নিজস্বতা
মৃত্যুর আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকে যদি আজরাইল প্রশ্ন করে ,,,,তার সেই মুহূর্তে চাওয়াটা কি?
উত্তরে সে বলবে..বাঁচতে চাই।
হাসপাতালের বেডে সুস্থতার অনিশ্চিত খবর পেয়েও ব্যক্তিটির এক মাত্র চাওয়া,,,,সুস্থ হতে চাই আল্লাহ।
হাজারো রাস্তায় বুধ বুদ্ধি হীন লোক আছে।যারা রাস্তায় রাত,তো রাস্তায় কাত। যাদের এক বেলা খেলে আরেক বেলা খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
নতুন জামাকাপড়,গহনা ,আরাম,আয়েশ,সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়েও তারা জীবনকে অসম্ভব ভালোবাসে।জীবনটাকে তারাও অনেক কদর করে।
থাকনা অভাব,,,,
তাদের কাছে মৃত্য টাও গ্রহণীয় না।কারণ বেচেঁ থাকার প্রতি তাদেরও অনেক লোভ।
মানুষ শুধু মাত্র বেচেঁ থাকতে চাই।আর বেচেঁ থাকাটাকে একটু শান্তিময় করার জন্য যত আয়োজন। টাকার পিছে ছুটে চলে মানুষ।যার যার ক্ষমতা অনুযায়ী।মানুষ নিজেকে সুখী রাখতে ব্যাস্ত থাকে।তাদের এই জীবনটাকে রঙ্গিন করতে তারা সব কিছুই করতে রাজি।এমন কি অন্যের জীবনের বিনিময়ে হলেও।ছেলেরা ছুটে মেয়েদের পিছে,আর মেয়েরা সম্ভবত ছেলেদের পিছে।
জীবনকে সুন্দর করতে যা যা করণীয়।মানুষ তাই করে।
হউক সেটা কারোর সাথে মিথ্যে ছলনা,,অথবা
বেইমানি।
একজন মানুষ কখনোই কারোর প্রেমে পড়ে না।হয়তোবা প্রয়োজন তাকে কারোর প্রতি আকৃষ্ট হতে সম্মতি দেই।
অথবা নিঃসঙ্গতা মানুষের একাকীত্বের অনুভূতিকে জাগিয়ে তুলে কিছু সময়ের জন্য।তখন মানুষ প্রচণ্ড ক্ষিপ্র থাকে। নিজেই হয়ে পরে সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষ। আবার অনেকে আগেই উপলব্ধি করতে পারে,যে হয়তো কখনও তাকে একা হয়ে যেতে হতে পারে,,,
তাই তো সে নিজের মতো করে নিজের পাশপাশ টা সাজিয়ে রাখে।মানুষ নামক পুতুল দিয়ে।প্রয়োজনে যখন যেটা লাগে,সেটাই কাজে লাগাই।
এভাবেই,,,মানুষ নিজের জন্য সব কিছুই হাতের নাগালে রাখে। বাঁচার তাগিদ যেমন রয়েছে,,,তেমনি ভালো থাকার জন্য ও প্রচণ্ড লোভ রয়েছে মানুষ জাতির।
এই জন্য বলা হয়,,,মানুষ নিজের জন্য বাঁচে।
একটা চুর,সে কখনোই দাবি করতে পারেনা যে দায়িত্বের বেড়াজালে পরে সে চুরি করেছে। সে যদি দায়িত্বই বুঝত,তাহলে পরিবারের সম্মান যে তারই হাতে। অতএব চুরি সে করত না।সেটা অন্তত ভুলে যেত না।
শুধু সহজ ভাবে,নিজেকে পরিশ্রমের ঘামে না ভিজিয়ে অতি আরামে দু মুঠো খেতে পারলেই হলো তার।
আবার লাখ লাখ টাকার মালিক ।
সেও নিজের নিজের জন্যই বাঁচে। দেখবে বাবা মা আত্মীয় স্বজন কারোর সাথেই তেমন যোগাযোগ নেই।
সে সেগুলো করার সময় পাইনা । কারণ তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অনেক টাকার মালিক হতে হবে।তাকে অনেক সুখী হতে হবে।এই পৃথিবীর সমস্ত অপারগতা,বা প্রতিকূলতাকে তার জয় করতে হবে।নয়তো তোর ভালো থাকায় ব্যাঘাত আসবে।তাই তো এত সংগ্রাম।তাই তো সমস্ত কিছু উপেক্ষা করতে পারে সে।
এই পৃথিবীতে যে ব্যক্তি যতো তাড়াতাড়ি বুজবে যে সে শুধু নিজের জন্য বেচেঁ আছে,,সে সম্ভবত নিজেকে ভালো রাখতে চাইবে। কারণ,,,, সুইসাইড করতে যাওয়া কোনো এক ব্যক্তিকে তার জীবনের শেষ ৩০ সেকেন্ড পূর্বে যদি প্রশ্ন করা হয়,,,যে বাঁচতে চাও?সে বলবে , বাঁচতে চাই।
সত্যি বলতে কি নিজেকে নিয়েই যারা ভাবে।তারাই প্রকৃত সুখী।তাদের মতো বুদ্ধিমান দ্বিতীয় কেই নেই।
Comments
Post a Comment