্য আর রং দিয়ে।
সতীত্ব শব্দটি শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য আমাদের সমাজ সেটাই মনে করে।বিশেষ করে ছেলেরা।
তাহলে আমরা কি বলতে পারি ওদের ভাষাতে যে
ছেলেদের সতীত্ব জন্ম থেকেই নেই।
এরা হলো জন্মগত বেহায়া।
মেয়েরা যদি ছেলেদের স্পর্শেই সতীত্ব হারিয়ে ফেলে,তাহলে আমরা বলতে পারি এরা হলো যতো ভালো জিনিস নষ্টের মূল।ঠিক যেমন কুকুর খাবারে মুখ দিলে তার বিষাক্ত লালা দিয়ে,খাবার টাই
বিষাক্ত হয়ে যায়।
তেমন।
এখানে খাবারের কোনো দোষ আছে?
নেই।
অর্থাৎ এই পৃথিবীতে একমাত্র বিষাক্ত,অশুচি,অপবিত্র জিনিস হলো ছেলে মানুষ।যাদের সংস্পর্শে হাজার পবিত্রতা হারিয়ে ফেলে নিজের অস্তিত্ব।
এই কথা গুলো আপনাদেরই।আমি বলছি না।
মেয়েদের লয়েলিটি নিয়ে মাথা আপনাদেরই বেশি ঘুরে।
সবকিছুই আপনাদের মেন্টালিটি।
যাঁদের গায়ে লেগে আসা হাওয়ার জন্য,আমাদের লয়েলিটি নষ্ট হয়,যাদের সংস্পর্শে আমাদের লয়েলিটি হারিয়ে যায়।যাদের অস্তিত্বের সাথে আমাদের ক্ষতি লুকায়িত।
এই প্রকার প্রাণীর সাথে আমি কোনোদিনও নিজেকে বাঁধব না।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,
আমার প্রতি সদয় হয়েছেন বলে।
কিন্তু আমি নিজেই এখন উদয় হয়েছি।
ফোন স্ক্রীন এ একটা মেসেজ দেখিয়ে
মঞ্চ থেকে বিদায় নিল সে।
সেই খানে লিখা বুজা না গেলেও,জানতে পারা গেলো, শান তার প্রতি পজেটিভ হয়েছিল।
কিন্তু সে নিজেই এখন নেগেটিভ।
রাতে সুমি,লিপু আর নিরালা সবাই একসাথে বেলকনিতে বসে গল্প করতেছে। লয়েলিটির প্রসঙ্গ উঠায়,লিপু বলতেছে একটা কাহিনী বলি শুনবে।
ওরা সম্মতি জানালো।
জানো আমি যখন ক্লাস এইট এ পড়ি।আমার সঠিক মনে নেই, সাল টা কত হবে।তবে সম্ভবত 14 সাল।বাংলাদেশ ভার্সেস পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ।সকাল 10 টা থেকে শুরু হবে।আমি তো খেলা পাগল।
আমাদের স্কুলের পাশের বাড়িতে টিভি আছে।
ওই বাড়িতে আমি প্রতিদিন দুপুরে টিফিন খাই।আব্বা ওখানেই আমার খাবার রেখে যায়।আমার জেঠা লাগে।
তাই আমি ওই বাড়িতে নিজের মত করেই যায় আসি।
আমাকে অনেক স্নেহ করেন।ওই জেঠার বড়ো ছেলের বৌ আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আমি যখন খাবার খেতে যেতাম,আমাকে পানি এনে দিত।আর আমার সাথে গল্প করতো।যতক্ষণ আমি খাবার খাই,ততক্ষণই পাশে বসে থাকতো।কখনও জামাই এর গল্প,কখনও বা বাচ্চার গল্প,আবার কখনও মস্কারী।
নিজের খালাতো ভাইকে বিয়ে করে এসেছে।
তবুও সুখী নন তিনি।
একটা মেয়ে 7 বছরের। তখন তার জামাই আবার একটা বিয়ে করেন।জামাই ঢাকা থাকেন।আর ভাবি বাড়িতে।
শশুর শ্বাশুড়ীকে দেখতে হয়।তাই
কিন্তু জামাই বেড়া বউ না পেয়ে, বউ বাচ্চার কথা ভুলে গিয়ে প্রয়োজনের কথা মনে করেছে ঢাকাতেই একটা মাইয়া পটাইছে।বিয়ে করেছে।
তবে আমি এখানে মেয়েটি তখনই দোষারূপ করতে পারতাম,যদি জানতাম মেয়েটি ভাইয়ার বৌ বাচ্চা আছে,এইটা জেনে বিয়ে করেছে।কিন্তু ভাবীই বলেছে,মেয়েটি জানে না।
লুচ্চা ছেলে মানুষ,,,তুমি ঠিকই বলেছ সুমি এদের লয়েলিটি!তখন তো সংসার জীবনের প্যাঁচ মুচর এত কিছু অবগত ছিলাম না।এখন যেহেতু অনেক কিছুই বুজি,,,,তাই ভাবির কষ্টটাও বুঝতে পারি।
সেই বিষয় গুলো মাঝে মাঝে বলতো,কান্নাও করতো মাঝে মাঝে।আমিও ভাবিকে অনেক ভালবাসতাম।সম্মান করতাম।
সেদিন খেলা,আমি সেদিন স্কুলে বই রেখে সুজা ভাবীদের বাড়িতে।আমার দেখা দেখি,আমার মামাতো ভাই রনি আর ওর বন্ধু বান্ধব ১০ ১২ জন।
সব আসছে ওই বাড়িতে খেলা দেখতে।
অ্যাসেম্বলি বাত দিয়ে।
সেই বছর জানুয়ারিতে হুদা নামে একটা স্যার যুক্ত হয়েছেন।ইংলিশ পরাই।আমি নিজেই স্যারকে দেখে কাপাকাপি শুরু করি।
আমাকে প্রতিদিন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য সামনে নিয়ে যাইতো।আমি একটু সুর দিতে পারতাম তাই।
আমাকে, রাজু,আর রাণীকে নিত।কিন্তু আমি নাই।
স্যার জিজ্ঞেস করেছেন,লিপু আসে নাই আজকে?
সবাই বলেছে আসে নাই।
হুদা স্যার বিশ্বাস করেন নাই।
বলে লিপু স্কুল মিস দেওয়ার মেয়ে না।
বলো কোথায় গেছে?
আমার বান্ধবীদের গিয়ে ধরছে।
ওরা ভয়ে বলেছে যে,স্যার ও একটু অসুস্থ।তাই পাশের বাড়িতে গেছে।
কিন্তু একই ক্লাসের ১৫ জন নাই।
তখনই ধরা টা খাইছি।
স্যার বুজে ফেলেছে যে এরা এই বাড়িতে খেলা দেখতেছে।আর বাকি পুলাপান বলেছে আজকে খেলা আছে।
স্যার ডিরেক্ট ওই বাড়িতে।১ মিনিটেই আসা যায় স্কুল থেকে ওই বাড়িতে।
আমরা একটু সতর্ক ছিলাম,টিনের ছিদ্র দিয়ে একজন দেখে স্যার আসতেছে। সব গুলো বের হয়ে কেও পাশে বাড়ির গলি দিয়ে ধান খেতে।কেউ দরজার কপাটের ফাঁকে।কেউ আবার মাচার নিচে।আমি,রনি, সাহা,আর রিপন,রাফি কিছুই করতে পারলাম না।টিভি যে ঘরে সেখানেই একটা খাট আছে।ওখানে ৩ জন লেপের নিচে শুয়ে থাকার ভান করলো।যেনো বুজে এই বাড়ির মানুষ।
আর আমি রনিকে বললাম তোরা ও মাচার নিচেই থাক।আমি ওই পাশে ভাবির রুমে গিয়ে লেপের নিচে শুয়ে পড়ি।
আমি একমাত্র মেয়ে অত গেলো ছেলের মাঝে।
ততক্ষণে স্যার ভাবীদের উঠানে।
বলতেছে কে কে আছো,বেরিয়ে আস রুম থেকে।
যদি ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসি,তাহলে শাস্তি আরো বেশি পাবে।
আমি তো শেষ, কথাও বলতে পারছি না।
শুনা যাবে তাহলে। আমি ততক্ষণে ভাবির রুমে মাচার নিচ দিয়ে দিয়ে লেপ চোখে মুখে দিয়ে শুয়ে পড়েছি।
বেচারা স্যার ঘরের দরোজা ধাক্কা দিয়েছে।দরজায় চিপায় যারা ছিল ওদের বের করলো।
মাচার নিচে যারা ওরা রিস্কে আছে।রনি কি করলো।
আমি ভেবেছিলাম স্যার অন্তত রুমে যাবে না।
কিন্তু ধারনা পালটে গেল।
আমি তখন অনেক কাপতেছি ভয়ে।
খাটে শুয়ে আছি লেপের নিচে ওখানে গিয়ে লেপ চোখে মুখে দিয়ে শুয়ে পড়েছে রনি।
আমি তো দেখি নাই।
আমিও চোখে মুখে লেপ দিয়ে ইয়া নফছি ইয়া নোফছি করতেছি।
দেখি রনি লেপের নিচে।কেমন টা লাগে?
ওই দিকে স্যার আর এখানে আমার পাশে লেপের নিচে রনি।আমি তো মহা মুস্কিল এ পড়লাম।
এমনিতে ধরা পড়লে শাস্তি পাবো। এইটা মেনে নেওয়া হয়তো সম্ভব।কিন্তু এইভাবে ধরা পড়লে জিন্দেগী শেষ।
হাহাহা
এখন যদি ধরা পড়ি,মানসম্মান সব যাইবে।
ততক্ষণে মাচার নিচের সব গুলোকে বের করছে।
আমি আর রনি একই বিছানায়।
আমি এমনিতেই আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেছি।
তারউপর আরেক ঝামেলা,আমি কি করলাম,উঠলাম বিছানা থেকে। দরজার আড়ালে দাড়ালাম।তারপর যখন দেখলাম,ওই ঘরের তল্লাশি শেষ।আমি মাচার নিচ দিয়ে গিয়ে ওই রুমে জানালা দিয়ে ভাবীদের টিউবওয়েল পাড়ে নামলাম।পরে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য দরোজা টানি,দেখি ভিতর থেকে লাগানো।
ওখানে দেখবে না এই ভেবে বাইরে গেলাম সাহস করে।দেখি ওখানে ৩ জন।
হাহাহা
আমি বেচারা ওখানে সাহস করে দাড়িয়েই রইলাম।
ততক্ষণে যারা ধরা পড়েছে ওরা বলতেছে স্যার এই রোমে আছে।
যেই মাত্র এইটা বলছে রনি লাফ দিয়ে উঠে মাচার নিচে।
স্যার দরজা উকি দিয়ে চলে গেলো।
স্যার তো আর জানত না যে মাচার নিচ দিয়ে এক রুম থেকে আরেক রুমে যাওয়া যায়।
আমরা সে যাত্রায় ৫ জন বেচেঁ গিয়েছিলাম।
বাকি ১০ জনকে রোদের মধ্যে কানে ধরিয়ে দার করিয়ে রেখেছিল।কি সরম।
আমি জীবনে যা করি নাই,,,,
ওইটা আমার লাইফ এ রেকর্ড।
আর সবচেয়ে বড় রেকর্ড হয়তো যদি খালি লেপের নিচে থেকে যেতাম।তাহলে পালানোর সুযোগ পেতাম না।
এক দুষে বহু দুশে গুণান্বিত হতাম।
রনি আর আমি এখন মাঝে মাঝে ওই বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করি,,,আর আমি যদি সেদিন ধরা পড়তাম,তাহলে নিশ্চিত স্টুডেন্ট লাইফ এর প্রথম একটা দিন হতো মাঠে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা।তাও আবার দশ জন ছেলের সাথে,,,
শাস্তিটা প্রথম হতো...
যা আমার জীবনে আরেক ব্যতিক্রম কিছু হতো।
ও আমাকে বলেছিল,তোর দরকার পড়লে তুই সর এখান থেকে,,,,
মানে আজকে বুজলাম,
লয়েলিটি ওদের নাই।
যেটা নাই,সেটা হারানোর তো প্রশ্নই দেখি না।
আজকে বুজলাম নিরালা।
কিন্তু বেচারা নিরালা এখন সত্যিকারের উদয় হয়েছে।
যাক আল্লাহ ওকে বুঝার তৌফিক দিয়েছেন।এইটাই অনেক।
নিজেকে কারোর কাছে প্রমাণ করার কিছু নেই।
তুমি যেমন তেমন মঙ্গল বলেই আল্লাহ তুমাকে সৃষ্টি করেছেন।আর তাও আবার অত্যন্ত মুহব্বত করে, ভালোবেসে।
Comments
Post a Comment