বাংলাদেশের বাড়িওয়ালা

যে মেছে আমি থাকি।সেই মেসে উঠার সময় ১০০০ টাকা এডভ্যান্স দিতে হয়।তার কারণ হলো ফ্যান ও বেড, চুলা আর ফ্রীজ এর সার্ভিস দেওয়া হয় বাড়ীওয়ালার পক্ষ থেকে। ভালো কথা দিলাম।কিন্তু ফ্যান যদি নষ্ট হয়,সেটা ঠিক করতে যতো খরচ হয়,সেটা  ওই রুমে থাকা স্টুডেন্ট বহন করে। এমনকি ফ্যান ব্যবহার অযোগ্য হলে,নতুন ফ্যান স্টুডেন্ট রা কিনবে।বিছানা ভাঙলে বা সমস্যা হলে একই সমাধান। বাসার ইলেক্ট্রিসিটি লাইন সমস্যা হলে,সেটাও স্টুডেন্ট বহন করতে হয়। গ্যাসের চুলা নষ্ট হলে স্টুডেন্ট সমাধান করবে।ফ্রীজ পরিষ্কার বাবদ ফি আমাদের মধ্যেই। এমন কি উনার মেসের ওয়াশরুমের লাইন যদি সমস্যা হয়,,,মিস্ত্রি খরচ মানে মেথর এর খরচ ও এই পুলাপাইন থেকে নেওয়া হয়।
আসি এবার বাসা ভাড়ার মধ্যে।
ময়লার বিল,কারেন্ট,গেস ও রুম ভাড়া সহ ১২৭০ টাকা।
ময়লার বিল ২০ টাকা।কারেন্ট বিল ৫০ টাকা।
বাসা ভাড়া ১২০০ টাকা।
কয়েকদিন আগের ঘটনা।
আমাদের ফ্লোরের করিডোরে একটা লাইট থাকে।যদি লাইট না থাকে,তাহলে দিনেই,,,,অন্ধকার লাগে। ৯০% টার্ন নিতে হয় উত্তর থেকে পশ্চিম দিকে যেতে। মাঝে মাঝে একজন আরেক জনের সাথে ধাক্কাও লাগে।এক পাশে মিল এর বাজার রাখা হয় ।খালা ওখান থেকে সবজি নেই।লাইট লাগে।রাতে অবশ্যই লাইট লাগে।সবার রুমের দরোজা অফ থাকলে,,,,দিন না রাত বুঝার ক্ষমতা নেই।
আংকেল আসলো লাইট টা খুলে নিয়ে চলে গেলো।এই একই কাজ ২০১৭ থেকেই আমি দেখে আসতেছি।কারণ আমি এই মেসে ২০১৭ থেকে থাকি।
কারণ একটাই,,,,এখানে বোয়া আছে রান্নার।আর কোনো কারণ নেই।জামালপুরে অন্য কোনো মহিলা মেসে বুয়া নেই।এটাই সমস্যা আমার জন্য।
লাইট খুলে নিয়ে গেলো কারণ আমরা অপ্রয়োজনে লাইট জ্বালাইয়া রাখি। চার তলা ,নিচতলা,দুটোলা লাইট লাগে না করিডোরে আমাদের কেনো লাইট লাগবে?
এর উত্তরে একটা কথাই বলতে চাই,,,,কারোর রুমেও যদি কেউ লাইট লাগানোর প্রয়োজন না মনে করে তাতে আমাদের কি! আমাদের লাগবে।আমরা জ্বালাবো।
এই কথা গুলো যদি বলতে যায়,,, চরম বেয়াদব আমরা।

এই মেস ভূতুড়ে বাড়ির মত। গেটে একটা লাইট থাকে না।সিঁড়িতে কোনো লাইট দেই না।
গরম শুরু হয়ে গেছে এই ভদ্রলোকের কিপটামি আর সেসরামিও শুরু হয়ে গেছে। রান্না ঘরে রাত্রে কেউ লাইট জ্বালাবে না।এখন রুজার দিন,,,,রাত দুইটার পর থেকেই ভাত রান্না করে মেয়েরা।
উনার কথা হলো জ্বালানো যাবে না।রাত নয়টার আগে লাইট অফ রাখতে হবে।
যদি কেউ রাত্রে পড়াশুনা করে, লাইট জ্বালানো চুলকানিতে তার বেহায়া মার্কা কথা হলো,,,,
১২ টার পর পড়াশুনা করা যাবে না।
আমরা পড়াশুনা করে আসিনাই!
অথচ কতবার এই মেসে নিচতলায় চুরি হয়েছে।
ইনার তো বিদুৎ বিল বেঁচেছে। পুলাপাইন এর যা হারাই সেটা তার ব্যক্তিগত। বাড়ীওয়ালার কি তাকে।
মাঝে মাঝে কি করবে জানেন?
এই গরমে মানুষ যখন জামা শরীলে রাখতে চাই না।সেই সময় এই ভদ্রলোক লোকটা মেইনসুইচ দিয়ে আসবে বন্ধ করে।আমরা ভাবি হয়তো কারেন্ট গেছে,নয়তো টাকা নেই।পরে এইটা আবিষ্কার করি যে মেইন সুইচ অফ।আবার ধরেন টাকা নেই মিটার এ।যদি আজ রাত ১১ টাই ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায় ,তাহলে উনি আগামী কালকে সন্ধা না হওয়া অব্দি মিটার এ টাকা তুলবে না। পানির কথা কি বলব।বলে বালতি বালতি পানি খরচ করতে হবে?
মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে পানির লাইন বন্ধ করে দিয়ে আসবে।পুলাপাইন কি পরিমান সাফার করে।বলার অপেক্ষা রাখে না। 
যায় হউক,,,,,এই রোজা তে।
ইফতার শেষ করে মানুষ থাকে টেপ মেরে।এই ভদ্রলোক থাকে কে ফ্যান চালাচ্ছে,কে লাইট জ্বালাচ্ছে ।
আমরা আছি মহা বিপদে।আজকে রাত ১২ ।
সবাই ঘুম আমাদের ফ্লোরের মেইন গেট লাগানো।
তবুও এসে ফ্যান কেনো চালাচ্ছে বলে কত গুলো কথা বলে গেলো।কারোর গরম লাগলেই তো জ্বালায়।
শীত লাগলে কেই ফ্যানের নিচে থাকবে?
এদের কমন সেন্স আলাহ কি দেই নাই?
এই সব চুলকানির উত্তর আমার কাছে আছে,,,,
বাট বলতে পারি না সামনে।কারণ সিনিয়র মানুষ।
1)উনার সাথে আমাদের কোনও শত্রুতা নেই।
2) আমরা উনার খাই ও না পরিও না।আমাদের থেকে টাকা নিয়েই এই মেসে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
সব কিছুর জন্যে পই পই টাকা নিয়েও উনার এই সব ব্যবহার মেনে নেওয়ার মতো না।

3) এমনকি এই কথাও বলা হয়েছে যে আপনার যদি মনে হয়,আমাদের মাঝে কারেন্ট বিল দিয়ে দিন।দিবে না।
4) শীত কালে আমাদের থেকে কি বিল কম নেন উনি?
না নেন না। গরম শীত।সবসময় একই টাকা নেওয়া হয়।তাহলে কেনো আমাদের সাথে এই দুর্ব্যবহার?
5)আমাদের এখানে কেউ লেপটপ চালালে,,,তার থেকে প্রতিমাসে দুইশত টাকা এক্সট্রে কারেন্ট খরচ নেওয়া হয়।
6) আসলে সব খরচ ঠিক মত নেওয়ার পরো উনার এতো হিসাব।
মাঝে মাঝে কি করবে ভুর রাতে উনি করিডোরে এসে হাজির।অনেকে নামাজ পড়তে উঠে।লাইট জ্বালাবে না রুমের? না জ্বালানো যাবে না।এমন ভয় পেয়ে যায়। কারোর উড়না থাকে না।কারোর মাথায় কাপড় থাকে না।অনেকেই গেঞ্জি পরে।এই লোককে যদি বলা হয়,,,এখানে আসার এখতিয়ার আপনার নেই।
উনি নাকি বাবার বয়সী।তাই আসতে পারেন।
মনে মনে বলি,,,,আমার বাবার ঘিরে শীতেও লাইট,ফ্যান জ্বালালে বাবা বলার সাহস পাই না কেনো জ্বালায়?
ভদ্রলোক আসছে কোথা থেকে বাবা সাজতে!
একদিন কি হয়েছে, রাত তিনটা ।
এক বড় আপি,,,তাহাজ্জুত পড়তেছে।
মেইন গেটের ধাক্কায় আমি উঠে পড়েছি,,,
কারণ আপি নামাজে ।খুলে দিতে পারে নাই।
খুলছি,,,,বলতেছে রাত তিনটায় কেউ লাইট জ্বালায়?
আপু বলছে কেনো জালাইছি,,,সেটা আপনাকে বলবো কেনো? না উনি মানবেন না।
পরে বললাম,,,, কেউ রাতে উঠে নামাজ পড়তে পারবে না? বেড়ার আর কোনো কথা নেই।
আপনাদের কি মনে হয়?এগুলো মনুষত্ব ওয়ালা মানুষের কাজ?
 কখনোই না।এটাই বাংলাদেশ।বাংলাদেশের মানুষকে যদি চাঁদের দেশেও নিয়ে যাওয়া হয়,,,,ওরা চাঁদের আলোর ভাড়াও নিবে।আসলে বাঙালি কুলাঙ্গার ই থাকবে।এদের টাকা পয়সা পাহাড় হইলেও,,,এদের মন মানসিকতা রাস্তার ফকিরের থেকেও নিম্ন মানের। ফকিরের যেমন চাওয়ার অভ্যেস।এদের তেমন লক্ষণ।
আমার ঘুম তো গেছেই আজকে।একটু পড়াশুনা করলাম।কিন্তু মনের মধ্যে খচ খচ করতেছে।
লিখেই হালকা হবো।এখন সেহেরী খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। খেয়ে যদি ঘুম আসতে পারি।

ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে!
প্রবাদ টা এমনি এমনি মনে হয় আসে নাই।এদের মত কিছু ননসেন্স মানুষের জন্য।
আল্লাহ এনাদের বোঝার তৌফিক দান করুন।
আমিন














Comments

Popular Posts