সিদ্ধান্তই সব

একজন সিনিয়র আর একটা বান্ধবি 
এক সাথে গেলাম এক্সাম দিতে।আসার সময় আমি এক্সাম হল থেকে বারুলাম আর ওটো ধরলাম
সুজা সিএনজি স্টেশন এ।সিনিয়র কে জানালাম।আমি চললাম।বান্ধবীর সাথে কথা হলো না।দুপুর একটাই আমি বাসায় পৌছে গেলাম।
কত সুন্দর বিষয়টি তাই না?
অথচ যাত্রাটা ছিল করুন।পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল, নিজেকেই বিরক্ত লাগছিল।
স্টেশন পৌছালাম। কারোর ধারণাই ছিল না।যাত্রা এতটা জেম পূর্ণ হবে।২৯ তারিখের এক্সাম টা আমার মনে হয় আমাদের জামালপুরের মানুষের জন্যই ছিল।আহ মানুষ।
তিনজন আর তিনজন থাকলাম না।
যে যেভাবে পারি,উঠে পড়ার চেষ্টা।উঠলাম আমি একটা বগিতে।ভাগ্যিস চাদর নিয়েছিলাম।এই বিষয়টা  আমাকে অন্তত শান্তনা দেই। ধাক্কিয়ে হয়তো উঠতে পেরেছি,কিন্তু চারপাশে এত মানুষ,ছেলে মানুষ।আমি শেষমেষ চিক্কার করে কান্না শুরু করলাম।
একটা ছেলে, সিট এ বসা।সে দাড়ালো,কয়েকটা ছেলেকে সে তার কথা আর শক্তি দিয়ে সরিয়ে তার সিট এ বসতে দিলো। আমি বসে পড়লাম।
তারপর দেখলাম,,,ছেলেটাই আর নিজেকে দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছে না।আমি তো কোনমতে  চিপকে আছি।উনাকে বললাম,ভাই আপনি বসেন এখানে।ওখানে ওই 
সিট এ আরও একটা ছেলে বসে আছে তখনও ।
আমাকে অবশ্যই যেকোনো একপাশে বসতে হবে।আমি তাই করলাম,,,,উনাকে আমাকে উপকার করার বদলে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে,তাও আবার এই অবস্থায়। বিষয়টা কেমন না।
মানুষ কে মনে হয়,এইভাবে শক্ত করে একটা আরেকটার সাথে বাধাও যায় না।এইভাবে লেগে আছে এক জন আরেকজনের সাথে। ছেলেটা বসলো বাধ্য হয়েই।আমি তখন শব্দহীন অনর্গল কান্না করতেছি।অনেকক্ষণ কান্না করার পর,ছেলেটি বলল,আপি কান্না করবেন না।
এই পরিস্থিতি হয়ে গেছে।আমাদের কারোর হাত নেই।
তারপর কান্না থামালাম।আমার ঠিক সামনেই একটা ছেলে,আমার মাথার উপর দিয়ে হাত দিয়ে সিট এর একটা অংশ ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
ওইটা আর লিখলাম না।
আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক,,,,

একটু পর আপু কল দিয়েছে,উঠতে পেরেছি কিনা।জানতে চেয়েছে।বললাম,
উঠেছি আপু।আমার আবার কান্না পাচ্ছে।আপু বলল,আমরা জানতাম ই না এমন ভিড় হবে।
নয়ত সিএনজি তে যাইতাম।
আমরাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।সাবধানে যাও।
মিথ্যে বলবো না,,
পাশের ছেলেটা হয়তো মানুষ।
সে আমাকে যথেষ্ট সেভ দিয়েছে।আমি যখন নেমে যাবো।উনি আমাকে বললেন,সবাই নামুক।তারপর আপনি নামেন।
এখানে গাড়ি অনেকক্ষণ দাঁড়াবো।আমি তখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম আমি কোথায় যাবেন।সে বলল, সিলেট যাব।সিভিল ডিফেন্স এ জব করে।
আমি তো নেমেই গেলাম।যেখানে ওটো খুঁজলাম,,,,সেখানে গাড়ি পাচ্ছি না।একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো।উনিও বাকৃবিতে যাবে।উনাকে বললাম,ভাই আমি চিনি না।আমরা এক সাথে যেতে পারি?
বলেলন ঠিক আছে আপু।।গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না।অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে।তারপর দেখলাম,একটা রিকশা নিয়ে আসছেন উনি। সেই ট্রেইন এর ছেলেটা।
।আমি কেমন বুদাই,পিছনে তাকাই নাই।অথচ উনি আমার সাথেই ছিলেন।সব কথাই শুনেছে।আমরা সেই গাড়িতে উঠে চলে আসলাম।
উনাকে বিদায় সূচক কথাও বলতে পারি নাই।
জানি না কেনো তিনি গিয়েছিলেন,হয়তো বা plm না হয় আমার।তাই গিয়েছেন।

আমার এই যাত্রা অবশ্যই আমি চাইলে সহজ করতে পারতাম।আমার জন্য একজন স্টেশন এ আসতে চেয়েছিল।আমি না করেছি।আমার জন্য ভার্সিটিতেও কেউ একজন ছিল।আমি চাই নাই হেল্প নিতে।
অথচ আমি মাঝ পথে একটা অজানা মানুষকে ভরসা করে পথ চললাম। 
ভার্সিটিতে গিয়েই পেরা শেষ না। মেইন গেট তো পেলাম।এবার পালা রুম নম্বর আর ফ্যাকাল্টি। খুজতে খুজতে শেষমেষ শুধু কান্না করতেই পারছি না। লোকে কি বলবে,এই ভেবে। হঠাৎ দেখা সালমান সবেদ ভাই।আমাদের ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র।আমার পরিচয় দিলেই ভাইয়া মুচকি হেসে বলল,তুমি ও আসছো।পরে উনি ইন্সট্রাকশন দিলেন।গেলাম....সেই মত।
ফ্যাকাল্টি পেলেও রুম পাচ্ছি না।ওখানে গিয়ে পরীক্ষা দিবো না।এটাই ভেবে বসলাম।কতশত মানুষকে যে জিগাইলাম,,,সবাই বলে আমরাও খুজছি।কেউ চিনে না।
তারপর চুপ মেরে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম।
একটা ছেলে আসলো।
জিজ্ঞেস করলাম।সে বলল,আমি এই ডিপার্টমেন্টের।
আপু দুতলায় যান।ওখানেই পাবেন এই রূম।
গেলাম,,,পেলাম।
ফোন রেখে হল থেকে বেরিয়ে ওয়াশরুমে গেলাম।পানি খেলাম।ফ্রেশ হলাম।দুই ফুটা চোখের জল ও ফেললাম।
তারপর পরীক্ষা দিয়ে সুজা বেরিয়ে পড়লাম।
অথচ আমি সেই মানুষটার হেল্প নেই নাই।
কারণ,,, অনেক ছিল।


Comments

Popular Posts