ছুট মেয়ে
দুপুরের নামাজ শেষ করে অনেকক্ষন শুয়ে আছি।বদ্ধ একটা রুম।আমি একাই থাকি রুমটিতে।কিছুক্ষণ গান শুনেছি,আজকে একটা এক্সাম ছিল।সাড়ে ১১ টায় শেষ করেছি। এসেই ঘুমিয়েছিলাম।যায় হউক,বিকালে দিকে রুমে আর ভালো লাগছিল না।তাই পাশের রুমে একটি আপুর কাছে গেলাম। আপি রুমে একাই।ভাবলাম একটু গল্প করে আসি।আমারও মনটা ভালো না।আমার আব্বু সন্ধায় কল দিয়েছিলেন, আম্মু অসুস্থ। মাকে আমি সেই ইন্টারমিডিয়েট থেকেই অসুস্থ দেখি।কিন্তু আমি উনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসতে পারি নাই।আজকে আমি বিএসসি ফাইনাল ইয়ার এ পড়ি।আজকে বাবা কল দিলেন,তুমার মাকে ডক্টর দেখাইতেই হবে।
আমার কাছে টাকা নেই।কেমন জানি একটু দম বন্ধ লাগতেছিল আম্মার অসুস্থতার কথা শুনেই।
আমার মেজু ভাই,সেজু ভাই,আমার ছুট একটা ভাই আছে।ওকেও নক দিলাম ।কথা বললাম।মেজু ভাইয়ের নতুন বেবি হয়েছে।আবার ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে,কিস্তি আছে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা।সব মিলিয়ে তিনি এই মাসে বাসায় টাকা দিতে পারেন নাই।সেদিন আম্মার জন্য কিছু ওষুধ কিনে নিয়ে গেলেন,চুলকানির।ফার্মেসিতে বলে।আমিও ছিলাম সাথেই।তিনি তার বাচ্চাটিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছিলেন।আমিও এই মাসে ১ হাজার টাকা নিয়েছি।সেজু ভাইও একই দসাতে আছেন।
উনার কাছেও টাকা নেই।আমাকে ১ হাজার দিয়েছেন।আমার ছোট ভাই শিমুল।শিমুলকে জিজ্ঞেস করলাম।বাসায় টাকা দিয়েছে কিনা।বললো ৮ হাজার দিয়েছি।
একটু সাহস পেলাম।হয়তো বাসায় টাকা আছে।তাই একটু হালকা লাগতেছিল।কিন্তু আম্মার অনেক সমস্যা,আমার আম্মা এখন একটা ভাতের পাতিল তুলতে পারে না।
এই ভেবে,দুচোখ দিয়ে পানি ওজরে পড়তে লাগলো।
বাবা লাঠি হাতে পথ চলে।বার বার হার্ট এটাক, মাজার হারের সমস্যা। বাত ব্যথা পায়ে। হরান আছে,নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বাবার।
বাবা মা এই রকম পরিস্থিতি পৃথিবীর কোনো সন্তানের কাছে প্রত্যাশিত না।
মাকে দেখেছি সবসময় বাবাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কথা বলতে।
আম্মা কে আমি কখনও দেখি নাই এইটা বলতে যে আমার খারাপ লাগতেছে,আমার এখানে কষ্ট হচ্ছে।
আমি যখনই বাড়ি যাইতাম,দেখতাম কোমরে কেরোসিনের তেল দিয়ে মালিশ করতেছে।ঠান্ডা লাগলে দেখতাম,রসুন সরিষার তেল দিয়ে গরম করে খাচ্ছে।
হাতে ব্যথা পেলে ওই তেলই মালিশ করতো।
জর আসলে,আম্মা বলতো ঠিক হয়ে যাবে এমনেই।ঐযে একটু ঠাণ্ডা লাগছে তো তাই এমন হয়েছে।
আমার মনে আছে,আমার যখন ঠান্ডা অনেক বেশি ছিল তখন আমি বিসিএস ফার্স্ট ইয়ার এ পড়ি।আমার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি ডাক্তারের।আব্বা আমাকে ফোন দিয়ে বললেন,তুমার আম্মার তো অবস্থা খারাপ।উঠতেও পারতে ছে না বসতে ও পারে না।
বিছানা নিয়েছে।
ডাক্তার দেখায়।সিরিয়াল নাও একটা।আমিও সিরিয়াল নিলাম।আমার তখন ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল এক্সাম সামনে।আমি বাবাকে ফোন দিয়ে জীবনে ওই একটা ভুল করেছিলাম।কেঁদে দিয়েছিলাম।
আসলে বুঝতে পারি নাই।ওই কান্না তাদের কোথায় লাগছে।
যায় হউক,আমার এক্সাম সামনে,আমাকে সুস্থ থাকতে হবে।তাই আমাকে ডক্টর দেখানো বেশি জরুরি মনে করেছে আম্মা।
আব্বা যখন আমার কাছে আসলো,আমি বললাম মা কোথায়।মার জন্যও তো সিরিয়াল নিয়েছি।আব্বা বললেন,আমার কথা শুনে না।বললো লাগবে না ডাক্তার।
আমি আর কি বলব।
আমাকে ডক্টর দেখিয়ে বাবা বাড়ি গেলে বাবার ফোন এ ফোন দিয়ে আম্মার সাথে কথা বললাম,আম্মা আসলে না কেনো?
এখন শরীল কেমন?
আম্মা বললেন,আমি ভালো আছি গো।
এই যে একটু ধানের কাজ করেছি তো,তাই এমন হয়েছে। দুই দিন শুয়ে থাকলেই ভাল হয়ে যাবো।
আমি আম্মার কথা শুনে বুঝতে পারছিলাম,আম্মা ভালো নেই।আম্মাকে বললাম,আব্বা পাশে আছে?
বললো আছে।আমি বললাম,আব্বাকে বাইরে যেতে বোলো।আব্বা চলে গেলে,আম্মাকে বললাম আমাকে সত্য কথা বলো।
কি হয়েছে?
মা বললেন,তুমার শরীল বেশি খারাপ আগে বলো নাই কেনো?সামনে পরীক্ষা।তুমার বাবা আমাকে প্যাঁচাল পারল অনেক।বললো,মেয়ের সাথে কথা বলিস না ঠিক মত।আমি বললাম,কথা ঘুরাও কেনো?
যেটা বলি সেট বলো ।
কি হয়েছে?
আম্মা তখন বললো,
কি যে বলো না।টাকা হাতে নাই গো।ডাক্তার দেখাবো টাকা লাগবে না!
আমি তখন ওজরে কান্না করতেছিলাম।
আজও আম্মার ডাক্তার দেখানো হয়নাই।আম্মা আজও সেই কেরোসিনের মালিশ,আর মনের জুর নিয়ে চলছে।আর চলছে, উনার ছেলে মেয়েদের ভালো থাকার বিষয় গুলো নিয়ে ।এইটাই হয়তো মা। সেদিন এর কথা আমার মনে থাকবে আমৃত্যু।আমার কাছে পৃথিবীর সমস্ত সুখ ধরা দিলেও,আমার মায়ের সেই একটা কথা আমাকে বার বার ক্ষত বিক্ষত করবে।আমার হৃদয় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে বার বার।আমার কলিজায় আগুন জ্বলে উঠবে মুহূর্তেই।আমার সমস্ত সুখের উপর অসুখের কালো ছায়া নেমে আসবে।আমার দুর্বলতায়, মলম দিতে আমার মা সারাজীবন অসুস্থ,নির্ঘুম,যন্ত্রণাদায়ক রাত পার করেছে।
নিজের সংসারকে,নিজের সন্তানদেরকে নিজের ছেড়া আঁচলের তলায় সযত্নে ঘুচিয়ে রাখার এক এক অদম্য চেষ্টা আমাকে কাদাবে।
যায় হউক সেই আপুর সাথে গল্প করার ইচ্ছা আর রইলো না।
মনটা হালকা হবে কারোর সাথে কথা বললে ,তাই গেলাম।আপি বিএসসি শেষ করেছেন,সেই ২০২০ সালেই।
বলা যা জব ফাইটার।দেখতে শুনতে সুন্দর।নাম ইতি।বাবা মায়ের ছুট সন্তান।তাই নাকি নাম রেখেছেন ইতি।
উনি মুখটা গম্ভীর করে টেবিল বসে আছেন।বললাম,কি হয়েছে আপি?
আমার মুখে ঈষৎ হাসি দেখে বলতেছে।হাসতে আমি ও চাই ।কিন্তু পারি না।সিনিয়র মানুষ,উনাদের সাথে হেসে কথা না বললেও বিপদ।উনি তো আর জানেন না আমি কি মুড নিয়ে উনার কাছে গিয়েছি।
জীবনের কোনো এক ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়েছিল,সিনিয়রদের সাথে কথা বললে অবশ্যই হাসি মুখে কথা বলতে হবে।সে তুমি যতই
চন্ডিদাস হও না কেনো।
আমিও ওই সূত্রের প্রয়োগ করলাম।
আপি, হাসি খুশি থাকতে হয়।নয়তো জীবনও আপনার উপর বিরক্ত হয়ে উঠতে পারে।আপি বললেন,
ঠিকই বলেছো তুমি।জীবনের ও আমাদের উপর কত অভিযোগ,শুধু আমাদেরই কারোর কাছে অভিযোগ করার সুযোগ নেই।আপি মাথাটা নীচু করে ফেললেন।মুখটি কেমন কেনো মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল নিমিষেই।মনে হল
কোথা থেকে যেন কোনো এক দমকা হওয়া এসে আপুর হাসি মাখা মুখ থেকে হাসির জলক কে নিমিষেই উড়িয়ে নিয়ে গেলো।বললাম,কি হয়েছে আপি?
মন খারাপ।উনিও রুমে একাই ছিলেন।রুমমেট দুইজন টিউশন এ গেছেন।
আপি বললেন,তেমন কিছু হয় নাই। পরতেছিলাম আর কি।
আমাকে ১২ শ টাকা ধার দিবে।আমি দুই একদিনের মধ্যেই দিয়ে দিচ্ছি। কথাটা বলেই যেনো মনে হলো, চোখ দুটি বিশাল সমুদ্রের ভূমিকায় আছে।এই বুজি বিশাল ঢেউ উঠবে। মনের সকল না বলা কথা গুলো যেনো ভাসিয়ে দিবে সেই ঢেউ এর সাথে গভীর সমুদ্রে।কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে না।কখনও কখনও ব্যাক্তিত্ব সেটাকে শায় দেই নাই।কখনও বা নিজের চোখের পাপড়ি গুলো বন্ধ করে দিতে হয় ফারাক্কা বাঁধের মত।যেনো সেখান থেকে এক বিন্দু পানিও না বের হয়।নিজের অথৈ জলের ভাসমান জীবনের দুর্দশা লুকিয়ে রাখার এ যেনো এক আপ্রাণ চেষ্টা।
কি করবেন আপি?
বললো,আজকে তো ১০ তারিখ।বাসা ভাড়া দেই নাই আজ।এই দিকে খাবারের টাকাও দেই নাই।
বাসা ভাড়া না দিলে বাড়িওয়ালা কে তো জানোই।বললাম,আন্টিকে একটু বলে আসেন যে ১৫ তারিখে আমার ভাড়া টা নিন।বললেন,৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম।বলেছি বলেই ১০ পর্যন্ত মানিয়েছি।আবার কেমনে যাবো।
আর আংকেল ওয়ার্নিং দিলেন আজকেও।আমি তো ভেবে পাচ্ছি না।আমাকে একটা ফ্রেন্ড টাকা ধার দিতে চেয়েছিল,কিন্তু ও নিজেই আজকে হাসপাতালে ভর্তি। ওরি তো টাকা লাগবে,আমাকে কোথা থেকে দিবে।আমি বললাম আপনি যদি আমাকে সকালেই বলতেন তাহলে নিতে পারতেন।আমার বান্ধবী রিমা নিয়ে গেলো ১ হাজার টাকা।আর পরশুদিন আমার কাছে ২ হাজার টাকা ছিল।আজকে আমি ৩ শ টাকার মালিক।আপি বললো,বুঝতে পারছি।
আপি কে বললাম বাড়িতে বলেন আপি।আপি বললো দুইবারে ২ হাজার টাকা নিয়েছি।প্রাইভেট এর বেতন দিলাম।জব এর জন্য একটা জায়গায় পড়ি।সেখানে সবাই ফী দিয়ে ফেলেছে।আমি শুধু বাকি ছিলাম।তাই আর না দিয়ে উপায় ছিল না।
বাড়িতে আবার বলেন।মিল করে দিতেই পারবে।
আব্বা আম্মাকে এখন কে দেই।উনারা আর কোথা থেকে কিভাবে দিবে।আমি তো জানি,আব্বা আম্মার কি অবস্থা।কথা শুনে বুঝার বাকি রইলো না আর।
আমি বললাম,আমার থেকে কালকে লোড নিয়ে কার সাথে যেনো কথা বললেন,উনি কি বললেন।
তিনি আমার বোন।ওর কাছে টাকা চাইলাম ১২ শ।বললো টাকা নেই হাতে।একটা গরু নাকি ছিল মারা গেছে,নানা কথা বলে না করলো আর কি।
দুলাভাই সরাসরি না করতে পারল না বলে, বোনকে দিয়েই না করাইলো।আমি বললাম, বোন থেকে যখন পেলেন না হেল্প।ভাইকে বলুন।আমি একটু ইচ্ছে করেই আপুকে উপায় খুঁজে দিতে চাচ্ছি।
কিন্তু এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হবে আমি জানতাম না।
আপি বললো, শুনো তাহলে,তুমার থেকে ২০ টাকা লোড নিয়ে ,বড় আপুকে কল দিয়েছি সবার আগে,আপু বললেন টাকা নেই।
তারপর কল দিয়েছি মেজু বোনকে, যার গরু মারা গেছে। ও আর অনেক কিচ্ছা কাহিনী শুনাই লো আমাকে।বললো, কোথা থেকে দিবো টাকা।তারপর দিলাম আমার আরেক বোনকে।বোন, বোন জামাই দুইজনেই চাকরি করে।আপু বলল,বেতন হয়নাই।তারপর দিলাম,আরেক বোনকে ও কল ই ধরে না।
আর ভাইদের কথা বলো,ভাইয়েরা অনেক দিয়েছে সেই ইন্টার থেকে ।এখন আর পারে না।কত দিবে।ওদেরই বাচ্চা কাচ্চা আছে।সংসার আছে।তাই আর উনাদের বলি না।আমি পরিবারের ছুট।আমার দায়িত্ব এখন আমার বাবার উপর।আমাদের ভায়ের দায়িত্ব এখন উনাদের মেয়েদের উপর।কিছুই করার নেই।পরিস্থিতি বদলে যায়।সময় উল্টো দিয়ে বইতে শুরু করে।হাজারো শুভাকাঙ্ক্ষীর মৃত্য ঘটে।কাছের মানুষের অচেনা রূপ প্রকাশ পাই।
ভালোবাসার রং সবসময় নীল থাকে না।মাঝে মাঝে বিষাক্ত হয়ে আরো গাঢ় নীল বর্ণ হয়ে যায়।
চেনা পথ অচেনা হয়ে যায়।
উড়তে থাকা পাখিও,বাসা হারিয়ে পথ ভুলে যাই।
আমারও সেই দশাই হয়েছে।আপুর মুখে কথা গুলো শুনে,আমি একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম।নিজের মনের ডিকশনারীতে কোনো শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না।যেটা আমি বাইরে আনতে পারি আপুর মনকে শান্ত করার জন্য।আমার ভারী হয়ে থাকা মস্তিষ্ক যেনো অসাড় হয়ে আসতে লাগলো। মনের আকাশে জমে থাকা মেঘ যেনো আরো ভারী বর্ষণে পরিণত হওয়ার জন্য সাজগোজ করতে লাগলো।আমার চোখের শুকিয়ে না যাওয়া নার্ভ যেনো আবার বাধ ভাঙতে চাইলো।
নিজেকে কোনো মতে সামলিয়ে বললাম,হয়তো আপনার ওই বোন ব্যাস্ত আছেন।আবার কল দেন।আপি বললো,দেখি আরেক বার চেষ্টা করে,যিনি কল প্রথমেই রিসিভ করেন নাই।তাকে টানা কয়েকবার কল দেওয়া হলো।রিসিভ করলেন না।তারপর সেই চাকরি ওয়ালা বোনকে কল দেওয়া হলো,ধরলেন না।
একে একে ভাইদের কল দেওয়া হলো।ধরলেন না।বাকি ২ বোনকে ও কল দেওয়া হলো ।কোনো রেসপন্স নেই।
তারপর ঐ সেই চাকরি ওয়ালা আপির জামাইকে কল দেওয়া হলো,উনি কল ধরলেন।বললেন তুমার বোন পাশেই কথা বলো,
আপি আমার টাকা লাগবে।আমাকে অন্তত ৫ শ টাকা দাও।বাকিটা আমি ম্যানেজ করতেছি।
উপার থেকে রিপ্লাই আসলো আমার তো বেতন হয়নি।
সামনেই ঈদ,এখনো বেতন দেই নাই তুমাদের?বাচ্চা কাচ্চা দের জামা কাপড় কি ঈদের দিন কিনবে?
কথাটা আপি একটু তিরষ্কার করেই বললেন।
ওখান থেকে রিপ্লাই আসলো না আর
কারণ ততক্ষণে আপুর ফোন এ ব্যালেন্স শেষ।কল কেটে গেছে আপি নিজেই জানে না।
আমাকে আপি বললো,দিবে না গো।হুদাই তুমার কথা তে টাকা টা শেষ করলাম আরো।
আমি সেখানে আর ৩০ মিনিট বসে ছিলাম।এই ভেবে যে দেখি উনি কল ব্যাক করেন কিনা।
কিন্তু করলেন না।
বোনের একবারের জন্যও মনে হলো না যে ওর লাগবে।আমাকেই তো বলবে কাকে বা বলবে।
অথবা কি সমস্যা শুনি।কল দিলেই যে টাকা দিতে হচ্ছে এমন না।জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করলেন না।
বাকিদের ফোন লিস্ট এ কল সেন্টারের লোকের হয়তো কল রেকর্ড ডিলেট করে দিয়েছেন।উনারাও দেখেন নাই যে আমার বোন আমাকে এত বার কেনো কল দিলো।
আর অদ্ভুত মিল,কেউ ফোন তুলল না।
আমি মনে মনে ভাবলাম,বেচারি করবে টা কি এখন?
পরিবারের লোক জনকে পাশে না পেলে এগুবে কিভাবে।ভাবলাম,হায়রে ভাই,বোন। আপুর ৩ ভাই,৪ টা বোন আছে।সবাই যদি ৩ শ করে টাকা ও দেই।উনার মাস চলে যাবে।আর সেখানে কেউ নেই।
বলছি না ভাইরা দিচ্ছে না।
মানলাম সবারই অভাব। কেউ খেতে পাই না।
কিন্তু তারাও তাদের প্রয়োজন অভাবের মধ্য দিয়েই পূরণ করতেছে। গাছে শিকড় কে যত্ন নেওয়াটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না শুধু। ডাল পালাও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে?
এক চাকরি যুদ্ধার গল্প থেকে নেওয়া।
ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত ছুট মেয়েরা।যাদের শেষ বয়সে বৃদ্ধ বাবা মা ছাড়া আসলেই কিছু থাকে না।
আল্লাহ যেন এই সম্বল টাও কেড়ে না নেন।
আমিন।
Comments
Post a Comment