হিসেব
যারা তোমার থেকে অনেক দিক থেকে অনেক ভাবেই আলাদা। দেখতে সুন্দর,স্মার্ট, ফ্যামিলি ভালো,ভালো সম্পর্কে আছে, ইত্যাদি ইত্যাদি।তাদের থেকে দুরে থাক।কারণ তোমার ই এতে লাভ।কি বলত কষ্ট কম পাবে।
আর হ্যাঁ তাদের থেকে দূরে থাকার আরো নিখুঁত কারণ হলো তাদের দেওয়া কথার তির তোমাকে ক্ষতবিক্ষত করার সুযোগ পাবে না। কেউ আবার এইটাকে হিংসা ভাববেন না।
এমন ও তো হতে পারে,বেচারা বাঁচার চেষ্টা করতেছে।যন্ত্রণা যার, একে দুর করার দায়িত্বটাও তারি।কারণ যার তরী তারই ফুটো।
হাতি যখন কাদায় পরে শুনেছি পিপড়াও নাকি তার ক্ষমতা প্রদর্শন করে।মানুষের জীবনটাও ঠিক সেরকম।দেখবে তোমার ডিপ্রেসড লাগতেছে,চোখের নিচের কালো দাগ গুলো বিশ্রী ভাবে নিজেকে প্রকাশ করতেছে। ওজন কমে যাচ্ছে অতি মাত্রায়।চেহারায় রোদে পুরা চামড়ার আগমন।খাবার না খাইতে পেরে শরীরের যে কম্পন। নিশ্বাস নিতে যার কত কষ্ট।
এসব দেখার বেলায় কেউ নেই।
সিঁড়ি ধরে মাঝে মাঝে যখন তুমি নিজের ক্লান্ত দেহটাকে যখন একটু আশ্বস্ত করো,দেখবে কারোর নজরে আসলে বলে ফেলবে, আরে কি অবস্থা।তুমার এত এনার্জি কোথা থেকে আসে।অথচ বলার কথা ছিল অন্য কিছু।
মানুষ কখনোই কারোর ভিতরের দাবানলকে দেখতে পারে না।মানুষ পারে শুধু কে একটু পজিটিভ কাজ করলো।যেমন ধরো,হঠাৎ আলাদা একটা ড্রেস পড়লে। ওটাও পুরোনো।কিন্তু অনেক দিন পর পড়েছ।
যে যে দেখবে,সেই বলবে রঙ লেগেছে নাকি?
যদি কখনো কাজল লাগাও,বলবে এত সাজগোজ, ব্যাপার কি? কেউ আসছে নাকি জীবনে। বসন্ত আসছে কি!
ধরো কয়েকদিন ঘুমিয়ে নিজেকে হয়তো একটু ক্লান্তি হীন করেছ।দেখবে কি ব্যাপার অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছো।দিন দিন সুন্দর হয়ে যাচ্ছ।প্রেম টেম শুরু করলে নাকি!
অথচ তারা এতদিনের তুমার দিনে দিনে শেষ হয়ে যাওয়াটাকে দেখে নাই।চিন্তার কালো ছায়ায় তুমার কপালের ভাঁজ কে যে তুমি সরাতে পারো নাই চাইলেও। সেটা তারা দেখে নাই।চোখের নিচের কালো দাগ গুলো তারা কখনই পর্যবেক্ষণ করে নাই।স্বাস্থ্যহীন দেহে তীব্র রোদের আক্রমন এর ফলাফল তারা বুজতে পারে নাই।
তোমার কম্পন রত আত্মার ভারী ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ তাদের কানে পৌঁছে নাই।তুমার নিদ্রাহীন রাতের যন্ত্রণা গুলোর প্রকাশ তাদের মাঝে পাই নাই।এক রাশ হাহাহা,,, হাসির মাঝে তুমার মিথ্যার রঙের যে রং ছড়িয়েছে সেটা কারোর চোখে পড়ে নাই।
কি বলত , সবই দেখে।মানুষ যদি সুখী হয়,সে যে পরিমাণ সুখ ফিল করে।
তার থেকে শতগুণ শান্তি ও সুখ ফিল করে যখন তারা মানুষের ভেঙ্গে পড়া রূপ দেখে।তারা পৈশাচিক আনন্দ পাই। ওদের এই মন মানসিকতা কখনোই চেঞ্জ হওয়ার নয়।সে যতই সে, রূপবতী,গুণবতী, ভাগ্যবতী অথবা অর্থবতী হোক না কেনো?
এই জন্যই এদেরকে নিজের ছায়ার থেকেও দূরে রাখা ভালো।কি বলত মানসিক শান্তি অন্তত পাবে।
আমার সেজু ভাই আমাকে কিছু কথা বলতো,,,,
তার মধ্যে হলো,কখনোই কে কি কিনল সেটা দেখবে না।হয়তো তুমি সেটা চাইতে পারো।ফলে কিনতে না পেরে কষ্ট পাবে।
বন্ধ বান্ধব এক সাথে হলে,কখনোই ওদের ঋণে থাকবে না।তারা হয়তো নিজেদের কি প্রমাণ করার জন্য,বা মান সম্মানের খাতিরে তোমার জন্য কিছু খরচ করবে।
কিন্তু অবশ্যই সেটা মন থেকে না।সেটা হিসেবে রাখবে।কখনও কোনোভাবে সেই ঋণ শুধরে দিবে। অবশ্য সেটা যেনো তারা না জানে না বুজতে পারে।
তাহলে ওরা আবার তুমাকে হেয় ভাববে।
সেই থেকে আমার জন্য কেউ কোনো টাকা পয়সা খরচ করলে,অন্য কোনো উপায়ে শুধ করে দেই আমি।অবশ্য সেটা তারা জানে না।
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ফোন এ লোড দিয়ে দেওয়া।
ওরা ভাববে,ভুল বশত কেউ পাঠিয়েছে।
স্কুল লাইফ আমার এলাকার দুইটা বান্ধবী ছিল।খালি টইটই করে ঘুরত আর কাহিনী করে বেড়াত।ভাই বলতো,আমাদের বাসায় যেনো না আসে।আর তুমি একা স্কলে যাবে।ওদের সাথে না।আমিও কখনোই তাদের সাথে যেতাম না।অপেক্ষা তো দুর।
ভাই যা বলতো,কখনও, কেনো ? এই প্রশ্নটা করতাম না।
এখন বুজি ভাই কেনো বলতো!
সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস,অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।
এসএসসি এর আগে,এক বান্ধবীর বিয়ে হয়।ভাই বলল, ওর সাথে একটা কথাও হবে না।
বলিও নাই।কত মিশ তে চাইতো।
সেটার কারণ ও এখন বুজি।সেই সাথে এটাও বুজেছি,দুনিয়া একদিকে ভুট দিলো, আর আমার ভাই যেই দিকে দিবে,আমাকে যদি ভাই সেখানে দিতে বলে আমি সেখানেই দিবো।
ইন্টার এ উঠার পর
ভাই বলতো
কখনও প্রাইভেট এ যাচ্ছ,যদি সঙ্গী না পাও।একা একা যেতে ইচ্ছে না করে,তাহলে এইটা মাথায় রেখো, স্কুলের কোনো ফ্রেন্ড এখন তুমার পাশে নেই।
এই সব পরিচিত রাও একদিন থাকবে না।তাই নিজের পথ নিজেই চল।
সম্মান প্রথম বর্ষ।একদিন ভাইয়ের সাথে কথা বলতে কান্না করে দিলাম।ম্যাথ অনেক পেইন লাগতো।ভাইকে বলতে পারতাম না।সেই পেরাতে কান্না আর কি..
কিন্তু ভাই ভাবলো,,,ফ্রেন্ড নেই।একা একা ,,,,,তাই হয়তো আমার মন খারাপ।
তারপর সেদিন ভাই বলল,
যদি কলেজ যাও একা।তাহলে অটোতে উঠে পরো।
পাঁচ টাকা যাবে ঠিকই।কিন্তু তুমার সময় বাঁচবে।তুমি যে দশ মিনিট একা হাঁটতে, সেটার বিরক্তি থেকে বাঁচবে।পরিশেষে কলেজে দ্রুত পৌঁছে যাবে।
তার একটা হিসেব আমার এখনো মনে আছে,,,,
যে জামাটা ছিঁড়ে যাওয়ার পথে।তাকে সমান গুরুত্ব দিয়েই পরো।কারণ,ওই জামার বদলে যাকে আনবে,সেটা আনতে তুমার হাজার বারো শত টাকা লাগবে।তার মানে তুমার পুরনো জামার মূল্য হাজার বারো শত টাকা।
আমার অসুস্থতায় একদিন আমি কথাই বলতে পারতেছিলাম না।সেদিন ভাই আমাকে বলল,
বোন আমার কি করবো।কম তো চেষ্টা করতেছি না।
বাকিটা আল্লাহ ভরসা। চেষ্টা থামাস না।
ধর কালকে তুই মারা যাবি,আজকে অব্দি তোকে বই নিয়েই ভাবতে হবে। মারা গেলে ভাববো,আমার বোন টাই নেই।কিন্তু বাঁচবি,অনেক অসহায়ত্ব নিয়ে।সেটা মানতে পারবো না।আমরা সবাই আছি তর সাথে।
মানুষের জীবনের ফাইটের পিছনের ইতিহাস কেউ কারোর টা জানে না।অথচ মানুষ কত যত্ন করে অন্যকে কষ্ট নেই।উল্টো দিকের মানুষের দিকে তাকানোর প্রয়োজন টাও মনে করে না।
আমি জীবনে অনেক মানুষকে দেখেছি,,,যারা খাবার বসে পাশে থাকা মানুষের দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করে নাই।অথচ তারা রান্নার গন্ধ শুকেও খাবার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।এবং নিজেরটা বুজে নেই। একজনে একপাশে ডিম ভাজি করতেছে আরেক পাশেই কারোর পায়েশ পুরে যাচ্ছে।সেটা দেখার মত চোখ,আর মনমানসিকতা কিছুই আল্লাহ দেইনাই হয়তো তাদের।আজকের একটা ঘটনা
রান্না ঘরে গিয়ে দেখি চুলায় একটা ডিম সিদ্ধ করতে দিয়েছে কেউ ।পাশেই চুলার পাশে আরেকটা দিন রেখে দেয়া। চুলা ব্যাস্ত বলে সে সিদ্ধ দিতে পারছে না।
অথচ সেই পাতিলেই ডিমটি সিদ্ধ দেওয়া যেত।আমাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানে পাঠানো হলেও। কিছু কিছু মানুষের মন মানসিকতা বিকলাঙ্গ।এদের দিয়ে না হবে সংসার।না হবে সুস্থ কোনো সম্পর্ক। এরা একেকটা হিংসার নবায়নযোগ্য খনি।যা কখনোই শেষ হওয়ার নয়।
এই সব কারণেই এদের মত মানুষকে কখনোই নিজের লাইফ এর আশেপাশে আনতে নেই। নিজে ভালো থাকা হবে,সেই সাথে সুস্থতার আবির্ভাব ঘটবে।
Comments
Post a Comment