মানুষ হও

 টিউশন ছিল আজকে।কিন্তু দুপুরে খাবার খাওয়ার পর এমন ঘুম পাই,যা বলার ভাষা রাখে না।তাই দুপুরের নামাজ শেষ করে লেপের নিচে চলে গেলাম।উঠে দেখি পাঁচটা বাজে।দ্রুত উঠে নামাজ শেষ করে

টিউশন এ চলে গেলাম। টিউশন আজকে একটাই করাবো।কারণ বাকি দুইটা টিউশন আমার তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।যা ঘুমের কারণে পারি নাই শেষ করতে।তাই  মাত্র একটা টিউশন শেষ করে বাসায় ফিরতে হলো।

টিউশন শেষ করে ওটো ধরেছি।বসেছি বিপরীত পাশে।কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে বসলো ধপাস করে।আমি লাফ দিয়ে উঠলাম,আমার সাথে তার শরীল লেগে যাওয়ায়।

বললাম,জীবনে যেখানেই বসেন না কেনো,একটু দেখে বসবেন,পাশে যিনি বসে আছে তার যেনো অসুবিধা না হয়।উনি বললেন,এখানে রেগে যাওয়ার কি আছে?

সামাজিক ভাবে চলতে গেলে এইগুলো বিষয় না।

যদি এতোটাই সেনসিটিভ হন তো পাবলিক অটোতে কেনো বসেছেন?


আমি যে রেগে গেছি,কি সুন্দর বুজতে পেরেছেন।

অথচ দুইটা চোখ রয়েছে, বসার সময় সেটা দিয়ে দেখতে পারলেন যে পাশেই মেয়ে মানুষ।

আর মেয়ে হউক আর ছেলে হউক, ধাক্কাধাক্কি করাটা কোথাকার শিক্ষা ?

আর আমি অটোতে বসছি বলেই,আপনি সামাজিকতা টেনে নিয়ে আসলেন,বাইরে বেড়িয়েছি বলে,আপনার সাথে আমাকে এডজাস্ট করতে হবে ,কোথায় লেখা আছে ?

আপনার হিসেবে তো এই দুনিয়াতে আসায় উচিত নয় মেয়েদের।যদি অটোতে মেয়েরা এক্সিস্ট করতে না পারে,পৃথিবীর কোথায় তারা নিজেদের অস্তিত্ব রাখার দাবিদার হতে পারে না।

নিজের ঘরের মেয়ে গুলো,আজকেই মেরে ফেলে দিবেন।


ওটোওয়ালা, অপজিতে বসা তিনটা ছেলে বলতেছে,এই ভাই আপনি দেখে বসবেন না।জায়গা তো রয়েছেই পাশে।আবার এখানে কথাও বলতেছেন।

চুপ থাকেন।

 

এইগুলো মানতে পারবেন না,তো বাইরে বের হুন কেনো?

যত্তসব জামেলা!


আমি বললাম,

এইভাবেই যদি দেখেন,তাহলে 

আপনার মাইয়া মানুষের হাতে মৃত্য লেখা থাকতে পারে!

লোকটি এমন ভাবে রেগে গেলো,পাশের লোকগুলো পরে ভদ্রলোককে অটো থেকে নামিয়েই দিলেন।


কিছু কিছু ছেলে মানুষ পাবলিক প্লেসে নিজের নুংরা চেহারা বের করার সর্বোচ্চ সুযোগ নেই, সামাজিকতার অজুহাত দিয়ে। পাশে জায়গা থাকা  সত্ত্বেও,চেপে বসার কোন দরকার?



শুধু ছেলে মানুষ না,যেকোনো মানুষ কোথাও যদি দাঁড়ায় বা বসে ,এমন ভাবে দাঁড়ানো উচিত,যেনো কারোর অসুবিধা না হয়।এমন ভাবে বসা উচিত,যেনো কারোর অসুবিধা না হয়।

জানি না এই দুনিয়াটা কখনও মেয়েদের 

জন্য বসবাস যোগ্য হবে কিনা!


Comments

Popular Posts