প্রলাপ 3
যদি কখনো কথা বলার জন্য কাউকে না পেয়ে নিজেকে অসহায় মনে করো।যদি পাশে কেউ নেই ভেবে নিজেকে দুর্বল মনে করো।যদি তুমার ছুটে চলার পথ বাধা প্রাপ্ত হয়। যদি বার বার তুমার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।
যদি নিজেকে ভালো রাখার কোনো পথ খুজে না পাও।
যদি
কখনও বা নিস্তব্দ বিকেলে কোনো বারান্দায় বসে নিজেকে খুব নিঃসঙ্গ মনে কর।তাহলে ঐ বাড়ির আঙ্গিনায় বড় হওয়া প্রতিটা গাছের দিকে তাকি ওঁ।
যদি মনের চোখে দেখতে পারো।যদি তাদের নিঃসঙ্গতাকে অনুভব করতে পারো। তাঁরা তুমার থেকেও শত গুণ দুখী।তারা তুমার থেকে শত গুণ অসহায়।তারা তুমার মত কান্না করতে পারে না।তারা কথা বলতে পারে না তুমার মত।
তাদের দুঃখ গুলো কাউকে ভাগ করে নিতে পারে না।
তারা তাদের আর্তনাদ নিজের বুকে বইতে থাকা কষ্টের নদীতে বিসর্জন দেই।
ওদের দিকে মনো দৃষ্টি দিয়ে দেখলে
তাহলে অবশ্যই তুমি কষ্ট পাবে না। কারণ সেই জীবনযুক্ত জড় বস্তু গুলো প্রাণের সূচনা বিন্দু থেকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।তারা তাদের জন্ম নিয়ে কোনো আক্ষেপ করে না।তারা পাখিকে উড়তে দেখে অক্ষেপ করে না।চলতে পারে না বলে,কোনোদিন নিজের প্রাণ টাকে ভুলেও বিসর্জন দিতে চাই না।
অন্য প্রাণীরা চলতে পারে বলে ওরা দুঃখ করে না।
ওরা নিজেদের কে নিজেদের জায়গায় থেকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ করে।হউক সেটা যত কষ্টের।
তারা শত ঝড় ঝাপটার মধ্যেও নিজেকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত সেই ছোট্ট থেকেই।
কখনও তার ডাল ভেঙ্গে যায়,কখনও বা মেরুদণ্ড।
আবার কখনও বা পিষে যায় পশু পাখি আর মানুষের পায়ের পদাঘাতে।হয়তো বা বেচেঁ যায়, নয়তো বা আদ মরা হয়ে মাটির বুকে শুয়ে পড়ে।
হয়তো বা কান্না পাই তাদের।মাটিকে তাঁর যন্ত্রণা গুলো শেয়ার করে,কিন্তু তাতে কিবা আসে যায়।মাটি তো আর কথা বলতে পারে না। শুনতেই পারে কিনা সেটারও সংশয় আছে। কিন্তু হয়তো গাছের স্পর্শ, তাঁর আর্তনাদ অনুভব করতে পারে।কারণ মাটির বুক চিরেই তো তাঁদের জন্ম। তাঁদের জন্য কিছুই করতে না পারলেও।তখন মাটি হয়তো নীরবে নিবৃতে তাকে কিছুটা পানি দেই নিজের বুক থেকে।তাতেই আবার সে নিজেকে সুস্থ করে তুলে।নিজেকে আবার ধীরে ধীরে বড় করে তুলতে থাকে।
সে জানে,ঝড় আবার আসবে,সে জানে, তৃণভুজিরা আবার তাকে শিকার করার লোভ করবে।আবার কোনো গবাদি পশুর মালিকের কাচির আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন ওঁ হতে পারে নিজের দেহ।
তবুও সাহস করে বুকভরা আশা নিয়ে শান্ত থাকে। সে জানে,যুদ্ধ করেই টিকে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
সে এইটা জানে,শতবার তাকে ছিন্ন ভিন্ন করা হলেও সে হাল ছাড়বে না।
তার কাছে আর উপায় নাই।শতবার তাকে নিঃশেষ করে দিলেও সে শতবার নিজেকে আবার অংকুরিত করার চেষ্টা করবে।নিজের দেহের অবশিষ্ট অংশ থেকে হলেও সে নিজের অস্তিত্ব তৈরি আবার করবে।
বলতে পারেন,সে তো আর আমাদের মত বুধ বুদ্ধি সম্মৃদ্ধ না।
তাহলে বলব,তার কোনো নিবেগ নেই,নেই কোনো মন।ভালো মন্দ বুঝার ক্ষমতা ওঁ নেই।
তার আমাদের মত এত চাওয়া পাওয়াও নেই।
কিন্তু এত কিছু না থাকার পরও সে নিজেকে টিকিয়ে রাখার হাল ছাড়ে না।
বলা যায় পাগলেও নিজের ভালো বুজে।
ওদের জীবনের ভালো ও তেমন কিছুই নেই।
কারণ তুমরা পরিণত হলে একটা নতুন জীবন পাওঁ।আর ওরা পরিণত হলে হয়তো আগুনে জ্বলে,নয়তো কারোর বাড়ির আসবাব এ পরিনত হয়।
এক কথায় বলা যায়,জীবনের ইতি হয়।
অস্তিত্বের বিনাশ ঘটে।
তবুও যেটুকু সময় পাই নিশ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার, ততটুকু সময় নিজেকে সময় দেই
একটা নিজের অংশ সৃষ্টি করা জন্য। সেটাই হলো ওদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর এটাই ওর একমাত্র ভালো চাওয়া।আর কিছুই নেই।না কথার সুখ,না নিজেকে আরামে রাখার সুখ।না স্বাধীন ভাবে উড়ে চলার সুখ।না আছে কারোর রাজ্য শাসন করার নেশা।
তাহলে আমরা মানুষ,আমরা কেনো বুজি না?
আমরা নাকি সৃষ্টির সেরা জীব?
আমাদের সব কিছু সলভ করার ক্ষমতা আছে।
আমাদের তো সবই আছে, বুদ বুদ্ধি,
বিবেগ।সবচেয়ে বড় কথা আমরা জায়গা বদল করতে পারি।চাইলেই নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় রাখতে পারি। কখনও নিজের উপর অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতে পারি।কেউ কষ্ট দিলে প্রতিউত্তর করতে পারি।
আর কি চাই?
কিসের এত হতাশা?কিসের এত অপূর্ণতা?
কেনই বা আমরা বিষন্ন থাকবো?
তুমার পাশে কেউ নেই বলে?।।
তাহলে আমার মনে হয় সৃষ্টি কর্তা তুমাকে গাছ হিসেবে তৈরি করলেই হতো।
বুজতে নিঃসঙ্গতা, বাক হীনতা, নিশ্চলতার ফলাফল কতটা ভয়াবহ!
জীবনে যদি নিজেকে টিকিয়ে রেখে,নিজের থেকে একটা অংশকে বড় করতে পারো।যেটা একান্তই তুমার।ঐটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে তোমার জীবনের।
যা তুমার অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত।তুমার এই জীবনের সার্থকতা।
যা শুধু তুমার আকাশে উদিত হবে।
ঠিক যেমন উদ্ভিদ নিজের ফল সৃষ্টি করে,সেখান থেকে হাজারো গাছের বীজ সৃষ্টি করে।আর সেদিন সে মনে করে এত দিনের যুদ্ধের সুখময় প্রাপ্তি এইগুলো। নিজেকে খুবি হ্যাপি মনে করে সেদিন।
সেদিন সে পূর্ণতা পাই।নিজের অস্তিত্বের নিখুঁত সংজ্ঞা খুঁজে পাই।
আমাদের জীবন টা কারোর সাপেক্ষে ভালো রাখার চেষ্টা করাই বুকামী।আমি আছি মানে, আমিই যথেষ্ট আমার জন্য।আমার জীবনকে শুধু আমি উপভুগ করতে পারি।শুধু আমি।অন্য কেউ না।
আমি আজকে মারা গেলে,কেউই আমাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।ইভেন যদি কেউ আমাকে তার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে। তবুও না।
তাহলে কিসের এত সাপেক্ষ ?
কে ছেড়ে গেলো,কাকে পেলে না।
কে আসবে জীবনে?
কার সাথে আমার জীবন বাঁধব?
এই সব ভাবার আগে এইটা ভাবতে শিখতে হবে,আমার মাঝে আল্লাহর দেওয়ার একটা সুন্দর প্রাণ আছে।যা একবার চলে গেলে আমার অস্তিত্ব থাকবে না এই পৃথীবির বুকে।এইটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।আমরা কতটা বুকা,তাই না?
আমরা একেই অবহেলা করি।
তাও আবার কেনো?
কেউ নেই আমার।
অমুক নেই ,তমুক নেই।
এইটি হলো না,সেটা হলো না।
আজব দিন কি শেষ?
দেখো না।সময় এর স্রোতে অনেক কিছুই জীবনে আসবে। তুমি জাল দিয়ে মাছের মত ধরে শেষ করতে পারবে না। উপভোগ করতে করতে একদিন ক্লান্ত হবে।এতটা ভালো থাকা অবশ্যই আসবে।
যা দেখার জন্য নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
নিজেকে দুঃসময়ে শান্ত রাখতে হবে।
এই জীবনের প্রতি মায়া বাড়াতে হবে।
নিজেকে অনেক অনেক ভালবাসতে হবে।
Comments
Post a Comment